ডেভিলস আইল্যান্ড (ঋজুদা) – বুদ্ধদেব গুহ
চার
তিতিরের ঘরে ঢুকে একজন ইজিচেয়ারে আর দু’জন খাটে উঠে বসলাম। একটা বালিশ টেনে নিয়ে ভটকাই বলল, আমার নাম ভটকাই, তোমার বালিশ চটকাই।
তিতির ভটকাই-এর বোকা বোকা রসিকতাতে কান না দিয়ে বলল, যাই বলো রুদ্র, ভাবতেই অবাক লাগছে যে ঋজুদার সঙ্গে আমরা কোথাও জাস্ট বেড়াতেই এসেছি। সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র নেই, টেনশন নেই, ছদ্মবেশ ধারণ নেই, শুধু খাওয়া-দাওয়া বেড়িয়ে বেড়ানো আর গল্প করা।
ভটকাই বলল, ওরকম বোলো না। Keep your fingers crossed.
আমি বললাম, বাবাঃ হলটা কী? এ যে দেখি সাহেব হয়ে গেছে। যখন তখন ইংরেজি ফুটোচ্ছে।
তিতির বলল, কিন্তু ও কথা কেন ভটকাই? হোয়াই শুড উই কিপ আওয়ার ফিঙ্গার্স ক্রসড?
কখন যে কোন নতুন মূর্তিমান এসে হাজির হয়ে ঋজুদার সাহায্য চেয়ে বসবে আর আমাদের বেড়াতে আসার বারোটা বাজবে তা আগে থেকে কে বলতে পারে! আমার তো মনে হয় যে ‘দ্য ডেভিলস আইল্যান্ডই যথেষ্ট কমপ্লিকেটেড ব্যাপার।
তা যা বলেছিস। হাজারিবাগের মুলিমালোয়তে বেড়াতে গিয়ে যেমন সেবারে ঋজুদার আর আমার অ্যালবিনো বাঘ আর জোড়া খুনের রহস্যভেদ করতে হল।
আমি বললাম।
কেন? পুরানাকোটে গিয়েই বা কী হল?? সাতকোশিয়া গণ্ড অভয়ারণ্য দেখতে গিয়ে কী সাংঘাতিক মানুষখেকো বাঘের সঙ্গেই না টক্কর দিতে হল তোমার আর ঋজুকাকার।
এবার তিতির বলল।
ভটকাই বলল, যাই বলিস রুদ্র, তোর লাকটাই আলাদা।
কেন?
আফ্রিকার সেরেঙ্গেটিতেই হোক, কি ওড়িশার পুরানাকোটে, আহত ঋজুদাকে তুইই তো বারবার বাঁচিয়ে হিরো হলি। আর আমি জিবরাই রয়ে গেলাম।
বাঁচাতে না পারিস তুই আমাকে আর ঋজুদাকে মারার বন্দোবস্ত প্রায় পাকা করে ফেলেছিলি নিনিকুমারীর বাঘ মারতে গিয়ে।
তারপর বললাম, তা নয়, মানে আমি হিরো নই। মধ্যপ্রদেশের ঝিঙ্গাঝিরিয়াতে কী হল? ঋজুদা না বাঁচালে ঝিঙ্গাঝিরিয়ার বাঘ তো কম্মোফতে করে দিয়েছিল আমার।
সে কথা ঠিক। তবে it was very mean of you রুদ্র।
কোনটা? কীসের কথা বলছ?
আমি জিজ্ঞেস করলাম তিতিরকে।
ঝিঙ্গাঝিরিয়াতে ভটকাইকে তো বটেই আমাকেও না নিয়ে যাওয়াটা।
বাঃ রে। সব জেনেশুনেও যদি আমাকে দোষী করো তো আমার বলার কিছুই নেই। আমি তো তল্পিবাহক। সব কম্মোই তো কর্তারই ইচ্ছায়।
ভটকাই, for a change, অত্যন্ত উদার এবং ন্যায়পরায়ণ হয়ে গিয়ে বলল, এ কথা তো আমাদের ভুলে গেলে চলবে না তিতির যে, রুদ্র রায়ই ঋজুদার আদি ও অকৃত্রিম সাগরেদ, অরিজিনাল। আমরা তো এসেছি অনেকই পরে।
তিতির বলল, তা ছাড়া, এও ভুললে চলবে না, রুদ্রই সব ঋজুদা কাহিনীগুলি লিখে ফেলে ঋজুদাকে সমস্ত বাঙালি পাঠক পাঠিকার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আজ যে বাঙালির প্রতিটি দ্বিতীয় পরিবারের ছেলেদের মধ্যে একজন করে ঋজু পাওয়া যাচ্ছে এর পিছনে রুদ্রর লেখা ঋজুদা কাহিনীগুলির অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। উই মাস্ট গিভ দ্য ডেভিল ইটস ডিউ।
ওসব কথা তো সকলেরই জানা। এসব কথা থামিয়ে বললো তো এখন ভটকাইবাবু আমরা যখন ঋজুদার ঘরে বসে ম্যাপ দেখছিলাম তখন যে লোকটা বন্ধ দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনছিল সে লোক্টা কে?
সেটাই রহস্য। ঋজুদাও তো ভাঙল না। চাং ওয়ান না কার নাম বলল, সে নয় তো?
কী করে বলব বল? তোরা কি আর ঋজুদাকে জানিস না? যখন তার ইচ্ছে হবে তখনই এই রহস্য ফাঁস করবে। তার আগে জানার কোনও উপায়ই নেই।
এই ‘দ্য ডেভিলস আইল্যান্ড’-এ আমরা যাচ্ছি কেন?
ভটকাই বলল।
আমার মনে হয়, গাছ-গাছালি পাখ-পাখালি চেনবার জন্যে। মাছও চেনা হতে পারে। কোরালও থাকতে পারে সেখানে।
তিতির বলল।
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে এটা কি আমাদের ফ্যামিলিয়ারাইজেশান ট্যুর?
সেইরকমই আর কী! আন্দামানে তো প্রতিবছরই কত বাঙালি বেড়াতে আসছে, হানিমুনে আসছে, তাদের দেখা আর ঋজুদার সঙ্গে যারা আসছে তাদের দ্যাখা তো কখনওই এক হতে পারে না। দ্যাখার যে অনেক রকম থাকে।
তা তো ঠিকই।
আমাদের কথার মধ্যে ঢুকে পড়ে ভটকাই বলল, দ্যাখ দ্যাখ রুদ্র, ওই নৌকোটাকে দ্যাখ। এখানে এসে অবধি দেখছি চারদিক খোলা অথচ ছাদওয়ালা মোটর বোটটা বালি বোঝাই করে আসছে, পোর্ট ব্লেয়ারের দিক থেকে, সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে। সামনের ডান দিকের দ্বীপটার আড়ালে চলে যাওয়াতে সমুদ্রের ঠিক কোথায় যে যাচ্ছে তা দেখা যাচ্ছে না কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বালিগুলো কোথাও ফেলে দিয়ে আবারও ফিরে যাচ্ছে পোর্ট ব্লেয়ারের দিকে। এমন করে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত যাওয়া-আসা করছে। কালও দেখেছি। কেন? বলতে পারিস?
তিতির বলল, আমিও লক্ষ করেছি।
তারপর বলল, আমার মনে হয়, পোর্ট ব্লেয়ারে ড্রেজিং হচ্ছে, পাচ্ছে বন্দরের নাব্যতা কমে যায় তাই ড্রেজার বালি খুঁড়ছে এবং নৌকোটা সেই বালি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে দূরের গভীর সমুদ্রে ফেলবে বলে। নয়তো…
ড্রেজার বালি তুললে এইটুকু নৌকোতে তা মোটেই আটত না। তা ছাড়া ড্রেজার বালি তুলে তার নিজের পেটেই রাখে তখনকার মতো। আমার মনে হয় ওই বালি রসস আইল্যান্ড বা ভাইপার আইল্যান্ড বা অন্য কোনও দ্বীপে বাড়ি ঘর বানাবার বা অন্য কনস্ট্রাকশানের কাজে লাগবে বলে নিয়ে যাচ্ছে নৌকোটা।
তিতির বলল।
আমি বললাম, চুলোয় যাক গে বালি-বোঝাই নৌকো। তার চেয়ে তিতির আমাদের মেগাপড পাখির কথা বলল। তুমি তো শুনলাম আন্দামান সম্বন্ধে প্রচুর পড়াশোনা করে এসেছ।
ছাড়ো তো৷ ঋজুকাকার কথা! সবতাতেই বাড়িয়ে বলে।
মোটেই নয়, ঋজুদা যখন বলেছে তখন ঠিকই বলেছে। আমাদের তিনজনের মধ্যে তুমিই পণ্ডিত, কত পড়াশুনো তোমার, কতগুলো ভাষা জানো তুমি। আমি আর রুদ্র হচ্ছি ঋজুদা অ্যান্ড কোম্পানির মাসমেন, দমাদ্দম গুলি চালিয়ে শত্রু সাফ করতে পারি আর তুমি হচ্ছ গিয়ে আমাদের থিংকট্যাঙ্ক।
আমাদের মস্তিষ্ক।
ভটকাই ফুট কাটল।
এরকম করে আমার পেছনে লাগলে আমি চললাম।
কোথায়?
ওই সামনের ছোট্ট জেটিতে গিয়ে বসে সমুদ্র দেখি গিয়ে।
সত্যি! কী সুন্দর না? জেটিটা। আগে নিশ্চয়ই ওই জেটি ব্যবহৃত হত সমুদ্র থেকে এই হোটেলে যাওয়া-আসার জন্যেই।
এখনও হতে পারে। কোনও কারণে হয়তো এখন তালা মারা আছে।
তালা মারা আছে অন্য কারণে।
ভটকাই বলল।
কী কারণে?
ব্যর্থ প্রেমিক আত্মহত্যা করতে পারে। ওইখান থেকে এক ঝাঁপ মারলেই তো কালাপানিতে প্রাণ যাবে। জল ওখানে কত যে গভীর বুঝতেই পারছ-হর্ষবর্ধনকে যখন কোল দিচ্ছে ওই খাঁড়ি। তা ছাড়া স্রোতও তো সেরকম। ঐরাবত ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। তা ছাড়া লক্ষ করেছ যে কোনও তটভূমি নেই। দু’পাশের পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে বইছে সমুদ্র। সমুদ্র আছে অথচ বালুবেলা নেই, ভাবা যায় না।
ভটকাই বলল।
আত্মহত্যার কথাটা খুব ভুল বলেনি ভটকাই। এত বড় হোটেলে দু’-একজন ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকা তো থাকতেই পারে।
তা ছাড়া, হানিমুনিং কাপলসও আসে অনেক।
তাদের মধ্যেও নতুন বিয়ে হওয়া সেন্টিমেন্টের বড়িও কেউ কেউ থাকতে পারে।
আনকোরা নতুন স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করেও আত্মহত্যা করতে পারে।
এই বে-আইল্যান্ড হোটেলই কী সবচেয়ে বড়?
পোর্ট ব্লেয়ারে?
ভটকাই জিজ্ঞেস করল আমাকে।
আমি হেসে বললাম, তুই কি আমাকে আন্দামানের উপরে অথরিটি ঠাউরিয়েছিস না কি?
তিতির বলল, বড় তো বটেই, বনেদিও। আই.টি.সি’র এই হোটেল হওয়ার পরে অবশ্য অনেক ভাল ভাল হোটেল হয়েছে, সরকার এবং বেসরকারি। পিয়ারলেস কোম্পানি বড় হোটেল করেছেন একটা, সিনক্লেয়ারসও করেছেন শুনেছি। সরকারি নতুন হোটেলটিও চমৎকার–সমুদ্রর সৌন্দর্য যেখান থেকে আরও ভাল দেখা যায়। বে-আইল্যান্ড তো পোর্ট ব্লেয়ারের এক দিক থেকে আসা সব জলযানেরই ‘পোর্ট সাইডে’ পড়ে। এই খাঁড়ি দিয়ে কলকাতা, মায়ানমার, ফিলিপিন্স ইত্যাদি জায়গা থেকে যে সব জাহাজ আসে সেই সব জাহাজ যায়, তা এই হোটেলে বসেই দেখা যায়। উলটোদিকের পাহাড়ের শেষ প্রান্তের লাইটহাউসটাও এখানে যাঁরা থাকেন তাঁদের উপরি পাওনা।
ভটকাই বলল, ‘পোর্ট সাইড’ মানে?
ওঃ। তিতির বলল, কোনও জাহাজ এমনকী এয়ারক্র্যাফটেরও বাঁদিককে বলে ‘পোর্ট সাইড’ আর ডানদিককে বলে–স্টারবোর্ড সাইড। যেহেতু প্রতিটি জাহাজ বা নৌকোর বাঁদিকটাই ডাঙার দিকে থাকে এবং বন্দর তো ডাঙাতেই থাকে, তাই বাঁদিকটার নাম পোর্ট সাইড। আর উড়োজাহাজও যেহেতু আকাশের জাহাজ তাদের বেলাও সেই একই নাম।
যেদিকে এয়ারপোর্ট সেটি এরোপ্লেনের পোর্ট সাইড। ওয়াটার craft-ই হোক কি এয়ার craft সকলেরই বাঁদিক ডানদিককে পোর্ট সাইড আর স্টারবোর্ড সাইড বলে।
ভটকাই বলল, মিস্টার রুদ্র রায়, কিছুদিন হল তোমার লেখার সমালোচকেরা বলতে আরম্ভ করেছেন যে তোমার লেখা নাকি বড় বেশি ইনফরমেটিভ। তাঁরা হয়তো ভুল বলছেন না।
সেটা কি দোষের?
আমি বললাম।
তাঁরা তো দোষেরই বলেন। জানি না, হয়তো অন্য কোনও দোষ খুঁজে পান না বলেই বলেন।
তিতির বলল, শিক্ষিত মানুষদের লেখা তো ইনফরমেটিভই হওয়া উচিত। বিশেষ করে রুদ্র যখন মুখ্যত কিশোরদের জন্যেই লেখে।
বাঃ তা কেন? রুদ্রর ঋজুদা কাহিনীগুলো তো আমার দাদু থেকে পুঁচকে পটকাই সকলেই সমান আগ্রহ নিয়ে পড়ে দেখি।
তোমার ছোট ভাই স্নিগ্ধর ডাক নাম কি পটকাই না কি?
তা কেন হবে? ওর নাম স্নিগ্ধই। ডাক নাম স্নি। কিন্তু আমি ডাকি পটকাই বলে। তোরা আমাকে যখন তখন দুহাতে চটকাবি, বলবি, ‘ওরে ওরে ভটকাই, আয় তোরে চটকাই’ আর আমি আমার একমাত্র ছোট ভাইকে একটু পটকাব না।’ বাড়িতে আমি একাই ওকে পটকাই বলে ডাকি, মা এবং অন্য সকলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও।
তিতির বলল, কারা রুদ্রর লেখাকে ইনফরমেটিভ বলে দোষারোপ করেন জানি না কিন্তু বাংলার শিশু ও কিশোর পাঠ্য সাহিত্যে ইনফরমেশানের অত্যন্তই অভাব ছিল। কিছু লেখকদের আই-কিউ, সাধারণ জ্ঞানের লেভেল, এতই নিচু যে, তাঁদের কাছ থেকে ইনফরমেটিভ লেখা আশাই করা যায় না। তার ফলে শিশু ও কিশোররা শুধু মনগড়া, আজগুবি এবং কষ্টকল্পিতই নয়, পুরোপুরি point less সাহিত্য পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আজকাল বাংলা বই পড়ার প্রবণতা যে তাদের মধ্যে ক্রমশই কমে যাচ্ছে সে জন্যে লেখকদের একটি বড় অংশও কম দায়ি নয়।
এটা অবশ্য তুমি ঠিকই বলেছ। বাংলা গোয়েন্দা কাহিনীতে গোয়েন্দা পিস্তল নিয়ে খুনির ডেরাতে গিয়ে পৌঁছে কোমরের ‘রিভলবার’ দিয়ে দমাদ্দম গুলি ছোড়েন। এ একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র। পিস্তল আর রিভলবারের মধ্যে যে তফাত আছে এবং তফাতটা কী তা কিশোর কিশোরীদের আরও অন্য অনেক কিছুরই মতো জানা উচিত। সব লেখকই তো আর বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা খগেন মিত্র নন। চাঁদের পাহাড়’, মরণের ডংকা বাজে’ বা ‘ভোম্বল সর্দার’ বা তারও আগে গিয়ে বলতে পারি ছবি-লেখা অবনঠাকুরের ‘রাজকাহিনী’র মতো বই নেহাত সাহিত্যগুণেই উতরে যেতে পারে কিন্তু আজকালকার লেখকদের সব জোলো অন্তঃসারশূন্য পয়েন্টলেস লেখা কোন উপকারটা করে? সে সব লেখা কি তারা মনে করেও রাখে? পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তো ভুলে যায়। ভুলে যায় শুধু তাই নয়, মনে হয়, ভুলে যেতে পারলে বেঁচে যায়।
তিতির বলল।
তোমরা এ কথা বলছ বটে তিতির কিন্তু সাহিত্য তো উপকারের উপাদান নয়। উপকার হওয়ার জন্যে কেউ বই পড়ে না। উপকার করার জন্যেও কেউ বই লেখেন না।
আমি বললাম।
তিতির বলল, ভুল কথা। কিছু জোর করে শেখানোটা সাহিত্য আদৌ নয়, সেটা আমি মানি কিন্তু যে সাহিত্যে কোনও আদর্শ নেই, কিছুমাত্র শেখবার নেই, কিশোর-কিশোরীদের চরিত্র গঠনেরও কোনও ব্যাপারই নেই, সেই সাহিত্য আমাদের মতো কিশোর-কিশোরীরা না পড়লেও কিছুমাত্র যায় আসে না। শিক্ষণীয় যা, তা লেখার মধ্যে এমনভাবে মিশিয়ে দেওয়া উচিত যাতে পড়ুয়ারা বুঝতেই না পারে যে, তারা কিছু শিখছে। তবেই না তারা সে বই পড়বে। নইলে তো পাঠ্যপুস্তকেরই মতো তা পড়তে গাঁই ছুঁই করবে। তাই না রুদ্র?
সেটা অবশ্য ঠিক।
আমি বললাম।
তারপরে বললাম, কে কী বলল তাতে আমার বয়েই গেল। ঋজুদা কাহিনীগুলি আমি লিখি আমারই আনন্দের জন্যে। এই সব লেখাতে আমাদের দলের এই কজনের, ডাইরির মতো, দলিলের মতো, গ্রুপ ফোটোর মতো আমাদের এক এক জায়গার অভিযান, শিকার, রহস্য উদঘাটনের স্মৃতি অথবা এবারের মতোই নিছক বেড়ানোরই স্মৃতি নথিবদ্ধ হয়ে থেকে যায়। অনেকদিন পরে যখন আমার লেখা বইয়ের পাতা ওলটাই কত পুরনো কথা, পুরনো স্মৃতি চোখের সামনে জলজ্যান্ত ভেসে ওঠে–ওইটাই তো আমার এবং আমাদের মস্ত লাভ। অন্যে পড়ল কি পড়ল না তাতে বয়েই গেল!
