সত্যজিৎ রায়

লাখপতি – সত্যজিৎ রায়

ত্রিদিব চৌধুরী আর থাকতে না পেরে বিরক্তভাবে বেয়ারাকে ডাকার বোতামটা টিপলেন। কিছুক্ষণ থেকেই তিনি অনুভব করছেন যে কামরাটা যত ঠাণ্ডা থাকার কথা মোটেই তত ঠাণ্ডা নয়। অথচ তাঁর তিন সহযাত্রীই দিব্যি নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছেন। এটা যে কি করে সম্ভব হয়…

Read Moreলাখপতি – সত্যজিৎ রায়

রামধনের বাঁশি – সত্যজিৎ রায়

রামধনের লোকটাকে চেনা চেনা লাগায় আরেকটু কাছে গিয়ে একটা গাছের আড়াল থেকে দেখে তার বুকের ভিতরটা হিম হয়ে গেল। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও চিনতে কোনও অসুবিধা নেই। এই সেই খগেশবাবু। খগেশ খাস্তগির, পুরনো ইটপাথর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন।   খগেশবাবুর সঙ্গে…

Read Moreরামধনের বাঁশি – সত্যজিৎ রায়

জুটি – সত্যজিৎ রায়

‘আজ আমি একজন ফিল্মস্টারের কথা বলতে যাচ্ছি,’ চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন তারিণীখুড়ো।   ‘কে তিনি? তাঁর নাম কি?’ আমরা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলাম।   ‘তাঁর নাম তোরা শুনিসনি,’ বললেন তারিণীখুড়ো। তিনি যখন রিটায়ার করেন তখন তোরা সবে জন্মেছিস।’   ‘তবু আপনি…

Read Moreজুটি – সত্যজিৎ রায়

নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ – সত্যজিৎ রায়

কোনো মানুষই তার নিজের অবস্থা সম্পর্কে ষোল আনা সন্তুষ্ট বোধ করে না। কোনো-না-কোনো ব্যাপারে একটা খুঁতখুঁতেমির ভাব প্রায় সবার মধ্যেই থাকে। রাম ভাবে তার শরীরে আরো মাংস হল না কেন—হাড়গুলো বড্ড বেশি বেরিয়ে থাকে; শ্যাম ভাবে—আমার কেন গলায় সুর নেই,…

Read Moreনিধিরামের ইচ্ছাপূরণ – সত্যজিৎ রায়

কানাইয়ের কথা – সত্যজিৎ রায়

এক নসু কবরেজ প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে বলরামের নাড়ী ধরে বসে রইলেন। শিয়রের কাছে দাঁড়িয়ে বলরামের সতের বছরের ছেলে কানাই কবরেজের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে। আজ দশ দিনহল তার বাপের অসুখ। কোনো কিছু খাবারে তার রুচি নেই; এক টানা দশ…

Read Moreকানাইয়ের কথা – সত্যজিৎ রায়

রতন আর লক্ষ্মী – সত্যজিৎ রায়

এক ঠিক কখন থেকে রতনের মনটা খুশিতে ভরে আছে সেটা রতন জানে। দশদিন আগে ছিল চৈত সংক্রান্তি। রতন থাকে শিমুলিতে। সেখান থেকে চার ক্রোশ দূরে উজলপুরে সংক্রান্তির খুব বড় মেলা হয়। রতন গিয়েছিল সেই মেলা দেখতে। শুধু দেখতে নয়, মেলা…

Read Moreরতন আর লক্ষ্মী – সত্যজিৎ রায়