সত্যজিৎ রায়

বর্ণান্ধ – সত্যজিৎ রায়

দুষ্প্রাপ্য বইখানাকে বগলে গুঁজে পুরনো বইয়ের দোকানের ভ্যাপসা মলিন পরিবেশ থেকে আমি বাইরের রাস্তায় বেরিয়ে এলাম। অগস্ট মাস। বিষণ্ণ গুমোট সন্ধেগুলি যেন এই সময়ে একটা ভারী বোঝার মতো মানুষের বুকের উপরে চেপে বসে। কিন্তু বাড়ির পথে বেশ ফুর্তি নিয়েই হাঁটছিলাম…

Read Moreবর্ণান্ধ – সত্যজিৎ রায়

টেরোড্যাকটিলের ডিম – সত্যজিৎ রায়

বদনবাবু আপিসের পর আর কার্জন পার্কে আসেন না।   আগে ছিল ভাল। সুরেন বাঁড়ুজ্যের স্ট্যাচুর পাশটায় ঘণ্টাখানেক চুপচাপ বসে বিশ্রাম করে তারপর ট্রামের ভিড়টা একটু কমলে সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় শিবঠাকুর লেনে বাড়ি ফিরতেন।   এখন ট্রামের লাইন ভিতরে এসে পড়ায় পার্কে…

Read Moreটেরোড্যাকটিলের ডিম – সত্যজিৎ রায়

সদানন্দের খুদে জগৎ – সত্যজিৎ রায়

আজ আমার মনটা বেশ খুশি-খুশি, তাই ভাবছি এইবেলা তোমাদের সব ব্যাপারটা বলে ফেলি। আমি জানি তোমরা বিশ্বাস করবে। তোমরা তো আর এদের মতো নও। এরা বিশ্বাস করে না। এরা ভাবে আমার সব কথাই বুঝি মিথ্যে আর বানানো। আমি তাই আর…

Read Moreসদানন্দের খুদে জগৎ – সত্যজিৎ রায়

অনাথবাবুর ভয় – সত্যজিৎ রায়

অনাথবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ ট্রেনের কামরায়। আমি যাচ্ছিলাম রঘুনাথপুর, হাওয়াবদলের জন্য। কলকাতায় খবরের কাগজের আপিসে চাকরি করি। গত কমাস ধরে কাজের চাপে দমবন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিল। তা ছাড়া আমার লেখার শখ, দু-একটা গল্পের প্লটও মাথায় ঘুরছিল, কিন্তু এত কাজের মধ্যে…

Read Moreঅনাথবাবুর ভয় – সত্যজিৎ রায়

দুই ম্যাজিশিয়ান – সত্যজিৎ রায়

‘পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ, এগারো।’   সুরপতি ট্রাকগুলো গুনে নিয়ে অ্যাসিস্‌ট্যান্ট অনিলের দিকে ফিরে বলল, ‘ঠিক আছে। দাও, গাড়ি পাঠিয়ে দাও সব ব্রেকভ্যানে। আর মাত্র পঁচিশ মিনিট।’   অনিল বলল, ‘আপনার গাড়িও ঠিক আছে স্যার। কুপে। দুটো বার্থই…

Read Moreদুই ম্যাজিশিয়ান – সত্যজিৎ রায়

শিবু আর রাক্ষসের কথা – সত্যজিৎ রায়

‘অ্যাই শিবু—এদিকে শোন।’   শিবুর ইস্কুল যাবার পথে ফটিকদা তাকে প্রায়ই এইভাবে ডাকে।   ফটিকদা মানে পাগলা ফটিক।   জয়নারায়ণ বাবুদের বাড়ি ছাড়িয়ে চৌমাথার কাছটায় যেখানে একটা পুরোনো মর্চে-ধরা স্টীম রোলার আজ দশ বছর ধরে পড়ে আছে, তার ঠিক সামনেই…

Read Moreশিবু আর রাক্ষসের কথা – সত্যজিৎ রায়