একটি হত্যার অন্তরালে (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
(১৫)
শিলিগুড়িতে পৌঁছলুম একটা নাগাদ। যে-স্পিডে গাড়ি চালানো হয়েছিল, তাতে আর-একটু আগেই পৌঁছনো যেত। কিন্তু তিস্তাবাজারে ট্রাকের জ্যাম থাকায় তা আর সম্ভব হল না। হিল কার্ট রোডেও গাড়িঘোড়ার বেজায় ভিড়। তার সঙ্গে আছে শব্দের অত্যাচার। নামচির কথা ভেবে মনে হচ্ছিল যেন একেবারে ভিন্ন একটা জগতে এসে ঢুকেছি। বাস, ট্রাক, মিনিবাসের হর্নে কান ঝালাপালা হবার জোগাড়। তারই মধ্যে দেখি সাইকেল-রিকশায় মাইক আর লাউডস্পিকার ফিট করে একটা লোক তারস্বরে চেঁচাচ্ছে : আগামী রবিবার থেকে বাবুপাড়ার মাঠে বীরেশ্বর অপেরার নতুন পালা—বিলিতি বউ। নায়িকার ভূমিকায় যাত্রাজগতের নতুন উর্বশ্রী কাঞ্চনমালা, আর নায়ক আপনাদের সর্বজনের প্রিয় চঞ্চলকুমার! সেইসঙ্গে বোম্বাইয়ের মিস মুনলাইটের রক্ত-গরম-করা নাচ! দেখুন, দেখুন! সেইসঙ্গে বুঝুন, সমাজ এখন কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে! বড়ঘরের মুখটি চুন, গিন্নির হাতে কর্তা খুন! বিলিতি বউ, বিলিতি বউ! মাত্র এক সপ্তাহের জন্যে। দেখুন, দেখুন!
মাইকে মুখ রেখে যে-লোকটি চেঁচাচ্ছিল, তার পাশ দিয়ে যাবার সময় সাইকেল-রিকশা থেকে সে কাচ-নামানো জানালার ভিতর দিয়ে একগোছা হ্যান্ডবিল আমাদের গাড়ির মধ্যে ছুড়ে দিয়ে ফের চেঁচাতে লাগল : বিলিতি বউ, বিলিতি বউ! বীরেশ্বর অপেরার নতুন পালা! দেখুন, দেখে শিক্ষা নিন, আমাদের সমাজ…
সত্যপ্রকাশ তাঁর হোটেলের আপিস-ঘরে বসে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছিলেন। আমরা গিয়ে পৌঁছতে বললেন, “প্লেন আধ ঘণ্টা লেট, সওয়া তিনটেয় টেক-অফ্ করবে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের লোকাল ম্যানেজারকে আমি বলে রেখেছি, তিনটেয় যদি আপনারা রিপোর্ট করেন, তাতেও চলবে, তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখান থেকে আড়াইটেয় রওনা হলেই চলবে তো?”
“বিলক্ষণ। আধঘণ্টাতেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে যাব। আমিই পৌঁছে দেবখন।”
“ভালই হল। রওনা হবার আগে আপনার সঙ্গে কয়েকটা কাজের কথা সেরে নেওয়া দরকার।”
“সে-সব খেতে-খেতেই হবে। এখন আপনারা স্নান-টান সেরে একটু ফ্রেশ হয়ে নিন তো। আপনাদের জন্যে দুটো ঘর রেখে দিয়েছি।”
“স্নানের পাট আমরা নামচিতেই চুকিয়ে এসেছি।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “খাওয়ারও তেমন দরকার বুঝছি না।”
“তা বললে কখনও হয়?” সত্যপ্রকাশ বললেন, “যা হোক চাট্টি খেয়ে নিন।”
ভাদুড়িমশাই যে খাওয়ার ‘তেমন দরকার’ বুঝছেন না, এইটে শুনে সদানন্দবাবুর মুখ শুকিয়ে গিয়েছিল, সত্যপ্রকাশের কথায় আশ্বস্ত হয়ে বললেন, “খিদে আমাদের কারুরই বিশেষ নেই, তবে কিনা আপনি যখন এত করে বলচেন…”
ডাইনিং হলে বেজায় ভিড়। তবে তাতে কোনও অসুবিধে হল না। হলের এক কোণে একটা টেবিল আমাদের জন্য রেখে দেওয়াই ছিল। সেখানে যে যার চেয়ার টেনে বসে পড়া গেল। ওয়েটার এসে “রিজার্ড’ লেখা কার্ডটা সরিয়ে আমাদের খাওয়ার অর্ডার নিয়ে চলে যাবার পর ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনাকে একটা কাজের ভার নিতে হবে।”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “কী কাজ বলুন।”
“বেঞ্জামিন স্টুয়ার্টের নাম শুনেছেন?”
“বাঃ, আমি শিলিগুড়িতে ব্যাবসা করি, আর বেন্ স্টুয়ার্টের নাম জানব না?” সত্যপ্রকাশ বললেন, “বিখ্যাত টি-প্ল্যান্টার, যেমন আসামে তেমনি এ-দিকেও তাঁর বাগান রয়েছে। …কিন্তু তাঁর কথা উঠল কেন, তিনি তো বেঁচে নেই, অনেক দিন হল মারা গেছেন!”
“রাইট। তাঁর বাগানগুলোর মালিক এখন কে, সেটা জানেন তো?”
“জানি। মিসেস ফুলকুমারী ঘোষ। ভদ্রমহিলার প্রথম বিয়ে হয়েছিল বেন্ স্টুয়ার্টের সঙ্গে। সেই সূত্রে অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে এখানকার চা-বাগানগুলোও তিনি পেয়ে যান। তার কিছুদিন বাদে তিনি জেঙ্কিস অ্যান্ড জেঙ্কিসের রঘুবীর ঘোষকে বিয়ে করেন।”
“রাইট এগেন।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “তা এতই যখন জানেন, তখন এটাও কাইন্ডলি জেনে দিন যে, বেন স্টুয়ার্ট কবে মারা গেছেন। এগ্জ্যাকট তারিখটা আমার দরকার। জানা শক্ত হবে?”
“নট অ্যাট অল। শিলিগুড়িতেই তো ওদের…আই মিন স্টুয়ার্ট টি কোম্পানির একটা আপিস রয়েছে। সেখানে খোঁজ নিলেই জানতে পারব।”
খাবার এসে গিয়েছিল। মুগের ডাল দিয়ে ভাত মাখতে মাখতে ভাদুড়িমশাই বললেন, “আর-একটা খবরও জানা দরকার। কিন্তু সেটা বোধহয় আপনার দ্বারা হবে না।”
“আগে বলুন তো।”
“রঘুবীরের সঙ্গে বিয়ে হবার আগে বাই হার ফার্স্ট ম্যারেজ ফুলকুমারীর কোনও ছেলে কিংবা মেয়ে হয়েছিল কি না।”
“ইউ মিন বেন্ স্টুয়ার্টের কোনও ইস্যু?”
“হ্যাঁ।”
“এটা জানা শক্ত হবে। মালিক কবে মারা গেছে, চা-বাগানের পুরনো খাতায় তার উল্লেখ পাওয়া যাবেই, কিন্তু তার কোনও ইস্যু হয়েছিল কি না, তার কোনও উল্লেখ বোধহয় থাকবে না। বিশেষ করে এটা যদি পস্থূমাস ইস্যুর ব্যাপার হয়।”
সদানন্দবাবু এতক্ষণ নিঃশব্দে সব শুনছিলেন। এবারে বললেন, “পথুমাস ইস্যু মানে?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “বেন্ স্টুয়ার্টের মৃত্যুর পরে যার জন্ম হয়েছে, সেই বাচ্চা।”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “বাচ্চাটা যদি তার বাপের মৃত্যুর আগে জন্মে থাকে, তা হলে সম্পত্তির মালিকানা যে ফুলকুমারীর উপরে বর্তাল, তার দলিলে মাইনর চাইল্ডের একটা উল্লেখ থাকবে। তবে তার যে অংশ, সেটারও দেখাশুনোর দায়িত্ব এসে যাবে ফুলকুমারীর হাতে, অ্যাজ দ্য চাইল্ড’স লিগ্যাল গার্জিয়ান। পঙ্গুমাস চাইল্ড হলে অবশ্য ভিন্ন কথা। এটা আরও এইজন্যে বলছি যে, তার জন্মের আগেই হয়তো সম্পত্তির মালিকানা ফুলকুমারীর নামে ট্রান্সফার্ড হয়ে গিয়েছিল। বাচ্চার কোনও উল্লেখই সেক্ষেত্রে থাকবে না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “চেষ্টা করুন। থাকলে ভাল, আমার হয়রানি বাঁচে, নয়তো আর-এক দফা দৌড়ঝাঁপ করতে হবে।”
“তার মানে?”
“তার মানে কলকাতায় ফিরে লন্ডনে একটা ফোন করতে হবে। ওখানে যিনি আমাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন, বছর খানেক হল তিনি মারা গেছেন, তারপরে আর-কাউকে তাঁর জায়গায় নেওয়া হয়নি। একজন পার্ট-টাইমার আছেন বটে, তবে তাঁকে পাওয়া ভারী শক্ত। লোকটি অবশ্য কাজেকর্মে খুবই দড়, ফোন করে যদি পেয়ে যাই তো কাজটা ঠিকই করে দেবেন।”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “বেন স্টুয়ার্টের কোনও ছেলেপুলে হয়েছিল কি না, সেটা জেনে দেবার কাজ?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “হ্যাঁ। কাজটা তো আসলে তেমন শক্ত নয়। সে-বিয়ের কোনও ছেলেপুলে হয়ে থাকলে ওখানকার বার্থ রেজিস্ট্রেশন আপিসের সেই সময়কার খাতায় তার একটা উল্লেখ থাকবেই। তা সেই বাচ্চা বেন্ স্টুয়ার্টের জীবদ্দশাতেই জন্মে থাক্ কি তার মৃত্যুর পরেই জন্মে থাক্।”
একটুক্ষণ চুপচাপ কাটল। মাছের ঝোল শেষ। অসময়ের আমের চাটনি শেষ। বেয়ারা এসে পুরনো প্লেট সরিয়ে দই-মিষ্টির প্লেট রেখে গেল। এই সময়ে সত্যপ্রকাশ বললেন, “কিছু যদি মনে না করেন, তো একটা কথা বলি।”
“বলুন।”
“যদ্দুর বুঝতে পারছি, আপনি কাজ করছেন ফুলকুমারী ঘোষের হয়ে। তাই না?”
ভাদুড়িমশাইয়ের ভুরু হঠাৎ কুঁচকে গেল। সত্যপ্রকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, “উত্তরটা পরে দিচ্ছি। তার আগে জিজ্ঞেস করি, এমন ধারণা আপনার হল কেন।”
“ধারণাটা আমার একার নয়, গঙ্গাধর চামলিনেরও।”
“তাঁকে কোথায় পেলেন?”
“পেতে হবে কেন, শিলিগুড়িতে তো প্রায়ই আসেন তিনি। এসে আমার এখানেই ওঠেন। কালও এসেছিলেন। সকালে এসেছিলেন, তারপর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে একটা কাজ সেরে নিয়ে আবার বিকেলের মধ্যেই নামচিতে ফিরে যান। পরশু রাত্তিরে যে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন আপনারা, সে তো তাঁরই কাছে শুনলুম।”
“কিন্তু তাঁকে তো আমি বলিনি যে, আমরা ফুলকুমারী ঘোষের হয়ে কাজ করছি।”
“তা নিশ্চয় বলেননি, তবে কিনা…” সত্যপ্রকাশ হাসলেন, “চামলিন তো অতি তুখোড় লোক, যেটুকু যা বলেছেন, তার থেকেই উনি ওই রকমের একটা ধারণা করে নিয়ে থাকবেন।”
ভাদুড়িমশাই একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “ধারণাটা ভুল নয়। সত্যি আমি ফুলকুমারীর হয়ে কাজ করছি।”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “তা হলে এ-সব খবর এত ঘুরপথে আপনাকে জোগাড় করতে হচ্ছে কেন? বেন্ স্টুয়ার্ট কবে মারা গেছেন, আর ওঁর এই বিয়ের কোনও ইস্যু আছে কি না, সেটা তো ওঁকে জিজ্ঞেস করলেই হয়। বাচ্চা যদি একটা হয়েই থাকে, তা হলে সেটা তো একা বেন্ স্টুয়ার্টের বাচ্চা নয়, ফুলকুমারী তার মা, তা হলে তো ওঁরই সে-খবর সবচেয়ে ভাল জানার কথা। ওঁকে জিজ্ঞেস করুন।”
ভাদুড়িমশাই ইদানীং মিষ্টি খাচ্ছেন না, তাই সামনে থেকে সুইট-ডিশটা সরিয়ে দিলেন তিনি। জল খেয়ে, ফিঙ্গার বৌলে আঙুল ডুবিয়ে, কোমর থেকে ন্যাপকিনটা তুলে ঠোঁট আর হাত মুছে নিলেন। তারপর বললেন, “আপনি ঠিকই বলেছেন। কিন্তু তার অসুবিধে আছে।”
“কীসের অসুবিধে?”
“ওঁর সব কথা আমার ঠিক…কী বলব…বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না। কিছু-কিছু ব্যাপার সম্ভবত চেপে যাচ্ছেন। অথচ সবকিছু যদি খুলে বলতেন তো আমার কাজের সুবিধে হত।”
সত্যপ্রকাশ তাঁর চামচ দিয়ে একটা সন্দেশের আধখানা ভেঙে নিয়ে মুখের সামনে তুলেছিলেন। সেই অবস্থাতেই বললেন, “কাজটা কী?”
“ওঁর ছেলেকে কে খুন করেছে, সেটা জেনে দেবার কাজ।”
“ওঁর ছেলে মানে রঘুবীর ঘোষের ছেলে জানকী?”
“হ্যাঁ।”
সন্দেশের টুকরোটা না খেয়ে সেটা প্লেটের উপরে নামিয়ে রাখলেন সত্যপ্রকাশ। খানিকক্ষণ একেবারে নির্বাক হয়ে বসে রইলেন। তারপর অস্ফুট গলায় বললেন, “জানকী খুন হয়েছেন?”
“হ্যাঁ, আপনি তাঁকে চিনতেন নাকি?”
“ভালই চিনতুম। উনি যখন জেঙ্কিন্স অ্যান্ড জেঙ্কিসের টি-ডিভিশনে কাজ করতেন, তখন মাঝে-মাঝেই আসতেন এদিকে। সেই সময়ে আলাপ হয়। হালেও অবশ্য দার্জিলিং কি কালিম্পং থেকে ফিরতি পথে দু’চার বার এখানে হল্ট করেছেন। এখানে এলে আমার হোটেলেই উঠতেন। কিন্তু আপনারা যা বলছেন, তা তো ভাবাই যায় না! এটা কবেকার ঘটনা?”
“আজ তো বেস্পতিবার, এটা গত বেস্পতিবারের ঘটনা। সকালবেলায় বালিগঞ্জের লেকের ধারে মর্নিং ওয়াক করতে গিয়েছিলেন, সেইখানেই কেউ গুলি চালিয়ে দেয়।”
“স্ট্রেঞ্জ!” সত্যপ্রকাশ বললেন, “সুইসাইড করলে তবু তার একটা মানে হত!”
ভাদুড়িমশাইয়ের চোখ দুটো দেখলুম হঠাৎই ভীষণ সরু হয়ে এসেছে। বললেন, “উনি কি সুইসাইড করার কথা বলতেন নাকি?”
“বলতেন। ইদানীং বলতেন। বিশেষ করে যখন সন্ধেবেলায় আমাদের বারে এসে বসতেন, তখন বলতেন। মদ খেতে-খেতে বিড়বিড় করে বলতেন। কথাটা আমি আমার ওয়েটারদের কাছেই শুনেছি। আমি হোটেল চালাই, মদ্যপানের কুফল সম্পর্কে কাউকে জ্ঞান দেবার জন্যে তো আমি বার খুলিনি, ও-বিষ যত বেশি বিক্রি হবে ততই আমার লাভ। কিন্তু উনি বড্ডই ভালমানুষ ছিলেন তো, তা ছাড়া আচার-ব্যবহারেও ছিলেন একেবারে পারফেক্ট জেন্টলম্যান, হয়তো সেই কারণেই ওঁর উপরে আমার একটু মায়া পড়ে গিয়েছিল। তাই ড্রিংক করতে-করতে প্রায়ই যে বেহুঁশ হয়ে যেতেন, এইটে দেখে খুব খারাপ লাগত আমার। মনে হত, একটু সতর্ক করে দিই। একদিন দিয়েছিলুমও। বলেছিলুম, একটু রয়ে-সয়ে খান মিঃ ঘোষ, নইলে যে মারা পড়বেন। তখন কী বলেছিলেন জানেন?”
“কী বলেছিলেন?”
“বলেছিলেন, আমি তো মরতেই চাই। যার বউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে, তার আবার বেঁচে থেকে লাভ কী! অবশ্য এ-সব কথা যখন বলেন, তখন…ইয়ে…উনি যে খুব স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না, সে তো বুঝতেই পারছেন।”
ভাদুড়িমশাই চুপ করে বসে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, “সওয়া দুটো বাজে। এবারে উঠে পড়াই ভাল।”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “আপনি যা জানতে চেয়েছেন, সে-ব্যাপারে আমি আজকেই খোঁজ নেব। কিছু জানতে পারলে আজ রাত্তিরেই আপনাকে ফোন করতে পারি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখানে একটা যাত্রা-পার্টি আসছে। বীরেশ্বর অপেরা। রবিবার থেকে ‘বিলিতি বউ’ বলে একটা পালা নামাবে। যদি সম্ভব হয় তো এদের সম্পর্কেও একটু খোঁজ নিন …মানে যতটা পারেন।”
