কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এক কাকাবাবু হাসতে হাসতে বললেন, জোজো একাই সব গল্প বলবে? আমরা বুঝি গল্প জানি না? জোজো বলল, আমি তো গল্প বলি না! সব সত্যি ঘটনা। সন্তু জিজ্ঞেস করল, তুই যে বললি, একটা গোরিলা নারকোল গাছে উঠে নারকোল ছিঁড়ে…

এক কাকাবাবু হাসতে হাসতে বললেন, জোজো একাই সব গল্প বলবে? আমরা বুঝি গল্প জানি না? জোজো বলল, আমি তো গল্প বলি না! সব সত্যি ঘটনা। সন্তু জিজ্ঞেস করল, তুই যে বললি, একটা গোরিলা নারকোল গাছে উঠে নারকোল ছিঁড়ে…

এক দুহাত ছড়িয়ে কাকাবাবু বললেন, আঃ, কী আরাম! চোখ একেবারে জুড়িয়ে গেল। মাথার মধ্যেও কী শান্তি। জানিস সন্তু, এমন সুন্দর দৃশ্যও তেমন ভাল লাগে, যদি মনের মধ্যে কোনও দুশ্চিন্তা থাকে। এবারে সব ঝামেলা চুকে গেছে, আর কোথাও দৌড়োদৌড়ি করতে হবে…

এক সদর দরজা খুলে দিয়ে সন্তু দেখল, বাইরে একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তারই সমবয়েসি। জিন্স আর হলুদ টি-শার্ট পরা। খুব ফরসা রং, মাথার চুল পাট করে আঁচড়ানো। কাঁধে একটা ব্যাগ ঝুলছে। প্রথম দেখেই সন্তুর মনে হল, এ কলকাতার ছেলে…

এক সকাল থেকে সন্তু আর জোজো নিজেদের মধ্যে কী যেন বলছে ফিসফিস করে। কাছাকাছি কাকাবাবুকে দেখলেই থেমে যাচ্ছে হঠাৎ। যেন তাদের একটা কিছু গোপন কথা আছে। বাড়ির সামনে অনেকখানি জায়গা জুড়ে বাগান। বড় বড় সব ফলের গাছ। মাঝখানটায় মখমলের…

এক ভোরবেলা হোটেলের সামনের বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন কাকাবাবু। বুক ভরে টাটকা বাতাসের শ্বাস নিয়ে বললেন, আঃ! যেন মনে হল, তিনি ফুলের গন্ধ নিচ্ছেন। সত্যি, এখানকার বাতাসে যেন পবিত্র পবিত্র গন্ধ আছে। ডান পাশেই পাহাড়ের পর পাহাড়। চুড়ায় বরফ…

এক বই পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া কাকাবাবুর অভ্যেস। একটানা বেশিক্ষণ পড়তে পারেন না। বড়জোর আধঘণ্টা পড়ার পর চোখ বুজে যায়। দশ-পনেরো মিনিট সেই অবস্থায় থাকেন, কখনও সখনও একটু একটু নাকও ডাকে। তারপর আবার পড়া শুরু হয়। তাতে…