মুকুন্দপুরের মনসা (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
তেরো
রোদ্দুর এখন আর তত মোলায়েম নয়, আস্তে-আস্তে তেতে উঠছে। জাম্পারটা পরে থাকায় একটু যেন অস্বস্তি হচ্ছিল, রঙ্গনাথের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সেটা খুলে ফেললুম।
আটটা বাজে। সকালে স্রেফ এক গেলাস চা ছাড়া আর কিছুই পেটে পড়েনি। একটু-একটু খিদে পাচ্ছিল। খিদের কথাটা ভাদুড়িমশাইকে জানাতে তিনি বললেন, “এ তো মহা মুশকিলে পড়া গেল, গ্রামটা আর-একটু ঘুরে দেখব না?”
বললুম, “আপনি ঘুরে দেখুন, আমার খিদে পেয়েছে, কিছু খাওয়া দরকার, আমি ফিরে যাচ্ছি।”
“ফিরলেই কি আর ব্রেকফাস্ট মিলবে? কাল অত রাত্তিরে শোওয়া হল, সত্যপ্রকাশের ঘুম সম্ভবত ন’টা-দশটার আগে ভাঙবে না।”
“সত্যপ্রকাশের ঘুম ভাঙবার দরকার কী, কাল শিলিগুড়ি থেকে বিশাল এক প্যাকেট ক্ষীরের শিঙাড়া আনা হল, তার উপরে আবার ময়নাগুড়ি থেকে এক হাঁড়ি রসগোল্লা। তার সবই নিশ্চয় সাবাড় হয়ে যায়নি। রামদাসকে ডেকে বলব, ‘ভাঁড়ার-ঘরসে আভি চার-পাঁচঠো সামোসা অওর রসগুল্লা লে আও।’ তাতে কাজ হবে না?”
“একশোবার হবে,” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “তবে হিন্দির বদলে বাংলায় বললে কাজটা আরও সহজে হবে। রামদাস যে বাঙালি, সেটা ভুলে যাচ্ছেন কেন?”
“ঠিক আছে, তা হলে বরং বাংলাতেই বলব।”
“আমার মতে অবশ্য বাংলায় বলারও দরকার নেই,” ভাদুড়িমশাই তাঁর পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা চকোলেট-স্ল্যাব বার করে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, “আপাতত এইটে দিয়েই পিত্তরক্ষা রুন।”
“তা নয় করলুম, কিন্তু এখন আর ঘোরাঘুরি করতে পারব না।”
“ঠিক আছে, ঘোরাঘুরি করব না, তবে কিনা বাড়িতে গিয়ে ঢুকবার আগে একবার ফলের বাগানে ঢুঁ মারব :”
“ফলের বাগানে কেন?”
“আরে মশাই, ফল খাবার জন্যে নয়।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “ফল খেতে হয় তো সত্যপ্রকাশ খাবেন, আমার যে শুধু কর্মেই অধিকার. মা ফলেষু কদাচন, তা কি আর আমি জানি না?”
“ঠাট্টা ছাড়ুন, ফলের বাগানে যাব কেন?”
“বা রে, সাধুবাবার কথা ভুলে গেলেন? ওই বাগানেরই তো এক ধারে তাঁর আখড়া! চলুন, তাঁর সঙ্গে একবার দেখা কার দরকার।
বেলা বেড়েছে। পথঘাট এখন আর নির্জন নয়। লোকজন হাঁটাচলা করছে। সবাই স্থানীয় লোক। আমাদের দেখে যেভাবে তারা দাঁড়িয়ে পড়ছিল, তারপর হাঁ করে তাকিয়ে থাকছিল আমাদের দিকে, ভাতে মনে হল যে, গ্রামের পথে হঠাৎ দুজন অপরিচিত মানুষকে দেখে”,তারা একেবারে অবাক হয়ে গেছে।
বললুম, “মুকুন্দপুরে বোধহয় বাইরের লোকের দেশ। বিশেষ মেলে না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা কেন হবে? একে তো এই গ্রামটা হাইওয়ে থেকে খুব দূরে নয়, তার উপরে আবার, যতই সরু হোক, হাইওয়ে থেকে একটা পিচের রাস্তাও এই গাঁয়ের ভিতর দিয়ে চলে গেছে। তা ছাড়া ভাবুন, যেমন হাসিমারা তেমনি আলিপুরদুয়ারেও আপনি চট্ করে এখান থেকে পৌঁছে যেতে পারছেন। অর্থাৎ কিনা গ্রাম হিসেবে মুকুন্দপুর খুবই ছোট হতে পারে, তবে ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ইন দা মিড্ল অব নোহোয়্যার’, ঠিক সেই রকমের জায়গা এটাকে বলা যাচ্ছে না। বাইরের জগতের সঙ্গে এর যোগাযোগ রয়েছে, আর সেটা যখন রয়েছে, তখন নানা ধান্ধায় সেখান থেকে কিছু-না-কিছু লোকও এখানে মাঝেমধ্যে আসে নিশ্চয়।”
“তা যদি আসে, তবে এখানকার জিনিসেরই বা বাইরে যাওয়া বিচিত্র কী!”
“যেতেই পারে। যারা আসে, তারা সবাই কি একেবারে খাঁটি সাধুপুরুষ? তা তো আর বলা যাচ্ছে না। নকল থাকে তাদের মধ্যেও।”
শুনে আমি চমকে উঠলুম। ভাদুড়িমশাই কি তা হলে সত্যপ্রকাশের খুড়োমশাইকে সন্দেহ করছেন? রঙ্গনাথের যে-কথাটা আমি আচমকা শুনে ফেলেছি, তাতে তো আমার অন্য রকম সন্দেহ হয়েছিল।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী হল, সাধুদের মধ্যেও যে কিছু-না-কিছু ঝুটো মাল থাকে, এই কথাটা শুনে চমকে গেলেন বুঝি?”
বললুম, “অত আভাসে-ইঙ্গিতে কথা বলছেন কেন? খোলাখুলি বলুন তো, মুর্তি-চুরির ব্যাপারে কি চিত্তপ্রকাশকে আপনি সন্দেহ করছেন?”
“করাই তো স্বাভাবিক।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “মনসার উপরে উনি যে-রকম খাপ্পা, তাতে পুজোটা বন্ধ করবার জন্যে মুর্তি যদি উনি সরিয়ে থাকেন, তাতে অবাক হবার কিছু নেই। কিন্তু না, এখনও আমি তেমন-কোনও সন্দেহ করছি না।”
“কেন করছেন না?”
“এই জন্যে করছি না যে, মনসার উপরে ওঁর বিদ্বেষের কথাটা তা হলে উনি আর ফলাও করে বলে বেড়াতেন না। বরং এমন একটা ভাব দেখাতেন যে, মনসা-মুর্তি চুরি যাওয়ায় আর-সকলের মতো উনিও ভীষণ মুষড়ে পড়েছেন। …তবে কিনা এরও একটা অন্য ব্যাখ্যা সম্ভব।”
“সেটা কী?”
“বুঝলেন না? এই যে উনি মনসাকে গালাগাল করে বলে বেড়াচ্ছেন যে, মূর্তিটা বিদেয় হওয়ায় বাঁচা গেছে, এটাই হয়তো ওঁর মস্ত চালাকি। অর্থাৎ উনি ভাবছেন যে…কী ভাবছেন বলুন তো কিরণবাবু?”
“ভাবছেন যে, এইভাবে গালমন্দ করলে লোকে চটবে বটে, কিন্তু ওঁকে মুর্তি-চোর বলে সন্দেহ করবে না। এই তো?”
“ঠিক বলেছেন! একেবারে দশে দশ, ফুল মার্কস! … ব্যাপারটা তা হলে কী দাঁড়াল কিরণবাবু? “
“এই দাঁড়াল যে, সাধুবাবাকে এখনই আপনি মূর্তি-চোর বলে ভাবছেন না, আবার ওঁর অ্যাটি-মনসা হল্লা যে একটা চালাকির ব্যাপার হতে পারে, এই সম্ভাবনাটাকেও আপনি হিসেবের মধ্যে রাখনে। কেমন, ঠিক বলেছি?”
“অ্যাবসলিউটলি।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “আরও ঠিক কবে বলতে গেলে বলতে হয় যে, কাউকেই যেমন আমি চোর ভাবছি না, তেমনি কাউকেই আমি সাধুও ভাবছি না। এমন কী, সাধুবাবাকেও না। আই অ্যাম জাস্ট কিপিং মাই মাইন্ড ওপ্ন।”
কথা বলতে-বলতে আমরা বাগানের ধারে পৌঁছে গিয়েছিলুম। বাগানের এটা উত্তর দিক। কিছুটা কাদামাটি না-মাড়িয়ে বাগানের মধ্যে চলাফেলা করা শক্ত হবে, সে-কথা আগেই বলেছি। দিন কয়েক আগে খুব বৃষ্টি হয়েছিল নিশ্চয়, মাটি এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি। তবে চারপাশে একটু নজর করে দেখে এখন মনে হল যে, পুব দিক থেকে যদি বাগানে ঢুকি, পায়ে কাদা না-লাগিয়েও তা হলে সাধুবাবার ডেরায় পৌঁছনো হয়তো অসম্ভব হবে না। উত্তর দিকে থেকে খানিকটা ঘুরে তাই পুবদিকে চলে এলুম। এ দিক থেকে পঁচিশ-তিরিশ পা হাঁটলেই সাধুবাবার চালাঘর।
কিন্তু পাঁচ-পা হাঁটবারও দরকার হল না। মাটির দিকে চোখ রেখে, কাদা বাঁচিয়ে, অতি সন্তপর্ণে দু-তিন পা এগিয়েছি মাত্র, হঠাৎ সেই হুঙ্কার শোনা গেল : জয় শিবশম্ভো, জয় শঙ্কর!
বুকটা যে ধড়াস করে উঠেছিল, সে-কথা স্বীকার করাই ভাল!
সেকালের ডাকাতরা শুনেছি হাঁড়ির মধ্যে মুখ রেখে এমন বিকট আওয়াজ ছাড়ত যে, বনের বাঘও সেই হাঁকার শুনে পালাবার পথ খুঁজে পেত না। এও বলতে গেলে প্রায় সেই রকমেই পিলে চমকানো ব্যাপার।
মুখ ফিরিয়ে দেখি, সাধুবাবা আমাদের পিছনেই দাঁড়িয়ে আছেন। পায়ে খরম, জট পাকানো চুল মাথার উপরে চুড়ো করে বাঁধা, বুকের উপরে নেমে এসেছে ধপধপে সাদা দাড়ি, হাতে ত্রিশূল।
শেষ-রাত্তিরে প্রথম যখন তাঁর হাঁকার শুনি, তখন আমার স্বপ্নের সঙ্গে ব্যাপারটা একেবারে তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য ভাদুড়িমশাইয়ের কথা শুনে বুঝতে পারি যে, ওটা স্বপ্নের মধ্যে শুনিনি, সত্যপ্রকাশের খুড়োমশাই আসলে তাঁর আরাধ্য দেবতার জয়ধ্বনি দিচ্ছেন। তখন মনে হয়েছিল, বাপ রে, এমন যাঁর গলার জোর, সেই মানুষটি একজন দশাসই পুরুষ না হয়ে যান না।
এখন কিন্তু দেখলুম যে, মানুষটি মোটেই লম্বাচওড়া নন। রোগাপাতলা শরীর, কপালের উপর মস্ত একটা কাটা দাগ, চোখ দুটি গর্তে বসা। দৃষ্টি অবশ্য ভীষণ ধারালো। হঠাৎ দেখলে মনে হয় যেন গর্তের ভিতর থেকে জ্বলন্ত দুটো কাঠকয়লা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কখন কোথা থেকে এই মানুষটি যে হঠাৎ আমাদের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তা বুঝতেই পারিনি।
কিছু একটা বলতে হয় বলেই ভাদুড়িমশাই বললেন, “নমস্কার।”
সাধুবাবা যে তাঁর কথা শুনতে পেয়েছেন, এমন মনে হল না। সত্যি বলতে কী, একেবারে অচেনা দুজন মানুষ যে তাঁদের বাগানের মধ্যে তাঁর ডেরার কাছে এসে ঢুকেছে, এই ব্যাপারটাকেও যেন গ্রাহ্যই করলেন না তিনি। জ্বলন্ত চোখে খানিকক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে থেকে তাঁর চালাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন।
নিচু গলায় ভাদুড়িমশাইকে বললুম, “এই রকম টিংটিঙে লোকের ওই রকম বাজখাঁই গলা?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “এ তো দেখছি বেবি-অস্টিনের মধ্যে একেবারে মিলিটারি ট্রাকের হর্ন বসিয়ে নিয়েছে।”
“চোখ দুটো দেখলেন? বাপ্ রে, ওই চোখে যদি আর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেন তো নির্ঘাত আমরা ভস্ম হয়ে যেতুম। চলুন, কেটে পড়ি।”
“কেটে পড়ব কেন?” চারু ভাদুড়ি বললেন, “এসেছি যখন, তখন কথা না-বলে যাব না।”
সাধুবাবা ইতিমধ্যে তাঁর চালাঘরের একেবারে সামনে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। অতদূর থেকে আমাদের কথাবার্তা কারও পক্ষে শোনা সম্ভব নয়। তা ছাড়া আমরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলুম, তাও খুব চাপা গলায়। অথচ, তাজ্জব ব্যাপার, ঘরের মধ্যে না ঢুকে সাধুবাবা হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালেন, তারপর সেই বাজখাঁই গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “কী কথা?”
ভাদুড়িমশাই গলা তুলে বললেন, “সে তো এত দূর থেকে বলা যাবে না। একটু কাছে যেতে পারি?”
“চলে আয়।”
সাধুবাবার এই ঘরটা শুনেছি রাতারাতি তোলা হয়েছিল। মেঝেটা বাঁধানো নয়, তবে মাটিরও নয়। জমির লেভেল থেকে ফুট তিন-চার ফাঁকা রেখে, শালের খুঁটির সঙ্গে ফ্রেম করে নিয়ে তার উপরে পাতা হয়েছে কাঠের পাটাতন। উত্তরবঙ্গে এই রকমের ঘর প্রচুর দেখা যায়। রাস্তার ধারে নিচু জমিতে খুঁটি পুঁতে যে সব দোকানঘর বানানো হয়, অথচ যার মেঝে থাকে রাস্তার লেভেলের থেকেও খানিকটা উঁচুতে, সেগুলোও অনেকটা এই রকমেরই।
ঘরের সামনে এক ফালি বারান্দাও রয়েছে। তাতে একটা কম্বল বিছানো। সাধুবাবা সেই কম্বলের উপরে আমাদের বসতে বললেন, তারপর ঘরের ভিতর থেকে একটা বাঘছাল নিয়ে এসে তার উপরে বসে বললেন, “কী কথা?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কথা তো একটাই। মনসার উপরে আপনার এর রাগ কেন?”
প্রশ্ন শুনে হেসে উঠলেন সাধুবাবা। তারপর হাসি থামিয়ে বললেন, “চাঁদ বেনের গপ্পো জানিস?”
“জানি। কিন্তু চাঁদ যখন তাঁর পুজো করতে রাজি হননি, দেবী হিসেবে মনসার তখন বিশেষ প্রতিষ্ঠাও তো ছিল না। আর তা ছাড়া, মনসা যে ছলে-বলে তাঁর কাছ থেকে পুজো আদায় করতে চেয়েছিলেন, শিবের ভক্ত চাঁদের সেটাও পছন্দ হয়নি।”
“আরে বেটা, আমিও তো শিবের ভক্ত, আমিই বা তা হলে ব্যাং-খেকো ওই কানিটাকে পাত্তা দেব কেন?”
“কেউ তো আপনাকে পাত্তা দিতে বলছে না। কিন্তু সরল বিশ্বাসে যারা তাঁর পূজা করছে, তাদের সেই বিশ্বাসে আপনি আঘাত করছেন কেন? এই গ্রামের লোকেরা বিশ্বাস করে যে, মনসার পুজো করলে সাপের কামড়ে মরতে হবে না। কেন সেই বিশ্বাসটা নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করছেন আপনি?”
“সাপের কামড়ে মরবার কথা উঠছে কেন?” সাধুবাবা অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে-ধীরে সেই অবাক ভাবটা কেটে গিয়ে তাঁর মুখের উপরে একটা অদ্ভুত হাসি ছড়িয়ে পড়ল। বললেন, “এখানে আবার সাপ আছে নাকি? কই, আমি তো কখনও দেখিনি। কেউ দেখেছে বলেও শুনিনি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তাও কি হয় নাকি? এ তো বড় অদ্ভুত কথা আপনি বলছেন। গ্রামে সাপ থাকবে না?”
সাধুবাবা বললেন, “আমি তো আর সব গ্রামের কথা বলছি না, আমি মুকুন্দপুরের কথা বলছি। এখানে সাপ নেই। কখনও ছিল না। সত্য তবু সাপের ভয় দেখিয়ে মনসার পুজো আদায় করে। এইটে আর আমি হতে দেব না। মনসার পুজো আমি বন্ধ করে ছাড়ব।”
“কী করে বন্ধ করবেন? বিগ্রহ উদ্ধার করতে পারলেই তো ফের পুজো শুরু হবে।” সাধুবাবার চোখ দুটো হঠাৎ সেই আগের মতো জ্বলে উঠল। চাপা গলায় বললেন, “উদ্ধার করবার জন্যেই যে তোরা এসেছিস, তা কি আর আমি জানি না? ভাল চাস তো পালিয়ে যা! নইলে, মনসাকে যেভাবে মন্তর দিয়ে মেরেছি, তোদেরও সেইভাবে মারব!”
