এগারোর অঙ্ক (কর্নেল সিরিজ) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
মারাত্মক অ্যাডভেঞ্চার
সন্ধ্যায় খানিকটা মেঘ জমেছিল আকাশে। জোরালো বাতাসে এদিক-ওদিকে ছড়িয়ে গেল। নৈলে বৃষ্টি হত এবং মুশকিলে ফেলত সাধুবাবাকে। মন্দিরতলার পশ্চিমে পোড়া মাঠটাতে বড় বড় পাথর ছড়ানো রয়েছে। পাথরে বসে সাধুবাবা চাঁদ দর্শন করছিলেন মুখ ঘুরিয়ে। নবমীর চাঁদ। মাঝেমাঝে মেঘে ঢেকে যাচ্ছে, আবার বেরিয়ে পড়ছে। সবে সাড়ে সাতটা বাজে। আর একটু অপেক্ষা করবেন ভাবছিলেন। এখানকার লোকেরা সকাল-সকাল শুয়ে পড়ে যেন। এরই মধ্যে নিঝুম নিশুতি হয়ে গেছে। গাছপালার ফাঁকে জুগজুগ করে বৈদ্যুতিক আলো জ্বলছে কোথাও কোথাও। বসন্তনিবাসে দোতলার ঘরে আলো দেখা যাচ্ছে। আলোটা দেখে উসখুস করছিলেন সাধুবাবা। অলোটা এক রহস্যময়-হাতছানি যেন।
দেবীর ভর ওঠা মেয়েটা আবার বিকেলে মন্দিরতলায় এসেছিল। কিন্তু সাধুবাবাকে দেখামাত্র আবার পাথর হাতে নিয়েছিল। ভয় পেয়ে ওকে ঘটাননি সাধুবাবা। ঘণ্টাখানেক ঠায় বসে থেকে হঠাৎ উঠে চলে গেল হনহন করে। অবেলায় একদঙ্গল লোক জুটেছিল আটচালায়। কেউ ভবঘুরে, কেউ আড্ডাবাজ, কেউ কেউ ধার্মিক। আবার কেউ এসেছিল গাঁজার লোভে। নস্যি দেখে ভড়কে গেল। গঙ্গার দুই তীরে সাধুদের অবাধ এক জগৎ। সেতাপগঞ্জে সাধুরা চোখসওয়া। কিন্তু এই সাধুবাবা ধ্যানে বসেছেন তো বসেই আছেন–হয়তো মৌনীবাবা। তাই শেষপর্যন্ত একে একে নিরাশ হয়ে সবাই কেটে পড়েছিল। তারপর সাতটার মধ্যে শিবুয়া এসে রোটি-ডাল ঔর থোড়াসা সজি দিয়ে গেছে শালপাতায়। মন্দিরতলায় ইঁদারা, টিউবেল সবই আছে। সাধুবাবা জানেন, এখন শিবু ফটকওয়ালা ফটকে আড্ডা জমিয়েছে। ঢোলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তাড়ি বা হাঁড়িয়া গিলছে আর জড়ানো গলায় গান গাইছে একদল লোক।
দিনে বসন্তনিবাসের আনাচে-কানাচে ঘুরে গেছেন সাধুবাবা। পুব আর উত্তর জুড়ে বাগান। চৌহদ্দি ঘিরে ভাঙাচোরা পাঁচিল। মধ্যিখানে প্রকাণ্ড জীর্ণ একটা বাড়ি। সামনের দিকে কয়েকটা মরাই আছে। শিবুয়ার কাছে শুনেছেন, ওখানে একসময় ফুলবাগিচা ছিল। একটা মোটরগাড়িভি ছিল। এখন আর বাড়িটার সে ইজ্জত নেই। এ মুলুকের ক্ষেতিওয়ালা লোকের বাড়ি হয়ে গেছে। ও বাড়ির ছোটি ছোঁকড়িটা তো স্রিফ গাঁওবালি হয়ে উঠেছে।
তর সইছিল না সাধুবাবার। খোয়া ঢাকা নির্জন পথটা ডিঙিয়ে আরেকটা পোড়া এবং আগাছাভরা মাঠ পেরিয়ে বসন্তনিবাসের কাছে পৌঁছে গেলেন। কাঁধে বোঁচকাটা একটু অসুবিধে ঘটিয়েছে। কিন্তু রেখে আসবেনই বা কোথায়? কমণ্ডলুটা ঢুকিয়ে মুশকিল হয়েছে, ওজন যেমন বেড়েছে, তেমনি নড়লেই কেন একটা বিদঘুঁটে শব্দ ঢঙাস্ করে।
আবার মেঘ সরলে চাঁদের আলোয় ভাঙা অংশটা দেখতে পেলেন। উঁকি মেরে দেখলেন, বাগানে কেউ নেই। দোতলার একটা ঘর থেকে খানিকটা আলো তেরচা হয়ে এসে ঘাসের ওপর পড়েছে। কুকুর থাকলে এতক্ষণ সাড়া দিত। অতএব নিশ্চিন্তে ঢোকা যায়।
ওপারে সাবধানে নামলেন। তারপর সেই ফোয়ারার খোঁজে গুঁড়ি মেরে এগিয়ে চললেন সাধুবাবা। জ্যোৎস্না বেশ পরিষ্কার। একটু পরে বাগানের মাঝখানে ফোয়ারা এবং সেই পাথরের মূর্তিটা দেখতে পেলেন। একটু অস্বস্তি হল। এই মূর্তিটা নাকি রাতবিরেতে জ্যান্ত হয়ে বাগানে ঘুরে বেড়ায়।
পাশে একটা মানুষ-সমান উঁচু ঝোপ। ঝোঁপের পাশে বসে পড়লেন সাধুবাবা। তারপর টর্চ বের করে বোঁচকার ভেতর সাবধানে জ্বেলে দেখে নিলেন জ্বলছে। কি না।
মশার উৎপাতে অস্থির। বিহারের মশাগুলো বাঙালি মশাদের চেয়ে তেজী। পরনে মাত্র একটুকরো গেরুয়া কাপড়। খালি গা। ক্রমশ হতাশা ও জ্বালায় নিজের ওপর চটে উঠছিলেন। পাথরের মূর্তিটা জ্যান্ত হতে হতে ফুলে ঢোল হয়ে যাবেন যে!
কতক্ষণ পরে চাঁদটা আবার মেঘে ঢেকে গেল। তারপর হঠাৎ ঝিরঝির করে বৃষ্টি। গাছের তলায় যাবার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছেন, সেই সময় ফোয়ারার মূর্তিটার দিক থেকে আবছা কী একটা শব্দ শুনতে পেলেন। কিন্তু কিছু দেখতে পেলেন না। বৃষ্টিটা মিনিটখানেক পরে থেমে গেল। আবার চাঁদ বেরিয়ে পড়ল মেঘের ফাঁকে। তখন বসে পড়লেন আবার।
আবার শব্দটা শোনা গেল। ফোয়ারার মূর্তিটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তার ওপাশ থেকেই শব্দটা ভেসে এসেছে। কেউ কিছুঘসছে ঘসঘস করে। থামছে, আবার ঘসছে। ঘস্ ঘস্ ঘস…ঘস্ ঘস…।
ঝোপ থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে একটু এগিয়ে ফোয়ারার অন্যপাশে আরেকটা ঝোপে গিয়ে ঢুকলেন সাধুবাবা। এবার দেখলেন, পাথরের কালো মূর্তির পায়ের কাছে কেউ ঘসছে। পরনে শাড়ি, একরাশ খোলা চুল। আবার জ্যোৎস্না ফুটতেই শিউরে উঠলেন সাধুবাবা। সেই মেয়েটাই বটে! একটা লম্বা ছুরিতে শান দিচ্ছে!
এ কী অদ্ভুত রোমহর্ষক ব্যাপার! মাথামুণ্ডু খুঁজে পাচ্ছিলেন না সাধুবাবা। দেখা যাক, ব্যাপারটা কতদূর গড়ায়।
একটু পরে বাড়ির দোতলার সেই আলো-জ্বলা ঘরের জানালা থেকে কেউ গম্ভীর গলায় ডাকল, খুকু! খুকু! সাড়া না পেয়ে লোকটা সরে গেল জানালা থেকে।
মেয়েটা এবার মূর্তিটার পায়ের কাছে উঠে বসল। তার হাতের ছুরিটা দেখা গেল না আর। কিন্তু ওর হাতে সদ্য শান দেওয়া ছুরিটা নিশ্চয় আছে। শিউরে উঠলেন সাধুবাবা।
তারপর দোতলার ঘরের সেই লোকটাই হবে, খুকু, খুকু বলে ডাকতে ডাকতে বাগানে এগিয়ে এল। তার হাতে জ্বলন্ত টর্চ। সাধুবাবা ঝোপে ঢুকে পড়লেন। উঁকি মেরে দেখতে থাকলেন, লোকটার পরনে লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি টর্চের আলো ফেলে মেয়েটাকে দেখে থমকে দাঁড়িয়েছে। আবার ওখানে গিয়ে বসে আছ? ধমক দিল লোকটা। উঠে এস, বলছি। উঠে এস!…কী? কথা কানে যায় না? চাবকে পিঠের ছাল তুলে নেব সেদিনকার মতো।
লোকটা এগিয়ে আসতেই মেয়েটা হি হি হি করে হেসে মূর্তির পায়ের কাছ থেকে নেমে দাঁড়াল। তার হাতের ছুরিটা চকচক করে উঠল। লোকটা চাপা গলায় ধমক দিল ফের, আবার ছুরি নিয়ে বেরিয়েছ? ফেলো, ফেলে দাও বলছি।…ফেললে না? দাঁড়াও, দেখাচ্ছি মজা! বলে সে মুখ ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে ডাকল, শ্যামা! শ্যামা! এদিকে আয় তো শিগগির! চাবুকটা নিয়ে আয়। মেরে ভূত ভাগাচ্ছি হারামজাদী মেয়ের!
অমনি মেয়েটি ছুরি উঁচিয়ে বিকট চিৎকার করে ছুটে গেল লোকটার দিকে। লোকটা দ্রুত সরে না গেলে সাংঘাতিক কাণ্ড হত।
মেয়েটা আবার তাড়া করল ওকে। লোকটা শ্যামা, শ্যামা বলে চাঁচাতে চাঁচাতে বাড়ির দিকে দৌডুল। মেয়েটা আর তাকে অনুসরণ করল না। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
একটু পরে বাড়ি থেকে আবার বেরিয়ে এল সেই লোকটা। তার সঙ্গে আরও দুজন লোক আর একটা মেয়ে। সেই লোকটার হাতে চাবুক দেখা যাচ্ছিল। লোকটা চাবুক তুলে সপাৎ করে মারল খুকুকে। খুকু ডুকরে কেঁদে পড়ে গেল। তখন সেই মেয়েটা এসে ওকে ধরে ফেলল। লোকটা চাবুক হাঁকড়ে গর্জাতে থাকল, ছোড় দে মনিয়া! শ্যামা, মাগীকে ধর তো। তারপর দেখছি! দুটোকেই আজ শায়েস্তা করে ভূত ভাগাচ্ছি!
শ্যামা মনিয়াকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। মনিয়া চেঁচিয়ে উঠল, নেমকহারাম! হারামীকাবাচ্চা!
লোকটা সপাং করে চাবুক মারল খুকুকে। খুকু নিঃসাড়। শ্যামা মনিয়াকে ঠেলতে ঠেলতে বাড়ির ভেতর নিয়ে গেল। অন্য লোকটা হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষণ। এবার বলল, বাবু! খুব হয়েছে! আর না–আর না। মরে যাবে।
লুঙ্গি-পাঞ্জাবিপরা বাবুটি চাবুক তুলেছিল। হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। খুকু উঠে বসেছে। মাথা দোলাতে শুরু করেছে। খোলা চুলগুলো এপাশে-ওপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। খুকু কান্নার সুরে কী বলছে, বোঝা যাচ্ছে না।
বাবু ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল, দয়াল! ওকে নিয়ে এসো তুমি। তারপর বাড়ির দিকে চলে গেল।
দয়াল নামে লোকটা দাঁড়িয়ে রইল খুকুর পিঠের কাছে। সাধুবাবা কাঠ হয়ে বসে আছেন ঝোঁপের ভেতর। একটু পরে শুনলেন, খুকু মাথা দোলাতে দোলাতে বলছে, আমি রুদ্রকে খুন করেছি। ইন্দুকে খুন করব।…সব্বাইকে খুন করব। আমি রক্ত খেয়ে নাচব।…আমি টুকুকে খুন করেছি। অপুকে খুন করব।…আমি সব্বাইর রক্ত খেয়ে নাচব।…আমি শ্যামাকে খুন করব। দয়ালকে খুন করব। সব্বাইকে খুন করব। সব্বাইর রক্ত খেয়ে নাচব।… হি..হি..হি..হি..!
ভুতুড়ে হাসি হাতে হাসতে হঠাৎ সে আবার হিপিয়ে কেঁদে উঠল। তারপর তার শরীরটা বেঁকে আছড়ে পড়ল এবং স্থির হয়ে গেল।
একটু পরে দয়াল ডাকল, খুকু! মা! এবার ওঠ!
খুকুকে সে টেনে ওঠাল। তারপর তার কাধ ধরে বাড়ি নিয়ে গেল। সাধুবাবার এতক্ষণে মনে হল, এতক্ষণ ধরে যে আশ্চর্য নাটকীয় ঘটনা দেখছিলেন, আগাগোড়া সেটা যেন একটা অদ্ভুত স্বপ্ন। দুঃস্বপ্নই বলা যায়।
বসন্তনিবাসে রোজই হয়তো এমন টুকরো টুকরো নাটকীয় ঘটনা ঘটে চলেছে। একটা পুরো নাটকের একটা দৃশ্য খণ্ডিতভাবে দেখা গেল। বাকিটুকু হয়তো বাড়ির ভেতর ঘটছে এতক্ষণ।
কিন্তু এ মুহূর্তে জরুরি হয়ে উঠেছে সেই ছুরিটা খুঁজে বের করা। ওই ছুরি দিয়েই খুকু নামে দেবীর ভর-ওঠা মেয়েটা নিজের বাবা আর বোনকে খুন করেছে। এরপর তার খুনের তালিকায় আরও কয়েকটা নাম আছে। সর্বনাশ! সর্বনাশ! সাধুবাবা মুহুর্মুহু শিউরে উঠছিলেন।
সাবধানে উঠে বাড়ির দিকটা দেখে নিলেন। বাড়িটা অস্বাভাবিক চুপচাপ। দোতলার জানলা থেকে সেই আলোর ফালিটা তেরচা হয়ে বাগানে এসে পড়েছে। সেখানে কেউ নেই দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে সাধুবাবা টর্চ জ্বাললেন। সতর্কভাবে টর্চের আলো পায়ের সামনে ফেলে ছুরিটা খুঁজতে থাকলেন। ওটাই তাহলে আসল মার্ডার উইপন। খুঁজলে এখনও হয়তো দুএকফোঁটা শুকনো রক্তের দাগ মিলতে পারে।
টর্চের আলোয় ঘাসের ভেতর ছুরিটা দেখতে পেয়ে সাধুবাবা সেটা কুড়িয়ে নিতে ঝুঁকেছেন, সেই সময় একঝলক উজ্জ্বল আলো তার ওপর এসে পড়ল। অমনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে থমকে দাঁড়ালেন।
যে টর্চ জ্বেলেছিল, সেও থমকে গেছে। রাতবিরেতে বাড়ির বাগানের ভেতর জটাজুটধারী সাধু দেখার আশা সে করেনি। কয়েকসেকেন্ড পরে তার খেয়াল হয়েছে, সাধু যেন ছুরিটাই কুড়োতে হাত বাড়িয়েছিল। ব্যাপারটা গোলমেলে। সে চেঁচিয়ে উঠল, ছোটবাবু! ছোটবাবু! শিগগির আসুন তো!
দোতলায় আলো-জ্বলা জানালা থেকে সাড়া এল, কী রে শ্যামা!
এক সাধুবাবা ঢুকেছে!
কী ঢুকছে?
সাধু–সাধুবাবা!
ধর তো ব্যাটাকে। ধরে রাখ। আমি যাচ্ছি!
শ্যামা এবার সাহস করে তেড়ে এল এবং তার মারমুখী এগিয়ে আসার সামনে আর তিষ্ঠোনেনার মতো নার্ভ রইল না গোয়েন্দা কৃতান্ত হালদারের। সটান ঘুরে পাঁচিলের সেই ভাঙা জায়গাটার দিকে দৌড়লেন। কিন্তু বয়স হয়েছে। একসময় পুলিশের চাকরিতে এধরনের মারাত্মক অভিজ্ঞতা প্রচুর পরিমাণে অর্জন করলেও এক্ষেত্রে তার ভূমিকাটাই যে বিপরীত! আগে ক্রিমিন্যাল পালাত এবং তার পেছনে পাঁচিল ডিঙিয়েও দৌড়ুতে পারতেন। এখন তাকেই পালাতে হচ্ছে। এবাড়ির ছোটবাবু লোকটার মেজাজ আর রকমসকম যা দেখেছেন একটু আগে, কিছু বলা যায় না। প্রতিমুহূর্তে পিঠে সপাং করে চাবুক পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ঝোপঝাড় ভেঙে পাঁচিলের সেই ভাঙা অংশটা খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কাঁধের বেঁচকা বিপদ বাধাচ্ছে। সেই সময় চাঁদ ঢেকে আবার কালো মেঘ এবং হাতের টর্চটাও কোনো দুর্বোধ্য কারণে বিগড়ে গেল। গাছপালা ঝোপঝাড়ের ওপর আলো ফেলে শ্যামা চাচাতে দৌড়চ্ছে। ইতিমধ্যে ছোটবাবুও এসে, হাঁকাহাঁকি করছে, চোর! চোর! বাড়িটা শেষপ্রান্তে নিরিবিলি জায়গায় না হলে। এতক্ষণ পাড়ার লোক চারদিক থেকে ঘিরে ফেলত।
ভাঙা পাঁচিলে ওঠার মুহূর্তে শ্যামা পেছন থেকে তার জটা ধরে ফেলল। উপড়ে গেল জটাজুট। তবে কৃতান্তবাবু বেঁচে গেলেন। ওধারে ধপাস করে পড়ে আগাছার ঝোঁপের ভেতর দিয়ে রেললাইনের দিকে দৌডুলেন।
ঠিক দৌড়ুনো নয়–প্রাণের দায়ে পা ফেলা। মাটিটা ভিজে আছে বৃষ্টিতে। আছাড়ও খেলেন। বাষট্টি বছর বয়সেও এই যে এতখানি অ্যাডভেঞ্চার করে ফেললেন, সেটা তিনি পুলিশ ছিলেন বলেই। কেরানিগিরি করলে কি পারতেন? রেলইয়ার্ডে পৌঁছে একটা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা ওয়াগনের আড়ালে বসে গোয়েন্দা কৃতান্ত হালদার ছদ্মবেশের বাকি অংশ খুলে বোঁচকা থেকে প্রথমে বের করলেন জুতো, তারপর প্যান্টশার্ট।
একটু পরে সিগারেট ধরিয়ে খিখি করে আপন মনে হাসতে থাকলেন কৃতান্তবাবু। নিজের কীর্তির কথা ভেবেই।
