(৬)
আজ ৬ মার্চ, সোমবার। আজ কাকে কী করতে হবে, সেটা গতকাল সন্ধ্যায় পপলার অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে বেরোবার পরে-পরেই ভাদুড়িমশাই বলে দিয়েছিলেন। সদানন্দবাবু এককালে যেহেতু জেঙ্কিস অ্যান্ড জেঙ্কিন্স কোম্পানিতে কাজ করতেন, তাই সেখানে তাঁকে একবার যেতে হবে। কেন? না সেখানে হয়তো তাঁর আমলের এমন কিছু-কিছু কর্মীর দেখা পাওয়া সম্ভব, যাঁরা আজও রিটায়ার করেননি, কিংবা রিটায়ার করার বয়স হয়ে গেলেও এক্সটেনশন পেয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সুতরাং…
সুতরাং সদানন্দবাবুকে তাঁর পুরোনো আপিসে আজ দুপুরে একবার ঢুঁ মারতে হবে! শুনে সদানন্দবাবু খুব খুশি হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু গোড়ায় একটু যে হকচকিয়ে যাননি, তাও নয়। বলেছিলেন, “অ্যাঁ, সেখেনে গিয়ে আমি কী করব?”
“বলছি। আপনি যখন রিটায়ার করেন, তখন আপনার সঙ্গে যাঁরা ওখানে কাজ করতেন, তাঁদের অনেকেই বয়সে আপনার চেয়ে বিস্তর জুনিয়র ছিলেন নিশ্চয়?”
“তা তো ছিলই।”
“তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখনও রিটায়ার করেননি। আপনি গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন।”
“দেখা করে কী করব?”
“পুরোনো কলিগদের সঙ্গে দেখা হলে লোকে যা করে, তা-ই করবেন। কে কেমন আছেন, কার ছেলে কী পড়ছে কিংবা চাকরিতে ঢুকেছে কি না, কিংবা ধরুন কার মেয়ের কেমন বিয়ে হল, সেসব জিজ্ঞেস করবেন, মামুলি আর-পাঁচটা কথা বলবেন, পুরোনো কলিগদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হয় না বলে যে খুব কষ্টে আছেন সেটা জানাবেন, আর হ্যাঁ, এইসব কথাবার্তার ফাঁকে-ফাঁকে যতটা পারেন আসল খোঁজখবর নেবেন।”
“আসল খোঁজখবর মানে?”
ভাদুড়িমশাই বলেছিলেন, “দুটো খবর আমার জানা-ই চাই। এক, জানকী ঘোষকে ওখানে কে কী চোখে দেখত…মানে আপিসে তার কোনও শত্রু ছিল কি না। দুই, মালিকের শালার নাক ফাটিয়ে রঘুবীর ঘোষ যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, একদিকে যেমন তাঁর ছেলে জানকী ঘোষ সেই আপিসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবেন না, অন্য দিকে তেমন রঘুবীর ঘোষের ছেলেকে কাজে ঢোকাতে সেই আপিসও বিশেষ উৎসাহী হবে না, এটাই স্বাভাবিক। অথচ আমরা কী দেখছি? না তিনি সেই আপিসেই ঢুকেছিলেন। ইন ফ্যাক্ট সেখানে তিনি বেশ উঁচু পোস্টেই কাজ করতেন। এই ব্যাপারে আপনাকে একটু খোঁজ নিতে হবে।”
“কী খোঁজ নেব?”
“এই মানে জানকী ঘোষ ওখানকার চাকরিতে ঢুকলেন কীভাবে? তিনি কি তাঁর বাবার পরিচয় গোপন করে ওখানে ঢুকেছিলেন? নাকি জেঙ্কিন্স অ্যান্ড জেঙ্কিসের ওপরওয়ালারা রঘুবীর ঘোষের সঙ্গে তাদের শত্রুতা সত্ত্বেও জানকীকে ডেকে এনে একটা ম্যানেজেরিয়াল পোস্টে তাঁকে বসিয়ে দিয়েছিল?”
সদানন্দবাবু একগাল হেসে বলেছিলেন, “এ তো খুবই সহজ কাজ, এর জন্যে আমাকে ফের আপিসে যেতে হবে কেন? না না, ডালহৌসি-পাড়ায় যাবার কোনও দরকারই আমার হচ্চে না।”
“কেন?”
“বাঃ, সুবিমল রয়েচে না?”
“কে সুবিমল?”
“আরে আমাদের নিতাই বকশির ছেলে সুবিমল। ও তো আমাদের পাড়ার লোক। ওই মানে আমাদের পীতাম্বর চৌধুরি লেনের পাশের হায়াত খান লেনে থাকে। আমার থেকে ষোলো বছরের ছোট। তা ওরও তো রিটায়ার করার সময় হয়ে এল।”
“আপনাদের আপিসেই কাজ করেন?”
“তবে আর বলচি কী। শুধু একই আপিসে নয়, যে ডিপার্টমেন্টে আমি কাজ করতুম, সেই শিপিং ডিপার্টমেন্টেই কাজ করে। তার উপরে আবার বড়সায়েবকে বলে-কয়ে আমিই ওকে চাকরিতে ঢুকিয়েছিলুম, আর কাজকম্মোর কথা যদি বলেন, তো সে-সবও আমিই ওকে হাতে ধরে শিকিয়েচি। ওর কাছে যদি যাই, তো ও-ই সব বলতে পারবে।”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “যাক, একটা কাজের ব্যবস্থা হল। বাকি রইল রেনবো ক্লাবে খবর নেওয়ার কাজ।”
জিজ্ঞেস করেছিলুম, “ওখানে কাকে পাঠাবেন?”
“ভাবছি, কৌশিককে ওখানে গিয়ে খোঁজ নিতে বলব।”
গাড়ি আমাদের বাড়ির সামনে পৌঁছে গিয়েছিল। আমি আর সদানন্দবাবু দরজা খুলে নেমে পড়লুম। ভাদুড়িমশাই বললেন, “কাল বিকেলে এই ধরুন ছ’টা নাগাদ আমার ওখানে চলে আসুন।” বলে আর দাঁড়ালেন না।
সেই অনুযায়ী আজ ৬ মার্চ সোমবার বিকেলে আমি আর সদানন্দবাবু অরুণ সান্যালের কাঁকুড়গাছির ফ্ল্যাটে এসে জুটেছি। ঠিক ছ’টায় যে আসতে পেরেছি, তা নয়, আপিসে একটু কাজের চাপ ছিল, তাই আসতে-আসতে সাড়ে ছ’টা বেজে যায়।
তাতে অবশ্য কোনও ক্ষতি হয়নি। কেননা, কৌশিক ফিরল সাতটা নাগাদ। তার আগেও আমাদের মধ্যে কিছু-কিছু কথা হচ্ছিল বটে, কিন্তু সে-সবই নেহাত মামুলি কথা, বুঝতে পারছিলুম যে, কৌশিক না আসা পর্যন্ত আসল কথাবার্তা শুরু হবে না।
হাত-মুখ ধুয়ে, পোশাক পালটে কৌশিক এসে ড্রয়িংরুমে ঢুকতে ঢুকতে বলল, “ওরেব্বাবা, এই সেই জানকী ঘোষ! এ তো ভাবাই যায়নি!”
কৌশিক আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, ভাদুড়িমশাই তাকে বাধা দিয়ে বললেন, “দাঁড়া, তোর কথা পরে শুনব, আগে সদানন্দবাবুর কথা শুনি।”
সদানন্দবাবু যে-রকম অমায়িক হেসে ‘কী জানতে চান জিজ্ঞেস করুন’ বললেন, তাতেই বোঝা গেল যে, সুবিমল বকশির কাছ থেকে তিনি বিস্তর খবর জোগাড় করে এনেছেন। ভাদুড়িমশাই বললেন, “যা শুনেছেন সবই বলুন, কিছু বাদ দেবেন না। বাদ যা দেবার, সে আমিই দেব অখন।”
অতঃপর সদানন্দবাবু যা বললেন, তার একটা অংশের মর্মার্থ এই যে, আপিসে, অন্তত সেখানকার যে বিভাগের তিনি ম্যানেজার ছিলেন, সেই শিপিং ডিপার্টমেন্টে জানকী ঘোষের কোনও শত্রু ছিল না। তার একটা কারণ এই যে, কাজ আর হাজিরার ব্যাপারে কড়াক্কড় করলেও, সক্কলের সঙ্গে তিনি খোলামেলাভাবে মিশতেন, প্রত্যেকের সুবিধে-অসুবিধের দিকে নজর রাখতেন, কারও কোনও সমস্যা ঘটলে তার প্রতিকার করার চেষ্টাও করতেন যথাসাধ্য। এ ছাড়াও তাঁর একটা মস্ত গুণ ছিল। পুজোর সময় আর পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে জানকী ঘোষ তাঁর ডিপার্টমেন্টের জুনিয়ার অফিসার থেকে দরোয়ান-বেয়ারা পর্যন্ত প্রত্যেকের বাড়িতে কিছু-না-কিছু উপহার পাঠিয়ে দিতেন। সদানন্দবাবুর ভাষায় ‘কী বলব মশাই, সুবিমল তো বলল, দফতরের ঝাড়ুদারটা পর্যন্ত বাদ পড়ত না।
সবটা শুনে ভাদুড়িমশাই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “কিন্তু এ তো গেল একটা অংশের কথা, আপিসে তাঁর কোনও শত্রু ছিল কি না। অন্য অংশের কথা কিছু শুনলেন? মানে জানকী ঘোষ ওই আপিসে কবে ঢুকেছিলেন, কীভাবে ঢুকেছিলেন, আর তাঁর বাবা যেখান থেকে হুলুস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে দিয়ে চলে এসেছিলেন, সেখানে তিনি ঢুকতে গিয়েছিলেনই বা কেন, সে-সব কথা কিছু জানা গেল?”
সদানন্দবাবু আবার অমায়িক হেসে বললেন, “সব জেনিচি, সব। অবিশ্যি যা শুনলুম, তার খানিকটা আমার আগেই আঁচ করা উচিত ছিল। তবে কিনা, আমার বুদ্ধি তো আর আপনার মতো পাকা নয়, তাই ব্যাপারটা তখন ঠিক বুজে উঠতে পারিনি।”
আমি বললুম, “কথাবার্তা বড্ডই ধোঁয়াটে হয়ে যাচ্ছে, সদানন্দবাবু। একটু খুলে বলুন।”
কৌশিক বলল, “কোন ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারেননি?”
“বলচি।” সদানন্দবাবু বললেন, “তবে কিনা একটু গোড়ার থেকে বলতে হবে। রঘুবীর ঘোষ ছিলেন আমাদের ডিপার্টমেন্টাল হেড। তিনি চাকরি ছাড়েন সিক্সটিতে। আমার বয়েস তখন বছর চল্লিশেক। তা মালিকের সঙ্গে ঝগড়া করে ডিপার্টমেন্টাল বস যখন চাকরি ছাড়ে, তখন তার সাবঅর্ডিনেটরা কী করে বলো তো কৌশিক?”
“কী করে?”
“মালিক পাছে চটে যায়, এই ভয়ে তারা বসের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ তো তখন রাখেই না, উল্টে আরও এমন একটা ভাব দেখাতে থাকে যে, লোকটাকে তারা বরাবরই খুব অপছন্দ করে এসেচে। অবিশ্যি সকলেই যে তা করে, তা নয়, তবে বেশির ভাগই করে। ঠিক কি না?”
“ঠিক।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনি কী করেছিলেন বলুন। রঘুবীর ঘোষের সঙ্গে তারপরে আর কোনও যোগাযোগ করেননি?”
“আরে ছ্যাছ্যা, তা-ই কখনও করতে পারি?” দাঁতে জিভ কেটে সদানন্দবাবু বললেন, “অ্যাম আই সো অ্যানগ্রেটফুল? না মশাই, আমি অকৃতজ্ঞ নই, কাওয়ার্ডও নই। তবে হ্যাঁ, সত্যি কথাই বলব, প্রথম দিকটায় একটু ঘাবড়ে ঠিকই গেসলুম। ভেবেছিলুম যে, আমি ছাপোষা মানুষ, খামোখা মালিককে চটিয়ে লাভ কী, রঘুবীর ঘোষের সঙ্গে কনেকশান কাট আপ করে দেওয়াই ভাল। কিন্তু পরে ভেবে দেখলুম যে, সে একেবারে অমানুষের মতন কাজ হয়। তাই ওই নাক ফাটানোর ব্যাপারটার দিন- পনেরো বাদে একদিন রঘুবীর ঘোষের বাড়ি যাই। আমাকে খুব ভালবাসতেন তো, দু-দুটো স্পেশাল ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। তাই ভেবেছিলুম ওঁকে আমার গ্র্যাটিচিউডের কথাটা জানিয়ে আসব। বলে আসব যে, স্যার, মালিকের সঙ্গে আপনার যা-ই ঘটুক না কেন, আই শ্যাল রিমেন এভার গ্রেটফুল টু ইউ।”
“বলে এসেছিলেন?”
“কী করে বলব? গিয়ে যা দেখলুম, তাতেই তো আমার আক্কেল গুড়ুম।”
“কী দেখলেন?”
“রাস্তা থেকেই দেখলুম যে, বাড়ির ভিতর থেকে ঘোষসাহেব আর আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যান বলরামদাস কাংকারিয়া হাত-ধরাধরি করে হাসতে-হাসতে বেরিয়ে আসচেন। তখনই বুঝলুম যে, এ-সব বড়লোকের কাণ্ড, তলে-তলে একটা কিছু ব্যাপার চলচে নিশ্চয়, তবে সেটা যে কী, তা বুঝতে পারলুম না। তারপরে আর ভিতরে ঢুকবার সাহস পাইনি। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেসলুম তো, তাই বাইরে থেকেই ফিরে আসি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু তারপরেও তো বছর কুড়ি ওখানে আপনি চাকরি করেছেন। তাও কিচ্ছু বুঝতে পারেননি?”
“কিচ্ছু না।” সদানন্দবাবু বললেন, “আসলে বুঝবার কোনও চেষ্টাও করিনি। ওই যা দেখেছিলুম, তাতেই আমার শিক্ষা হয়ে গেসল। ঠিকই করেছিলুম যে, আপিসে যাব, কাজ করব, কাজের শেষে বাড়ি ফিরব, বাস, এ-সব ওপরতলার ব্যাপারে আর নাক গলাব না।”
“সে তো খুবই ভাল কথা।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু সুবিমল বকশি যা বলেছেন, তাতে কি বোঝা গেল যে, ব্যাপারটা কী?”
“তা গেল বই কী।” সদানন্দবাবু বললেন, “দুটো ব্যাপার বোঝা গেল। রঘুবীর ঘোষ যার নাক ফাটিয়েচেন, সে হল গিয়ে বলরামদাসের প্রথম পক্ষের পালা। তা বউ মরে গেলে কি আর শালাকে কেউ খাতির করে মশাই? বলরামদাসও করল না। শালার উপরে সে নাকি আগে থেকেই খাপ্পা হয়ে ছিল। তাই ঘুসি খেয়ে শালা যখন তার কাছে গিয়ে কেঁদে পড়ল, তখন বলরামদাস বলল, ‘রাইটলি সার্ভড! যো হুয়া, আচ্ছাই হুয়া!’ তো সেই শালা নাকি এখন আসামের এক টি-গার্ডেনে খাতা লেখার কাজ করছে। সেও অবশ্য জেঙ্কিনস অ্যান্ড জেঙ্কিনসেরই বাগান।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা তো হল, কিন্তু জানকী ঘোষের ব্যাপারটা কী, সেটা কিছু শুনলেন?”
“সব শুনিচি। রঘুবীর ঘোষ যাতে তাঁর রেজিগনেশান-লেটার উইথড্র করে নেন, বলরামদাস নাকি তার জন্যে খুব ঝুলোঝুলি করেছিল। কিন্তু রঘুবীর কিছুতেই ফিরে যেতে রাজি হলেন না। তখন রফা হল যে, রঘুবীরের ছেলে বড় হয়ে জেঙ্কিস অ্যান্ড জেঙ্কিসেই কাজ নেবে। তো তা-ই নিয়েচে।”
ভাদুড়িমশাই মনে-মনে একটা হিসেব করে নিয়ে বললেন, “জানকী ঘোষের বয়েস হয়েছিল পঁয়তাল্লিশ। অর্থাৎ রঘুবীর ঘোষ সিক্সটিতে যখন চাকরি ছাড়েন, জানকীর বয়স তখন বছর দশেক মাত্র। তা জানকী ওখানে জয়েন করলেন কবে?”
সদানন্দবাবু বললেন, “নাইনটিন সেভেন্টিতে। তাঁর বয়েস তখন কুড়ি। সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে বি.এ. পাশ করার সঙ্গে-সঙ্গেই তিনি জুনিয়র এগজিকিউটিভ হিসেবে জেঙ্কিস অ্যান্ড জেঙ্কিসে জয়েন করেন। সুবিমল অন্তত সেই কথাই বলল।”
“কিন্তু সেভেন্টিতে তো আপনিও ওখানে কাজ করতেন। তারপরেও আরও বছর দশেক ওখানে ছিলেন। অথচ আপনি এ-সব জানতেন না?”
“ওই যে বললুম না, জানবার কোনও চেষ্টাই কক্ষনো করিনি। আপিসে যেতুম, কাজ করতুম, বাড়ি ফিরতুম, বাস। আর তা ছাড়া, জানকী ঘোষ তো জয়েন করেছিলেন আমাদের টি-ডিপার্টমেন্টে। তারপর আরও পাঁচ-ছ’টা ডিপার্টমেন্টে কাজ করিয়ে, দু’-দু’বার বিলেত ঘুরিয়ে এনে এইট্টিথ্রিতে ওঁকে ম্যানেজার করে শিপিং ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হল। কিন্তু তার বছর তিনেক আগেই তো আমি রিটায়ার করে গেচি। তা হলে আর ওঁকে চিনবই বা কী করে? সুবিমল বলল, তাই সব জানতে পারলুম।”
ভাদুড়িমশাই একেবারে ঝিম মেরে বসে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর সদানন্দবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “থ্যাঙ্কস ফর অল দ্যাট ইউ হ্যাভ ডান। তবে কিনা রঘুবীর ঘোষকে চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যে ওই যে ঝুলোঝুলি, তারপর ওই যে জানকী ঘোষকে ডেকে চাকরি দেওয়া, এমনিতে তো এ নিয়ে বলবার কিছু নেই, এ তো খুবই ভাল ব্যাপার, বাট আই হ্যাভ আ গাট ফিলিং যে, এর মধ্যে অন্য কোনও ব্যাপার আছে। যা-ই হোক, ওটা নিয়ে পরে ভাবব। তার আগে বরং রেনবো ক্লাবে গিয়ে কৌশিক কী জানতে পারল, সেটাই শোনা যাক।”
