ছাব্বিশ
সাড়ে নটায় খাবার ঘরে ডাক পড়ল। নিরুই ডাকতে এসেছিল। বলল, “জামাইবাবু আজ আর বোধ হয় ফিরতে পারবেন না, শিলিগুড়িতেই থেকে যাবেন।”
আমারও তা-ই মনে হচ্ছিল। তবু বললুম, “আর কিছুক্ষণ দেখলে হত না?”
চারু বলল, “আপনারা খেয়ে নিন। নইলে মা আর পিসিমাও খাবেন না।”
“রাত্তিরে ওঁরা কী খান?”
“একটু দুধ আর খই। দিতে তো গিয়েছিলুম। তা ওঁরা বললেন, আপনাদের খাওয়া আগে হয়ে যাক, তারপরে ওঁরা খাবেন।”
নিরুকে একটু লজ্জিত দেখাচ্ছিল। খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। ঝোঁকের মাথায় এমন অনেক কথা সে আজ বলেছে, একমাত্র সত্যপ্রকাশ ছাড়া আর কাউকেই যা হয়তো সে এতদিন বলেনি। তাঁকেও সব কথা বলেছে কি না কে জানে! লজ্জা নিশ্চয় তারই জন্যে। তবে কথা বলছিল হালকা গলায়। তাতে মনে হল, যা সত্য, বছরের পর বছর তাকে গোপন করে রাখার মধ্যে একটা গ্লানি থাকে তো, আর-কিছু না হোক, সেই গ্লানিটা সে আজ ধুয়ে ফেলতে পেরেছে। তারই ফলে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে হয়তো।
সত্যপ্রকাশ ছিলেন বলেই কাল খাবার টেবিল একেবারে জমজমাট ছিল। আজ তিনি নেই, তাই ছবিটা একেবারে অন্যরকম। মা আর পিসিমা অবশ্য যথারীতি এসে দুটি চেয়ার টেনে বসে আমাদের খাওয়ার তদারক করতে লাগলেন, কার কী লাগবে বলে দিতে লাগলেন নিরুকে, পেট ভরে খাওয়া সত্ত্বেও আরও কিছু-না-কিছু নেবার জন্যে আমাদের বারকয়েক অনুরোধ করলেন। রামদাসও যথারীতি এসে একধারে ঠায় সমস্তক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। কিন্তু সত্যপ্রকাশ না-থাকায় আহার-পর্বটা বিশেষ জমল না। প্রায় নিঃশব্দে খেয়ে উঠে বেসিনে হাত ধুয়ে আমরা ঘরে ফিরে এলুম।
মশলার ডিবে হাতে নিয়ে একটু বাদেই এল নিরু। ডিবেটা টিপয়ের উপরে রেখে দিয়ে বলল, “আপনারা তো একটু আগে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন। সেই ফাঁকে আপনাদের বিছানা আবার নতুন করে পেতে রাখা হয়েছে, জগের জলও পালটে দেওয়া হয়েছে। আর হ্যাঁ, জামাইবাবুর কথামতো দু প্যাকেট সিগারেট আর দুটো দেশলাই আপনাদের দুজনের টেবিলে রেখে দিয়েছি। এখন বলুন, আর কিছু লাগবে? কাগজ কি কলম কি অন্য কিছু? লাগে তো বলুন, এনে দিচ্ছি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিচ্ছু লাগবে না। তুমি এবারে গিয়ে মা আর পিসিমাকে খেতে দাও।”
নিরু চলে গেল।
ভাদুড়িমশাই একটা সিগারেট ধরিয়ে নিঃশব্দে টানলেন কিছুক্ষণ। জিজ্ঞেস করলুম, “এবারে কি শুয়ে পড়া যায়?”
ভাদুড়িমশাই কোনও উত্তর দিলেন না। বুঝলুম, তিনি কিছু ভাবছেন।
সিগারেটটা শেষ হবার পরে তার গোড়ার দিকটাকে অ্যাশট্রেতে পিষে দিয়ে হঠাৎ তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তারপর বললেন, “আপনার টর্চটা একবার দিন তো।”
টর্চটা এগিয়ে দিয়ে বললুম, “আবার বেরুতে হবে নাকি?”
“আপনার আর বেরুবার দরকার নেই। আপনি বিক্রাম করুন। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ে গেল, তাই ভাবছি যে, একটু ঘুরে আসব। যাব আর আসব, দেরি হবে না।”
টর্চটা হাতে নিয়ে বাইরের উঠোনের দিকের দরজা খুলে নিঃশব্দে বেরিয়ে গেলেন ভাদুড়িমশাই। একবার ভেবেছিলুম আমিও তাঁর সঙ্গে যাই। কিন্তু গেলুম ন’। ভাদুড়িমশাইয়ের কথা থেকে আমি বুঝতে পেরেছিলুম যে, যে-কোনও কারণেই হোক, একাই তিনি বেরুতে চাইছেন।
শুয়ে পড়লে ঘুম এসে যেতে পারে। অথচ ভাদুড়িমশাই যেহেতু বাইরে, তাই দরজায় খিল দেবারও উপায় নেই। এই অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়াটা উচিত হবে না। কলকাতা থেকে যে ম্যাগাজিনগুলো নিয়ে এসেছিলুম, বসে-বসে তারই একটার পাতা ওলটাতে লাগলুম।
ভাদুড়িমশাই অবশ্য আধ ঘন্টার মধ্যেই ফিরে এলেন। বললেন, “যাক, ঘুমিয়ে পড়েননি দেখছি।”
“এই অবস্থায় ঘুম হয়?… তা ঘুরে তো এলেন, কিছু চোখে পড়ল আপনার?”
“দুটো জিনিস চোখে পড়ল। এক, সাধুবাবার ঘর থেকে আমাদের রঙ্গনাথবাবু বেরিয়ে এলেন। দুই, রামদাসের কান খুবই সজাগ। অন্ধকারে আমাকে দেখতে পায়নি, কিন্তু ওদের ঘরের পিছনে গিয়ে চুপ করে একবার দাঁড়িয়েছিলুম তো, তখন আমার পায়ের একটা হালকা শব্দ নিশ্চয় পেয়ে থাকবে।”
“কী করে বুঝলেন?”
“তক্তাপোশে বসে ছিল, হঠাৎ ‘কে ওখানে’ বলে চেঁচিয়ে উঠল।”
“জগদীশকে দেখতে পেলেন?”
“পেয়েছি, কথাও হয়েছে। লোকটা যেন একটা ছায়ার মতো ঘুরে বেড়ায়। বলতে গেলে প্রায় সারাক্ষণই আমার কাছে-কাছে ছিল, অথচ প্রথম পাঁচ-সাত মিনিট সেটা আমি বুঝতেই পারিনি। ওকে নিয়ে কোনও ভাবনা নেই। ও যতক্ষণ পাহারায় আছে, রঙ্গিলার ধারেকাছে যাবারও ক্ষমতা কারও হবে না।”
“রঙ্গনাথের ব্যাপারটা কিছু বুঝলেন? এত রাত্তিরে উনি সাধুবাবার আখড়ায় গিয়েছিলেন কেন?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী করে বলব? আমরা শুধু আশা করতেই পারি।”
“কী রকম?”
“এই যেমন আমি আশা করছি যে, কোনও বদ মতলব নিয়ে উনি ওখানে যাননি। গিয়েছিলেন সাধুবাবাকে একটা অনুরোধ করতে।”
“কী অনুরোধ?”
“স্পষ্ট করে সেটা জানবার তো উপায় নেই। তবে অনুমান করতে পারি যে, গ্রামের লোকেরা যে সাধুবাবার উপরে বেজায় খাপ্পা হয়ে গেছে, সেটা বুঝিয়ে বলতে গিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে এই অনুরোধটাও ওঁকে হয়তো করেছেন যে, এই অবস্থায় উনি যেন আর মনসাদেবীর নিন্দেমন্দ করে না বেড়ান।… আর-কিছু জিজ্ঞেস করবেন?”
“না।”
“এবারে তবে আমি একটা প্রশ্ন করি আপনাকে।”
বললুম, ‘আপনার আবার কী প্রশ্ন?”
“দমদম এয়ারপোর্টে আপনার এক কলিগের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল। ভদ্রলোক আমাদের সঙ্গে বাগডোগরা পর্যন্ত আসেন। আপনিই বলেছিলেন যে, উনি আপনাদের কাগজের রিপোর্টার। নাম চন্দ্রমাধব। ঠিক বলেছি?”
“হ্যাঁ। তা চন্দ্ৰমাধব আবার কী করল?”
“কিছু করেনি।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “ভদ্রলোক দার্জিং যাবেন বলছিলেন না?”
“হ্যাঁ, তবে এখনও হয়তো যায়নি। চন্দ্রমাধব আসলে শিলিগুড়ির ছেলে। শিলিগুড়িতে দু’চার দিন না-কাটিয়ে নিশ্চয় দার্জিলিং যাবে না।”
“আপনার সঙ্গে ওঁর কথা শুনে অন্তত সেইরকম মনে হয়েছিল। তা কাল যদি আমি একবার শিলিগুড়ি যাই, ওঁর দেখা পাওয়া যাবে?”
“মনে তো হয় পাবেন।”
“শিলিগুড়িতে কোথায় থাকেন উনি?”
“বাবুপাড়ায়। ওর বাবা খুবই নামজাদা ডাক্তার। সূর্যশঙ্কর সেন। তবে বাবার পরিচয় দেবার দরকার হবে বলে মনে হয় না, বাবুপাড়ায় ঢুকে চন্দ্রমাধবের নাম করলেই চলবে। কিন্তু কাল আপনি শিলিগুড়ি যাবেন কেন?”
“এখানকার কাজ মোটামুটি শেষ হয়েছে, এখন একবার শিলিগুড়ি থেকে ঘুরে এলেই ছবিটা একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়। আপনার যাবার দরকার নেই। একাই যাব। বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসব আবার।…নিন, এবারে শুয়ে পড়ুন।”
.
রামদাস না-ডাকলে নিশ্চয় ঘুম ভাঙতে অনেক দেরি হত। চোখ খুলে দেখি, হাতে চায়ের কাপ নিয়ে রামদাস দাঁড়িয়ে আছে।
জিজ্ঞেস করলুম, “কটা বাজে?”
“সাতটা”
ভাদুড়িমশাইয়ের বিছানার দিকে তাকিয়ে তাঁকে দেখতে পেলুম না। বললুম, “তোমাকে দরজা খুলে দিল কে?”
রামদাস বলল, “দরজা তো খোলাই ছিল, বাবু।”
বুঝতে পারলুম যে, ভাদুড়িমশাই আমার আগেই ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে বেরিয়েছেন। ভদ্রলোক নিশ্চয় ভেবেছেন, আগের রাত্তিরে ঘুম না-হওয়ায় আমার মন-মেজাজ বিশেষ ভাল নেই, তাই আমাকে আর ডাকেননি।
বললুম, “ভাদুড়িমশাইকে চা দিয়েছ রামদাস?”
“চায়ের কথা জিজ্ঞেস করেছিলুম,” রাদাস বলল, “তা বাবু বললেন যে, এখন আর চা খাবেন না, ফিরে এসে খাবেন।”
চা শেষ করে রামদাসের হাতে পেয়ালা-পিরিচ ধরিয়ে দিয়ে বললুম, “রঙ্গিলা কেমন আছে?”
“কাল রাতে আর জ্বর আসেনি বাবু, সকালেও দেখলুম যে, গা একেবারে পাথরের মতো ঠান্ডা। আমাকে দেখে একটু হাসলও যেন। মনে তো হয় চিনতে পেরেছ। তবে কথা বলছে না।”
“তাও বলবে নিশ্চয়। জ্বরটা যখন ছেড়েছে, তখন আর চিন্তা কোরো না, এবারে ঠিকই সুস্থ হয়ে উঠবে।”
“তা-ই বলুন, বাবু। মেয়েটার বাপ মারা গেছে, মা’টা থেকেও নেই, পুজো-আচ্চা নিয়ে ছিল, তার মধ্যে এই কান্ড।”
রামদাস চলে যাচ্ছিল। যেতে-যেতে দরজা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, “হাত-মুখ ধুয়ে নিন বাবু, গোপালের মা’কে দিয়ে কাগজ পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
“কাগজ মানে?”
“কলকাতা থেকে শিলিগুড়িতে যে খবরের কাগজ আসে, সেই কাগজ। খোকাবাবু কাল শিলিগুড়ি থেকে নিয়ে এসেছে।”
“বলো কী! সত্যপ্রকাশবাবু কি রাত্তিরেই ফিরে এসেছেন নাকি?”
“হ্যাঁ বাবু,” রামদাস একগাল হেসে বলল, “বারোটা নাগাদ ফিরেছে। আপনাদের কথা জিজ্ঞেস করেছিল। ঘুমিয়ে পড়েছেন শুনে আর ডাকেনি।”
রামদাস ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমি গিয়ে বাথরুমে ঢুকলুম। মুখ-হাত ধুয়ে, দাড়ি কামিয়ে, স্নান-টান সেরে বেরিয়ে দেখি, ভাদুড়িমশাই ফিরে এসেছেন। ইতিমধ্যে কাগজ দিয়ে গিয়েছিল, ইজিচেয়ারে বসে তার উপরে চোখ বুলোচ্ছেন তিনি।
বললুম, “কোথায় গিয়েছিলেন?”
কাগজ থেকে চোখ না তুলেই ভাদুড়িমশাই বললেন, “এই একটু ঘুরে এলুম।”
“হাত-মুখ ধুয়েছেন?”
“শুধু হাত-মুখ ধোয়া কেন, স্নানও সেরে নিয়েছি। আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন, টের পাননি। “সত্যপ্রকাশ শুনলুম রাত্তিরেই ফিরে এসেছেন।”
“তাও শুনেছি। তবে দেখা হয়নি। দেখা হলে ব্যাঙ্কের ব্যাপারটা বোঝা যাবে।”
চুল আঁচড়াবার জন্যে টেবিল থেকে চিরুনিটা তুলতে গিয়ে দেখি, সেখানে একটা চুলের কাঁটা পড়ে আছে। বললুম, “আরে, এটা আবার কোত্থেকে এল?”
ভাদুড়িমশাই কাগজে চোখ রেখেই বললেন, “কাঁটার কথা বলছেন? কাল রাত্তিরে তো একা একবার ঘুরতে বেরিয়েছিলুম। তখন রঙ্গিলাদের ঘরের পিছনে এটা কুড়িয়ে পেয়েছি।”
“কার চুলের কাঁটা?”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “ভূতের।” তারপর একেবারে অন্য প্রসঙ্গে গিয়ে বললেন, “একটু বাদেই ব্রেকফাস্টের ডাক পড়বে। আজ কী খাব বলুন তো?”
“কী জানি।”
“পরোটা আর আলুর দম। তার সঙ্গে থাকবে আতা-ক্ষীর।”
“কী করে বুঝলেন?”
“খুব সহজেই বোঝা গেল। সাত-সকালে ঘুম থেকে উঠে ভিতরের উঠোনের দিকের দরজা খুলে বারান্দায় এসে দেখি, মা আর পিসিমা আমার আগেই উঠে পড়েছেন। পিসিমা মুখ ধুচ্ছেন উঠোনের টিউবওয়েলে, আর মা রয়েছেন রান্নাঘরে। সেখান থেকে মা বললেন, ‘তোমার হাতের আলুর দম তো সতুর ভারী পছন্দ ঠাকুরঝি, তা তুমি এসে সেটার ব্যবস্থা করো, আর আমি এদিকে পরোটার জন্যে ময়দা ঠেসে রাখি।’ তাতে টিউবওয়েল থেকে পিসিমা বললেন, ‘পরোটা আর আলুর দম না হয় হল, কিন্তু মিষ্টির কী হবে বৌদি? আমি বলি কী, ঘরে তো বড়-বড় গোটাকয় আতা রয়েছে, তুমি বরং আতা-ক্ষীর করো, সতুর ওটাও খুব পছন্দের খাবার।’ তো কিরণবাবু, এই হচ্ছে ব্যাপার।”
ভাদুড়িমশাইয়ের কথা শেষ হতে-না-হতেই ভেজানো দরজায় টোকা পড়ল। সেই সঙ্গে সত্যপ্রকাশের গলা শোনা গেল, “আসতে পারি?”
বললুম, “আসুন, আসুন। আপনি যে রাত্তিরেই ফিরেছেন, সে-খবর একটু আগে পেলুম।”
সত্যপ্রকাশ একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলেন। বললেন, “ব্রেকফাস্ট রেডি। চলুন, খাবার ঘরে গিয়ে কথা বলা যাক।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কাজ হল?”
সত্যপ্রকাশ শুকনো হেসে বললেন, “জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেছিলুম, তা লোনের ব্যাপারে তিনি কিছু কমিট করেননি। ডিনারে ডেকেছিলুম। বললেন যে, সময় হবে না। অর্থাৎ লক্ষণ সুবিধের নয়। তা আমি দেখলুম, তবে আর শিলিগুড়িতে রাত কাটিয়ে কী হবে, তাই রাত্তিরেই ফিরে এলুম।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “সম্পৎলালকে খবরটা দেবার ব্যবস্থা করেছেন?”
“যাকে পাঠিয়েছিলুম, সম্পৎলালের সঙ্গে সে যোগাযোগই করতে পারেনি।”
“ব্যাঙ্কের জেনারেল ম্যানেজার কি কলকাতায় ফিরে গেছেন?”
“না। শুনলুম যে, আরও দু’দিন তিনি শিলিগুড়িতে থাকবেন। এখানকার ব্রাঞ্চের ট্রানজাকশানে নাকি কীসব গন্ডগোল ধরা পড়েছে। সেইজন্যেই আরও দু’দিন থেকে যাবেন তিনি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমার এখানকার কাজ মোটামুটি শেষ করে এনেছি। এখন একবার শিলিগুড়ি যাওয়া দরকার।”
“শিলিগুড়ি কেন?”
“ওখান থেকে বর্ডার খুব কাছে তো, মাল পাচার করার তাই মস্ত সুবিধে। একটু খোঁজখবর নিতে চাই।”
“কিছু আন্দাজ করতে পেরেছেন?”
“কিছুটা পেরেছি। মনে হচ্ছে কালকের মধ্যে বাকিটাও পেরে যাব। সেইজন্যেই একবার শিলিগুড়ি যেতে চাইছি। আপনার গাড়িটা যদি পাই, তো বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসতে পারব।”
“স্বচ্ছন্দে নিয়ে যান।” সত্যপ্রকাশ বললেন, “অ্যাম্বাসাডারটা তো আছেই, কাল আবার সুবিমলের ফিয়াটটা নিয়ে চলে এসেছি। দুটোই রয়েছে। যেটা আপনার খুশি।”
“আর-একটা কথা।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আয়াটি যখন থাকতে চাইছে না, ওকেও তখন শিলিগুড়িতে নিয়ে যাই। যার থাকার ইচ্ছে নেই, তাকে না-রাখাই ভাল। শিলিগুড়ি থেকে বরং আর-কোনও আয়াকে নিয়ে আসব।”
“সুশীলা একেবারেই থাকতে চাইছে না?”
“না। কাল বিকেলে ডাক্তারবাবুকে অন্তত সেই কথাই বলেছিল।”
সত্যপ্রকাশের মুখখানা একটু কঠিন দেখাল। একটু ভেবে বললেন, “ঠিক আছে, ওকে তা হলে নিয়েই যান। রামদাসকে বলে দিচ্ছি, ওকে তৈরি হয়ে নিতে বলুক।”
কথা বলতে-বলতে আমরা খাবার ঘরে এসে ঢুকলুম। ব্রেকফাস্টের ব্যাপারে ভাদুড়িমশাই দেখলুম ঠিকই বলেছিলেন। পরোটা আর আলুর দম তো ছিলই, তার সঙ্গে ছিল আতা-ক্ষীর। তবে খাওয়ার ব্যাপারে ভাদুড়িমশাইয়ের বিশেষ উৎসাহ দেখা গেল না।
চটপট ব্রেকফাস্ট শেষ করে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। রামদাস এসে বলল, আয়া তার জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে অপেক্ষা করছে। ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি তা হলে ফিয়াটটা নিয়ে যাচ্ছি।”
মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তিনি শিলিগুড়ি রওয়া হয়ে গেলেন।
