অশরীরী – লীলা মজুমদার

এখন আমি একটা সাধারণ খবরের কাগজের আপিসে কাজ করলেও, এক বছর আগেও একটা সাংঘাতিক গোপনীয় কাজ করতাম। সে কাউকে বলা বারণ। বললে আর দেখতে হত না, প্রাণটা তো বাঁচতই না, তারও পর সব চাইতে খারাপ কথা হল যে চাকরিটাও চলে…
ভূতে বিশ্বাস করে কি না, এ-কথা কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হয় না। বিশ্বাস না করলেও কিছু এসে যায় না। তবে একটি কথা বলি। শুনেছি মরে গেলে শরীরের এক কণাও নষ্ট হয় না। সবই পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে চিরকাল রক্ষা পায়। তা হলে মানুষের সত্তার শ্রেষ্ঠাংশই বা বিনষ্ট হবে কেন? আরও বলি, মরে গেলে সেই শ্রেষ্ঠাংশের একটা অশুভ পরিণতিই বা হবে কেন? বিধাতার মঙ্গলবিধানে আমার আস্থা আছে, তাই আমার এই ভূতদের একটু সুনজরে দেখতে হবে। এ-সমস্তর একটিও সত্যি ঘটনা নয়। সব আমি বানিয়েছি। বহু বছর ধরে নানা পত্রিকায়, ও পরে ছোট বই হয়েও কিছু বেরিয়েছে। এখন যতগুলোকে সম্ভব একসঙ্গে করে এই বই হল। তোমরা সকলে বইটি উপভোগ কর।
ইতি— লীলা মজুমদার।

এখন আমি একটা সাধারণ খবরের কাগজের আপিসে কাজ করলেও, এক বছর আগেও একটা সাংঘাতিক গোপনীয় কাজ করতাম। সে কাউকে বলা বারণ। বললে আর দেখতে হত না, প্রাণটা তো বাঁচতই না, তারও পর সব চাইতে খারাপ কথা হল যে চাকরিটাও চলে…

অনেক দিন আগের ঘটনা, লিখেওছিলাম এ বিষয়ে সে সময়ে, তবে তার কাগজপত্র হারিয়ে গেছে। সত্যি না বানানো যদি জানতে চান তাহলে বলি, যে গল্প শুনবে তার অত খবরের কী দরকার? তার কাছে যে ঘটনা বানানো আর যে ঘটনা কোন কালে…

ছাপাখানাটি খুব ছোট হলেও সারাদিন সেখানে কাজ হত। ছুটি হতে হতে সেই সন্ধে হয়ে যেত। ছাপাখানার পাশে একটা চায়ের দোকান ছিল। কুড়ি পয়সা দিলে এক ভাঁড় গুড়ের চা আর ঝালঝাল আলু-চচ্চড়ি দিয়ে মোটা একটা হাতরুটি পাওয়া যেত। খেয়েই বন্ধু রওনা…

নটের বেশি সাহস। সে বলল, “কী যে বলিস, গুরু! লোকে বলে তেপান্তরের মাঠ জায়গা ভালো নয়। তোর যেমন কথা! আরে, লোকে তো এও বলে যে নটে-গুরু ছেলে ভালো নয়!” বলতেই গুরু ফিক করে হেসে ফেলল। তা ছাড়া একেবারে দশ-দশটা…

প্রতি মাসে একবার করে আমাদের মহিলা সমিতি বসে শনিবার সন্ধ্যাবেলায়। সেদিন হিসাবপত্র দেখা হয়, কাজ গুছোনো হয়, একটু চাও খাওয়া হয় আর এনতার গল্পগুজব হয়। এক একদিন ফিরতে একটু রাত হয়ে যায়, কারো কিছু গাড়িঘোড়া নেই, দূরও নয়, যে যার…

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষের দিকের ঘটনা; অকুস্থল ভারত-বর্মা সীমান্তের একেবারে উত্তরপূর্ব কোনা; জায়গাটার নামধাম নাই করলাম। আমার পলটুকাকা কনভয় নিয়ে সেখানে যখন পৌঁছলেন, নির্ধারিত সময়ের পর তখন পাঁচ ঘণ্টা কেটে গেছে, চারদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। সাধারণ চোখ দিয়ে বিচার করতে…