লকারের চাবি (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শেয়ার করুনঃ

(১৩)

খাওয়ার পরে একটু বিশ্রাম নিলে ভাল হত, কিন্তু তার সুযোগ পাওয়া গেল না। শোভন চৌধুরির আপিসে ফিরবার তাড়া ছিল, তাই ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা হলে আর সময় নষ্ট করে লাভ নেই, শোভন, ছবি দুটো তো আমরা দেখেছি, কিন্তু কিরণবাবু আর সদানন্দবাবু দেখেননি। মানে যে-ভাবে দেখা দরকার, সে-ভাবে দেখেননি। এবারে একটু নজর করে দেখলেই নিশ্চয় ব্যাপারটা ধরতে পারবেন।”

 

শোভন চৌধুরি বললেন, “ব্লো-আপ করা অংশ দুটোই দেখাব তো?”

 

“না-না, ও-দুটো অংশ ব্লো-আপ করে যা দাঁড়িয়েছে, সেটা পরে দেখিয়ো। আগে বরং পুরো দুটো ছবিই দেখাও।”

 

প্যাকেট থেকে ছবি দুটো বার করে নিয়ে শোভন চৌধুরি আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। দেখা ছবি। একটাতে দেখা যাচ্ছে, অ্যাম্বাসাডর গাড়িটা গিয়ে ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মেরে সেটাকে ফেলে দিয়েছে, ফুটপাথে লোকজন বিশেষ নেই। অন্যটায় দেখছি, গাড়িটা ফুটপাথের উপরে পুরোপুরি উঠে পড়েছে; ভিড়ও জমে গেছে তার চতুর্দিকে। ফুটপাথ-ঘেঁষে পার্ক করা গাড়িগুলিকে দেখা যাচ্ছে দুটো ছবিতেই।

 

ছবি দুটো দেখে নিয়ে সদানন্দবাবুর দিকে এগিয়ে দিলুম। ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী বুঝলেন?”

 

বললুম, “যে-ছবিতে ভিড় নেই, সেটা আগে তোলা। কিন্তু একইসঙ্গে মনে হচ্ছে যে, এ-ছবি রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোলা নয়, একটু উঁচু থেকে তোলা হয়েছে।”

 

“ওটাই প্রথম ছবি। মানে যেটা রাস্তার ও-দিক থেকে তোলা হয়েছিল।”

 

“তা তো বুঝলুম, কিন্তু বিমল তো আর ওখানে কোনও দোতলার বারান্দা কি জানলা থেকে ছবি তোলেনি, তেমন সুযোগই তখন তার ছিল না। গাড়িতে করে আসছিল, সেই অবস্থায় অ্যাক্সিডেন্টটা ঘটতে দেখে তক্ষুনি-তক্ষুনি ভিউ-ফাইন্ডারে চোখ রেখে শাটার টিপে দেয়। তা হলে ওটা উঁচু জায়গা থেকে তোলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে কেন?”

 

ভাদুড়িমশাই মৃদু হেসে বললেন, “তা কেন মনে হবে না? সত্যিই তো ওটা একটু উঁচু জায়গা থেকে তোলা হয়েছে।”

 

“তা তো বুঝলুম, কিন্তু উঁচু জায়গাটা বিমল ওখানে পেল কোথায়?”

 

সদানন্দবাবু ছবি দেখছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর কান দুটো যে আমাদের কথাবার্তার দিকেই আটকে ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। ছবি থেকে চোখ তুলে তিনি আমার দিকে তাকালেন। বললেন, “তাও বুঝতে পারছেন না?”

 

বললুম, “আপনি পেরেছেন?”

 

“তা কেন পারব না?” সদানন্দবাবু বললেন, “ওই সময়ে কেউ হয়তো একটা মই ঘাড়ে করে ওখান দিয়ে যাচ্ছিল। বিমলবাবু সেই মইটা তার কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে…”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “মই-টইয়ের দরকার কী, বিমলবাবু তো আর হুড-খোলা গাড়িতে করে হাওয়া খেতে বেরোননি, ছাতওয়ালা গাড়িতে করেই আসছিলেন। আমার ধারণা, এ-ছবি সেই গাড়ির ছাতে উঠে তোলা হয়েছে। কাজটা অবিশ্যি খুবই তাড়াতাড়ি তাঁকে করতে হয়েছিল। তা নইলে কি আর ভিড় জমে যাবার আগের অবস্থার এই ছবিটা তিনি তুলতে পারতেন? তা কিছুতেই পারতেন না। আর সেটা না-পারলে কী হত জানেন?”

 

বললুম, “কী হত?”

 

“অপরাধীকে যা চিনিয়ে দেয়, সেই প্রমাণটা আমরা পেতুম না। …ওহে শোভন, এই ছবির যে অংশটা ব্লো-আপ করেছ, সেটা এবারে দেখিয়ে দাও।”

 

শোভন চৌধুরি যে-ছবিটা এবারে এগিয়ে দিলেন, তাতে আর কিছু নয়, শুধু পরপর পার্ক-করা গাড়িগুলিকেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। মোট পাঁচটা গাড়ি। দুটো অ্যাম্বাসাডর, দুটো মারুতি আর একটা ফিয়াট। একটা অ্যাম্বাসাডর আর একটা মারুতি ছাড়া বাদবাকি তিনটে গাড়ির কোনওটাতেই ড্রাইভার নেই। মারুতি গাড়ির সামনের ডানদিকের দরজা অর্থাৎ ড্রাইভারের পাশের দরজাটা সামান্য খোলা। সেই খোলা দরজা দিয়ে ড্রাইভারটির হাত নীচের দিকে ঝুলে রয়েছে। নিজের সিটে বসেই রাস্তা থেকে লোকটি কিছু কুড়িয়ে নিচ্ছে বলে মনে হল। অ্যাম্বাসাডর গাড়ির ড্রাইভারটিকে দেখে বোঝা যায়, সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ একটা বিশাল রকমের ধাক্কা খেলে যা হতে পারে, তার মুখচোখের অবস্থা একেবারে সেইরকম। লোকটা সত্যিই হয়তো ঘুমোচ্ছিল, আচমকা ঠোকাঠুকির শব্দ শুনে জেগে উঠেছে।

 

ছবিখানা সদানন্দবাবুর হাতে তুলে দিয়ে শোভন চৌধুরিকে বললুম, “দ্বিতীয় ছবির যেটুকু অংশ ব্লো-আপ করেছেন, সেটার সঙ্গে এটার কোনও তফাত আছে?”

 

দ্বিতীয় ছবির ব্লো-আপ প্রিন্টটা এগিয়ে ধরে শোভন চৌধুরি বললেন, “দেখলেই বুঝতে পারবেন।”

 

বলতে গেলে একই ছবি। পরপর পার্ক করে রাখা সেই পাঁচটা গাড়ি। অ্যাম্বাসাডর, মারুতি আর ফিয়াট। হঠাৎ দেখলে কোনও তফাত আছে বলে মনে হয় না। আমারও মনে হয়নি। কিন্তু তারপরই ধরতে পারলুম যে, না, তফাত আছে। অ্যাম্বাসাডর গাড়ির ড্রাইভারটির মুখেচোখে প্রথম ব্লো-আপে যে ভ্যাবাচ্যাকা ভাবটা দেখেছিলুম, এটাতে সেটা নেই। তার বদলে ফুটেছে কৌতূহলের ছাপ। যেন বিহ্বল ভাবটা কাটিয়ে উঠে লোকটা এবারে জানতে চাইছে যে, ব্যাপারটা কী। এটা যে একটা অ্যাক্সিডেন্ট, তা সে নিশ্চয় ধরতে পেরেছে। কীভাবে অ্যাক্সিডেন্টটা ঘটল, এবং তাতে কেউ মারা পড়ল কি না, এবারে সেটা সে জানতে চায়। তার মুখেচোখে সেটা স্পষ্ট।

 

আর-একটা পার্থক্যও দেখতে পেলুম। মারুতি গাড়ির সামনের ডানদিকের দরজাটা এই দ্বিতীয় ব্লো-আপে খোলা নয়। প্রথম ব্লো-আপে সেটা খোলা দেখেছিলুম, এটায় সেটা বন্ধ। মারুতির ড্রাইভার তার পাশের খোলা-দরজা দিয়ে হাত বাড়িয়ে রাস্তা থেকে কিছু-একটা জিনিস সম্ভবত তুলে নিচ্ছিল। এই ছবি তোলার আগে সে হাতখানাকে ভিতরে টেনে নিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।

 

পার্থক্য দুটোর কথা ভাদুড়িমশাইকে জানাতে তিনি বললেন, “শাবাশ! চোখের মাথা তা হলে একেবারে খাননি দেখছি। তা হলে এখন বলুন যে, প্রথম ছবিতে মারুতির ড্রাইভারটি ওই যে তার গাড়ির দরজা দিয়ে হাত বাড়িয়ে রাস্তা থেকে একটা জিনিস কুড়িয়ে নিচ্ছে, ওটা কী?”

 

প্রথম ব্লো-আপটায় আর-একবার চোখ বুলিয়ে বললুম, “জিনিসটা কী, তা হলফ করে বলতে পারব না। তবে, যদ্দুর মনে হয়, গাড়ির টুল-বক্সের কোনও যন্ত্র। সম্ভবত একটা স্ক্রু-ড্রাইভার।”

 

“হল না।”

 

“তা হলে বোধহয় একটা রেন্‌চ।”

 

“নাঃ, তাও নয়।”

 

“তা হলে…তা হলে…” হঠাৎ একটা সন্দেহ আমার মনের মধ্যে উঁকি দিয়ে গেল। ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললুম, “তা হলে কি সেদিন যা দিয়ে…

 

“রাইট!” ভাদুড়িমশাই বললেন, “সেদিন যা দিয়ে অ্যাম্বাসাডর গাড়িটার টায়ার ফাটানো হয়েছিল, ওটাই সেই যন্ত্র। ছোট্ট একটা পিস্তল। আরও যদি ব্লো-আপ করি, তো আরও স্পষ্ট করে সেটা বোঝা যাবে।”

 

সদানন্দবাবু বললেন, “ওরেব্বাবা, মারুতির ওই ড্রাইভারটিই তা হলে গুলি চালিয়েছিল?”

 

“হ্যাঁ, ওই গুলি চালিয়েছিল। অ্যাম্বাসাডর গাড়িটা যখন ওর পাশ দিয়ে বেরোচ্ছে, তখন পাশের জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে গুলি চালায়। তবে কিনা আমার ধারণা, ও ভাড়াটে লোক, পিছনে অন্য-কারও হাত রয়েছে। সে কে, সেটা জানাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

 

শোভন চৌধুরি বললেন, “আমি আর বসতে পারছি না, অলরেডি দেরি হয়ে গেছে, এবারে আমাকে আপিসে যেতে হবে।”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা যাও। তবে, দুটো কাজ তোমাকে ঝটপট করতে হবে। এক, বেনারস থেকে যে খবর আনাতে বলেছি, সেটা আনিয়ে দিতে হবে।”

 

“কালই বেনারসে ফোন করেছি। খবরটা সম্ভবত আজই পেয়ে যাব। দু’নম্বর কাজের কথা বলুন।”

 

“এই মারুতি গাড়িটা সম্পর্কে যতটা সম্ভব খবর চাই। এর ওনার কে, ড্রাইভারটি দাগি আসামি কি না, সব খবর নেবে। ড্রাইভারটি সম্পর্কে খোঁজখবর করা শক্ত হবে না, ওর ফোটো তো এখানেই পাচ্ছ, সুতরাং পুরনো পাপী কি না, ফাইল মেলালেই সেটা জানতে পারবে। …আর হ্যাঁ, ব্লো-আপ করা ছবিগুলো আপাতত আমার কাছেই থাক। কাল তোমাকে ফেরত দেব। রাত্তিরের দিকে তোমার কাছ থেকে একটা ফোন আসবে আশা করি।”

 

“খবর পেলেই আপনাকে ফোন করব।”

 

অ্যাটাশে-কেসটা গুছিয়ে নিয়ে শোভন চৌধুরি বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, পিছন থেকে ভাদুড়িমশাই বললেন, “দাঁড়াও।” তারপর তাঁর হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “এ কোথায় কাজ করে, সব লিখে দিয়েছি। এর বাড়ির ঠিকানা চাই। অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল। কিন্তু ব্যাপারটা খুব ডিসক্রিটলি জেনে দিতে হবে।”

 

মিনিট খানেক চুপচাপ কাটল। তারপর ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী হল, কেউ কিছু বলছেন না যে?”

 

সদানন্দবাবু বললেন, “একটা কথা ভাবচি।”

 

“কী ভাবছেন?”

 

“ভাবচি যে, ফুলঝুরি জ্বালানো হয়ে গেলে লোকে যেমন সেটাকে হাত থেকে ফেলে দেয়, তেমনি গুলি চালানো হয়ে গেলেও পিস্তলটাকে লোকে হাত থেকে ফেলে দেয় নাকি?”

 

প্রশ্ন শুনে হে-হো করে হেসে উঠলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর হাসি থামিয়ে বললেন, “শাবাশ সদানন্দবাবু, শাবাশ। এতক্ষণে মোক্ষম কথাটি আপনি বলেছেন।”

 

বললুম, “ঠিকই তো, পিস্তলটা রাস্তায় পড়ে আছে কেন?”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “সেটা আপনারা আন্দাজ করতে পারছেন না?”

 

“না।”

 

“কৌশিক কিন্তু পেরেছিল।”

 

“তা তো পারবেই।” হেসে বললুম, “নরাণাং মাতুলক্রমঃ। মামা যখন পেরেছেন, তখন ভাগ্নেও পারবে বই কী। কিন্তু আমরা তো আপনার ভাগ্নে নই, সুতরাং পারলুম না। এবারে আপনি দয়া করে বুঝিয়ে বলবেন?

 

কৌশিক কী যেন বলতে যাচ্ছিল, ভাদুড়িমশাই তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “তোকে কিছু বলতে হবে না, যা বলবার আমি বলছি। ….কিরণবাবু, মারুতির ড্রাইভারের সিট থেকে ওই লোকটাই যে গুলি চালিয়েছিল, সেটা মানছেন তো?”

 

বললুম, “ব্লো-আপ-করা ছবি থেকে তা-ই তো মনে হয়।”

 

“সো ফার সো গুড। কিন্তু সেটা মনে হবার পরেই একটা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। প্রশ্নটা কী? না, গুলি চালিয়ে টায়ার ফাটাবার পরে-পরেই পিস্তল-সুদ্ধু হাতটাকে গাড়ির মধ্যে টেনে না নিয়ে পিস্তলটাকে সে রাস্তার উপরে ফেলে দিল কেন?”

 

“সত্যিই তো, কেন ফেলে দিল?”

 

“যদি বলি এটা ফেলে দেবার ব্যাপার নয়, হাত থেকে পড়ে যাবার ব্যাপার, আপনি বিশ্বাস করবেন?”

 

“কীভাবে পড়ে গেল?”

 

“সেটা আমিও জানি না।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তবে আন্দাজ করতে পারি। আমার ধারণা, লোকটা গুলি চালিয়ে অ্যাম্বাসাডর গাড়ির টায়ার ফাটাবার সঙ্গে-সঙ্গেই, একেবারে চেন-রিঅ্যাকশনের মতো, পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটে যায়। গাড়িটা বেটাল হয়ে বাঁয়ে ঝুঁকে পড়ে, তার ড্রাইভার বুঝে যায় অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে চলেছে, তৎক্ষণাৎ সে স্টিয়ারিং হুইল যতটা সম্ভব ডাইনে ঘোরায়, তার ফলে গাড়ির পিছনের অংশটা চলে যায় বাঁ দিকে, ওদিকে ড্রাইভার ততক্ষণে গাড়িটাকে সিধে করবার জন্যে স্টিয়ারিং হুইল আবার বাঁয়ে ঘুরিয়েছে। তার মাথা নিশ্চয় সেই মুহূর্তে ঠিক ছিল না, তাই যতটা দরকার, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ঘুরিয়েছিল নিশ্চয়, ফলে বাঁ-দিকের ফুটপাথে উঠে পড়ে গাড়িটা গিয়ে লাইটপোস্টে ধাক্কা খায়। এই যে পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটল, এর সবই কিন্তু ঘটেছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে।”

 

“তা তো বুঝলুম, কিন্তু হাত থেকে পিস্তল পড়ে যাবার সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?”

 

“সবগুলি ঘটনার সম্পর্ক নিশ্চয়ই নেই, তবে একটা ঘটনার আছে?”

 

“কোনটার?”

 

ভাদুড়িমশাই মৃদু হেসে বললেন, “অ্যাক্সিডেন্ট এড়াবার জন্যে অ্যাম্বাসাডরের ড্রাইভার ওই যে টায়ার ফাটার সঙ্গে-সঙ্গেই স্টিয়ারিং হুইলটাকে পড়িমরি ডাইনে ঘুরিয়েছিল আর তার ফলে তার গাড়ির পিছনের অংশ একেবারে হঠাৎই চলে গিয়েছিল বাঁ-দিকে, ওটার আছে। আমার বিশ্বাস, অ্যাম্বাসাডরের ওই পিছনের অংশটা মারুতি গাড়ির ড্রাইভারের পিস্তল ধরা হাতে গিয়ে সেই সময়ে ধাক্কা লাগায়। ফলে তার হাত থেকে ছিটকে পড়ে যায় পিস্তলটা। বিমলবাবুর ফোটোতে আমরা তাকে রাস্তা থেকে সেটা ফের কুড়িয়ে নিতে দেখছি।”

 

ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল। তবু বললুম, “কিন্তু এর সবটাই তো আপনার আন্দাজ মাত্র। তাই না?”

 

“আন্দাজ বলতে পারেন। রিকনস্ট্রাকশনও বলতে পারেন। তবে ড্রাইভারটি যদি ধরা পড়ে আর তার হাতে যদি একটা টাটকা জখমের চিহ্ন দেখা যায়, আমি অবাক হব না।”

 

“কীসের জখম?”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “অ্যাম্বাসাডরের পিছনের অংশের যে আচমকা ধাক্কায় পিস্তলটা পড়ে গিয়েছিল, তাতে পিস্তলধারীর ডান হাতটাও জখম হয়ে থাকতে পারে। কথাটা আরও এইজন্যে ভাবছি যে, জখম না হলে বিমলবাবু ছবি তুলবার আগেই সে পিস্তলটা তুলে নিতে পারত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *