অ্যালবিনো (ঋজুদা) – বুদ্ধদেব গুহ
এক
ফোনটা বাজছিল।
একবারের বেশীবার বাজা মানেই, ঋজুদা বাড়ি নেই। বাড়ি থাকলে কুরর-র-র করার আগেই লম্বা হাতে খপ করে রিসিভার তুলেই বলত, ইয়েস্।
পাঁচ-ছ’বার বাজার পরে গদাধর ধরলো। বলল, কে রুদ্রবাবু নাকি? নমস্কার এঁজ্ঞে।
-ঋজুদা কোথায়?
ডাক্তারের কাছে।
–ফিরবে কখন?
–তা সময় হইয়েচে। ডাক্তারবাবু চেইঞ্জে যিতে বইলচে।
–তাই নাকি? ঋজুদাকে বোলো। তোমাদের ওখানে যাচ্ছি। গিয়েই কথা হবে।
এঁজ্ঞে।
–আরে গদাধরদা, এই যে; ছেড় না। কি রেঁধেছ?
রান্না? সে এখন কিসের? আত্তির নটা বাইজলে তবে-না বাবুর অরডার। কোন্দিন, কখন কি খাবার ইচ্ছা কইরবেন। বুইঝলে না, খাদ্য-খাদকের ব্যাপার!
আজও জোর বৃষ্টি হয়ে গেল। তুমি ভালো করে ভুনি খিচুড়িই চাপাও দেখি, চীনা বাদাম, মটরশুটি, কিসমিস্ এসব দিয়ে।
বুইঝলাম। সইঙ্গে আর কি কইরব?
–বেগুনী, ফুলুরি, পেঁয়াজী, মানে তোমার যত খাদ্য-খাদক আছে, সব।
ফাস্টো কেলাশ। তবে আমি যোগাড়-যন্তর কইরগে যাই। তুমি এইসব খেইও–কিন্তু বাবু বইকলে কিন্তুক সিটাও তুমারই খাইদ্য হবেক। সি কতা মইনে রেকো।
–মনে রাখব। করো ত তুমি খিচুড়ির বন্দোবস্ত!
