মুকুন্দপুরের মনসা (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শেয়ার করুনঃ

তিন 

সাংবাদিকতার কাজে মাঝে-মাঝেই আমাকে বাইরে যেতে হয়। যখনই যাই, হালকা হাতে যাই, বোঝা বাড়াই না। এবারে যে-জন্যে যাচ্ছি, তার সঙ্গে অবশ্য আমার কাজের কোনও সম্পর্ক নেই। যাঁর কাজ, আমি তাঁর সঙ্গী মাত্র। কোথায় থাকব, কে জানে। তবে থাকব তো মাত্রই কয়েকটা দিন। তাও, যতদূর আঁচ করতে পারছি, গাঁয়ের মধ্যেই থাকতে হবে। রোজ-রোজ অতএব ধুতি-পাঞ্জাবি পালটাবার কোনও দরকার হবে না!

 

বাসন্তীও সে-কথা বুঝতে পেরেছিল। একটা হ্যান্ড-ব্যাগের মধ্যে যৎসামান্য জামাকাপড় গুছিয়ে দিতে দিতে সে তাই বলল, “মনে হচ্ছে, এতেই হয়ে যাবে। তবে কিনা যাচ্ছ তো নর্থবেঙ্গলে, সেখানে এই সময়ে একটু একটু শীত পড়ে, তাই একটা সোয়েটার আর হাল্কা একটা আলোয়ানও দিয়ে দিলুম। আর এই দেখে নাও, গতবারে তো বাইরে যাবার সময় শেভিং কিট্‌টা নিতে ভুলে গিয়েছিলে, সেটাও এখানে ব্যাগের এই একধারে ঢুকিয়ে দিয়েছি। একটা চিরুনি আর তোয়ালেও রইল। একটা টর্চও দিলুম। দ্যাখো, আর-কিছু লাগবে?”

 

লাগবে কি না, ভাবার সময় পাওয়া গেল না, রাস্তায় হর্ন বেজে উঠল। বোঝা গেল, ট্যাক্সি নিয়ে ভাদুড়িমশাই হাজির।

 

ছেলেমেয়েরা তখনও ঘুমোচ্ছে। বাসন্তীকে বললুম, “মাদ্রাজ যাওয়ার দিনটা দু’-চার দিন পিছিয়ে গেল। ভালই হল। তুমি এবারে ধীরে-সুস্থে গোছগাছ করে নিতে পারবে।”

 

বাসন্তী বলল, “সন্ধের পরে যদি বাইরে বেরুতে হয় তো টর্চটা সঙ্গে নেবে; আলোয়ান মুক্তি না-দিয়ে বেরুবে না!”

 

বললুম “হ্যাঁ, হ্যাঁ, একেবারে আপাদমস্তক একটি নকুড়মামা হয়ে বেরুব।” বলে নীচে এসে গাড়িতে উঠে পড়লুম।

 

সকালবেলার শহর। রাস্তায় ভিড়ভাট্টা নেই। মোড়ের দোকান থেকে দু’প্যাকেট সিগারেট কিনে নিলুম। তারপরেই বড়রাস্তায় পড়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে আমাদের ট্যাক্সি ছুটল এয়ারপোর্টের দিকে।

 

রাত্ত্বির থেকেই একটা কথা মাঝে-মাঝে মনে হচ্ছিল। কাল তো ছিল রবিবার, তা হলে প্লেনের টিকিট জোগাড় হল কীভাবে?

 

কথাটা ভাদুড়িমশাইকে জিজ্ঞেস করতে তিনি বললেন, “টিকিট তো জোগাড় হয়নি।”

 

“তা হলে?”

 

“অত ভাবছেন কেন, টিকিট অনেক সময় এয়ারপোর্টেও পাওয়া যায়। তবে হ্যাঁ, আসন খালি থাকা চাই। তা যদি না থাকে তো পাওয়া যাবে না।”

 

“ধরুন পাওয়া গেল না। সে-ক্ষেত্রে কী করব?”

 

“সে-ক্ষেত্রে আজ না-গিয়ে কাল যাব। শিলিগুড়ির ক্লায়েন্টকেও সে-কথা জানিয়ে রেখেছি। তবে এখনই সে-কথা উঠছে কেন? দেখাই যাক না, কপালে থাকলে পেয়েও তো যেতে পারি। অনেকেই তো পেয়ে যায়।… আর হ্যাঁ, এয়ারপোর্টে পৌঁছে আগেই দুজনের ভিতরে ঢুকবার দরকার নেই। আপনি বরং হ্যান্ড-ব্যাগ দুটো নিয়ে বাইরে একটু অপেক্ষা করবেন, আমি ভিজিটর’স টিকিট কেটে ভিতরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসব যে, বাগডোগরার দুটো টিকিট পাওয়া যাবে কি না।”

 

ভিজিটর’স টিকিট কাটবার অবশ্য দরকারই হল না। এয়ারপোর্টে নেমে ট্যাক্সি ভাড়া মেটাচ্ছি, এমন সময় এক ভদ্রলোক আমাদের সামনে এসে ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি কি মিঃ ভাদুড়ি।”

 

“হ্যাঁ,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু আপনাকে তো চিনতে পারলুম না।”

 

“নমস্কার।” ভদ্রলোক বললেন, “আমার নাম বিপিনবিহারী সেন। শিলিগুড়ির মিঃ চৌধুরিকে তো আপনি চেনেন, তা কাল বিকেলে তিনি আমাকে ফোন করে বললেন, আপনারা দুজন আজ সকালের ফ্লাইটে বাগডোগরা যাবেন, আমি যেন এয়ারপোর্টে এসে দুখানা টিকিট আপনাদের পৌঁছে দিই।”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু আমিই যে চারু ভাদুড়ি, তা আপনি জানলেন কী করে?”

 

বিপিন সেন বললেন, “খুব সহজেই জানা গেল। আজকের ‘দৈনিক সমাচার’ দেখেননি বুঝি? তাতে বীরভূমের মন্দির থেকে চুরি যাওয়া মূর্তির উদ্ধারের খবর ছাপা হয়েছে। সেই সঙ্গে বেরিয়েছে এ-ব্যাপারে আপনার কৃতিত্বের কাহিনি আর ফোটোগ্রাফ। তা ফোটোগ্রাফ যখন দেখেছি, আসল মানুষটাকে তখন চিনতে পারব না কেন?”

 

আমি বললুম, “খবরের কাগজের ছাপা আজকাল অনেক পরিষ্কার হয়েছে, তাই চিনতে পারলেন, আগেকার দিন হলে পারতেন না। সেকালের এক নিউজ এডিটরের কাছে শুনেছি, তিনি যখন তাঁর চাকরি-জীবন শুরু করেন, অনেক কাগজই তখন নাকি আন্দাজে পড়তে হত। আর ছবি যা ছাপা হত, তা দেখে নাকি বোঝাই যেত না যে, কোনটা সম্রাট পঞ্চম জর্জের ছবি আর কোনটা…”

 

বলতে যাচ্ছিলুম ‘হিন্ডেনবুর্গের’। কিন্তু বলা হল না। বিপিনবাবু আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “দাঁড়ান দাঁড়ান, কী একটা অ্যানাউন্সমেন্ট হচ্ছে।”

 

“এয়ারপোর্টের প্রবেশ-পথের ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলুম আমরা। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে যা ঘোষণা করা হচ্ছিল, তার প্রথমটা ভাল করে শুনতে পাইনি। শুধু শেষটা শুনলুম, প্রসিড ফর ইয়োর সিকিওরিটি চেক্।”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমাদের ফ্লাইট। তা হলে আর দেরি করব না। মিঃ সেন, আপনার কোনও মেসেজ আছে? মানে শিলিগুড়িতে মিঃ চৌধুরিকে কিছু বলতে হবে?”

 

বিপিনবাবু বললেন, “না না, তেমন কিছু বলবার নেই। শুধু জানিয়ে দেবেন যে, আমার আর সঞ্জীববাবুর তো এই ফ্লাইটে বাগডোগরা যাবার কথা ছিল। তা আমাদের টিকিট দুখানা তো আপনাদের দিয়ে দিলুম, আমরা তাই এ-সপ্তাহে না-গিয়ে সামনের সপ্তাহে গিয়ে ওঁর সঙ্গে দেখা করব। ব্যাবসার কথাবার্তা যা হবার, তা তখনই হবে।”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “টিকিট দুখানার দামটা তা হলে রাখুন।”

 

“আরে ছি ছি,” বিপিনবাবু তিন-পা পিছিয়ে গিয়ে বললেন, “দাম নিয়ে আপনি ব্যস্ত হবেন না। ও-সব আমার আর চৌধুরির ব্যাপার, আমরা বুঝব। আচ্ছা, তা হলে আমি চলি। আপনারা এগোন।”

 

বিপিনবাবুকে ধন্যবাদ দিয়ে আমরা ভিতরে ঢুকে কাউন্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালুম।

 

যাঁদের সঙ্গে মালপত্রের ঝামেলা নেই, তাঁদের জন্যে আলাদা লাইন। সেখানে নেহাতই জনা পাঁচ-ছয় লোক দাঁড়িয়ে আছেন। ফলে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। টিকিট দেখিয়ে বোর্ডিং কার্ড নিয়ে সিকিওরিটি পেরিয়ে আমরা ডিপার্চার লাউঞ্জে ঢুকে পড়লুম।

 

ঢুকেই আমাদের কাগজের রিপোর্টার চন্দ্রমাধবের সঙ্গে দেখা। চন্দ্রমাধব বাগডোগরা থেকে দার্জিলিং যাবে। বলল, “আপনিও দার্জিলিং যাচ্ছেন নাকি কিরণদা?”

 

বললুম, “না চাঁদু, আমি তোমার মতো ভাগ্যবান নই। গেলে অবশ্যই ভাল হত, কিন্তু না, অন্তত এ যাত্রায় আমি দার্জিলিং যাচ্ছি না।”

 

“তা হলে কোথায় যাচ্ছেন?”

 

“আপাতত শিলিগুড়ি যাচ্ছি।”

 

“সে তো আপাতত। শিলিগুড়ি থেকে যাচ্ছেন কোথায়?”

 

বললুম, “তুমি যে পুলিশের লোকেদের মতো জেরা করতে শুরু করলে! তা হলে শোনো, আমার বন্ধুটি যদি শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় ফিরতে চান তো কলকাতায় ফিরব। আর যদি শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি যেতে চান তো অগত্যা আমাকেও সেখানে যেতে হবে।”

 

ভাদুড়িমশাই ইতিমধ্যে আমাদের কাছ থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে একটা চেয়ারে বসে পড়েছিলেন। হ্যান্ডব্যাগ থেকে একটা ম্যাগাজিন বার করে নিয়ে চুপচাপ তার পাতা ওলটাচ্ছিলেন তিনি। চন্দ্রমাধব একবার আড়চোখে তাঁকে দেখে নিয়ে বলল, “আপনি কিছু লুকোচ্ছেন দাদা। নিশ্চয় কোনও ক্রাইম-ডিটেকশানের ব্যাপারে কোথাও যাচ্ছেন। কিন্তু কোথায় যাচ্ছেন, সেটা ফাঁস করছেন না।”

 

হেসে বললুম, “ডিটেকশানের কথা উঠছে কেন?”

 

নিচু গলায় চন্দ্রমাধব বলল, “আপনার বন্ধুটি তো একজন ফেমাস ডিটেকটিভ। সেইজন্যেই উঠছে।”

 

আশ্চর্য হয়ে বললুম, “বটে? তা তুমি সে-কথা কী করে জানলে?”

 

“বা রে,” চন্দ্রমাধব বলল, “আমাদের কাগজেই তো আজ তিনের পাতায় ওঁর ছবি বেরিয়েছে। কেন, আপনি দেখেননি?”

 

“কাগজ পড়বার সময় পেলে তো দেখব।”

 

ছবিটা মনে হচ্ছে সবাই দেখেছে, একমাত্র আমি আর ভাদুড়িমশাই ছাড়া। ভাদুড়িমশাইকে সে-কথা বলতে তিনি বললেন, “আপনার বন্ধুটি আমাকে চিনতে পেরেছেন?”

 

“নিশ্চয়।”

 

“এবং এটাও তিনি দেখলেন যে, আমরা বাগডোগরা যাচ্ছি।”

 

“তা তো দেখলই! কেন, তাতে কি কোনও ক্ষতি হবার আশঙ্কা আছে?”

 

“ক্ষতি কেন হবে?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “বরং আপনার বন্ধুটি এই ফ্লাইটে আমাদের সহযাত্রী হওয়াতে আমি নিশ্চিন্ত বোধ করছি। না মশাই, ক্ষতির আশঙ্কা আর নেই।”

 

কথাটার মানে বুঝতে পারলুম না।

 

প্লেন ছাড়ল আরও আধ ঘন্টা বাদে।

 

মাথার উপরকার লকারের মধ্যে হ্যান্ডব্যাগ দুটোকে ঢুকিয়ে রাখতে-রাখতে দেখলুম, চন্দ্ৰমাধব যেখানে জায়গা পেয়েছে, আমরা তার থেকে বেশ কিছুটা দূরে রয়েছি। অর্থাৎ আমাদের কথাবার্তা যে ও শুনতে পাবে, এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। ভাদুড়িমশাইও সেটা লক্ষ করেছিলেন। সিট-বেলট বাঁধতে-বাঁধতে তবু তিনি গলাটা একটু নামিয়ে নিয়ে বললেন, “ওই যে তখন আপনাকে বললুম, আপনার বন্ধুটি এই ফ্লাইটে যাওয়াতেই বরং আমি নিশ্চিন্ত বোধ করছি, আমার এই কথাটার অর্থ বোধহয় আপনি ধরতে পারেননি। তাই না?”

 

টফি আর লজেন্সের থালা নিয়ে এয়ার-হোস্টেস আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। থালা থেকে দুটো লজেন্স তুলে নিয়ে একটি ভাদুড়িমশাইকে দিলুম, তারপর নিজেরটাকে মুখের মধ্যে চালান করে দিয়ে বললুম, “সত্যিই পারিনি। কেন ও-কথা বললেন বলুন তো?”

 

“বলছি। তার আগে বরং আর-একটা কথা বলি। এই ফ্লাইটে যারা আমাদের সহযাত্রী, তারা সব্বাই যে নিজের-নিজের টিকিটে যাচ্ছে, তা ভাববেন না। যেমন আমরা দুজনে, তেমনি আরও দু’-চারজন প্যাসেঞ্জার নিশ্চয় অন্যের টিকিটে ট্রাল করছে।”

 

“তা করুক না। তাতে ক্ষতি কী।”

 

“কাজটা বেআইনি।”

 

“তা হোক না, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের তো তাতে কোনও লোকসান হচ্ছে না। যার নামে যে-ই ট্রাল করুক, টিকিটের দাম তো তারা পেয়েই গেছে।”

 

“তা যে পেয়েছে, সে তো আমিও জানি।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “কিন্তু বিপদ তাতে কমছে না। কাজটা শুধু বেআইনি নয়, ঘোর বিপজ্জনকও বটে।”

 

“এ-কথা বলছেন কেন?”

 

‘এইজন্যে বলছি যে, আমি একটু সন্দেহবাতিকগ্রস্ত মানুষ। সেটা অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। যে-ধরনের কাজ আমাকে করতে হয়, তাতে কাউকেই একেবারে ষোলো-আনা বিশ্বাস করা চলে না।”

 

অবাক হয়ে বললুম, “এ-ক্ষেত্রে কাকে অবিশ্বাস করছেন?”

 

প্লেন আকাশে উঠে পড়েছে। সিট-বেল্ট খুলতে খুলতে চারু ভাদুড়ি বললেন, “কাকে নয়? এই ধরুন, শিলিগুড়ি থেকে যিনি আমাকে ফোন করেছিলেন, সেই সত্যপ্রকাশ চৌধুরিকে কি আমি চিনি? চিনি না। তারপরে এই যে বিপিনবিহারী সেন নামে যে ভদ্রলোকটি এয়ারপোর্টে এসে দুখানা টিকিট আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলেন, তিনিও আমার সম্পূর্ণ অচেনা মানুষ। বিপিনবাবু আমাদের যে দুটি টিকিট দিয়েছেন, তার একখানা তাঁর নিজের নামে, আর অন্যখানা সঞ্জীব বিশ্বাসের নামে কেনা হয়েছিল।”

 

“তাতে হয়েছে কী?”

 

“কিছুই হত না, যদি এঁরা আমার চেনা মানুষ হতেন। মুশকিল এই যে, এঁদের একজনও আমার চেনা নন। সত্যি বলতে কী, এঁরা ভাল লোক না মন্দ লোক, সরল লোক না মতলববাজ, সে-বিষয়ে কোনও ধারণাই আমার নেই। হতে পারে যে, এঁরা খুবই ভাল লোক; আবার শেষ পর্যন্ত যদি দেখা যায় যে, এঁরা প্রত্যেকেই একেবারে হাড়ে-বজ্জাত, তো তাতেও আমি অবাক হব না। আসলে এই দ্বিতীয় সম্ভাবনাটার কথা ভেবেই আমি প্রথম-দিকটায় একটু সতর্ক থাকার পক্ষপাতী।”

 

“তা তো বুঝলুম, কিন্তু চন্দ্রমাধব এই ফ্লাইটে থাকায় আপনি নিশ্চিন্ত হচ্ছেন কেন?”

 

“বলছি। ধরুন, আমরা তো এখন কলকাতার বাইরে, তা আজই দুপুরে বিপিন বিহারী সেন কলকাতায় একটা ব্যাঙ্ক লুঠ করলেন কি কাউকে খুন করলেন।”

 

শিউরে উঠে বললুম, “সে কী?”

 

“অবাক হচ্ছেন কেন?” চারু ভাদুড়ি বললেন, “এমনটা তো হতেই পারে। কিন্তু ভদ্রলোক যদি পরে কখনও ধরাও পড়েন, তো আদালতে ওঁর অপরাধের কথাটা প্রমাণ করা সহজ হবে না।”

 

“কেন হবে না?”

 

“এইজন্যে হবে না যে, খুব সহজেই উনি একটা অ্যালিবাই খাড়া করতে পারবেন। উনি বলতে পারবেন যে, ব্যাঙ্ক লুঠ কিংবা খুনটা যে দিন হয়, উনি সেদিন কলকাতায় ছিলেন না, সকালের ফ্লাইটে উনি বাগডোগরা চলে গিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসও তাদের খাতাপত্র দেখে বলবে যে, হ্যাঁ, ওই নামের একজন প্যাসেঞ্জার সেদিন বাগডোগরার ফ্লাইটে ছিলেন বটে।”

 

“ফলে ব্যাঙ্ক লুঠ কিংবা খুন করেও উনি বেকসুর খালাস পেয়ে যাবেন?”

 

“না, তা পাবেন না।” চারু ভাদুড়ি হেসে বললেন, “কেননা, আপনার বন্ধুটিই সে-ক্ষেত্রে আদালতে এই সাক্ষ্য দেবেন যে, টিকিটটা বিপিনবাবুর নামে কাটা হয়েছিল বটে, কিন্তু সেই টিকিটে বিপিনবাবুর বদলে আমি সেদিন বাগডোগরা গিয়েছিলুম। তবে হ্যাঁ, বাগডোগরায় নেমেই আপনার বন্ধুকে সে-কথা জানিয়ে রাখতে হবে।”

 

একটু বাদেই আমাদের প্লেন বাগডোগরায় ল্যান্ড করল। প্লেন থেকে নেমেই চন্দ্রমাধবকে জানিয়ে দিলুম যে, আমরা অন্যের টিকিটে বাগডোগরায় এসেছি। চন্দ্রমাধব বলল, “সে তো অনেকেই অন্যের টিকিটে ট্রাভল করে, তাতে হয়েছে কী?”

 

কী যে হতে পারে, ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে কথা বলে সেটা বুঝতে পেরেছিলুম। তাই গম্ভীর গলায় চন্দ্রমাধবকে বললুম, “না হে চাঁদু, কাজটা তারা ভাল কবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *