হিটাইট ফলক রহস্য (কিশোর কর্নেল) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

শেয়ার করুনঃ

 

ঘোড়াভূত ও ডঃ আলুওয়ালা

 

টুরিস্ট ম্যানেজার ইকবাল খাঁ আমাকে দেখেই দৌড়ে এলেন। বললেন,–কী ব্যাপার মিঃ চৌধুরী? আপনার এ দশা কেন? কোথায় ছিলেন সারারাত? আমরা তো ভেবেই অস্থির। আপনার কর্নেল সাহেব আবার সকালে আপনাকে খুঁজতে বেরিয়েছেন। ডঃ করিম আর কর্নেল কামালও গেছেন একদল মিলিটারি নিয়ে।

 

–মিলিটারি নিয়ে? সে কী?

 

ইকবাল খাঁ হাসলেন। এ দেশে মিলিটারি ছাড়া দুশমনদের জব্দ করা যায় না মিঃ চৌধুরী। আমরা কথায় কথায় মিলিটারির সাহায্য নিই। যাকগে, ঝটপট পোশাক বদলান। আমি খবর পাঠাই ওঁদের।

 

আমাদের ঘরের ডুপ্লিকেট চাবি ওঁর কাছে রয়েছে। দরজা খুলে দিলেন। বেয়ারা হুকুমের অপেক্ষায় সেলাম দিয়ে দাঁড়ালে বললুম,–আপাতত এককাপ কড়া কফি ছাড়া আর কিছু দরকার হবে না।

 

–ব্রেকফাস্ট খাবেন না স্যার?

 

–ওঁরা ফিরে আসুন, তারপর।

 

বেয়ারা চলে গেল। একটা এনার্জি ট্যাবলেট বের করে খেয়ে ফেললুম। তারপর বাথরুমে পোশাক ছাড়লুম। স্নান করে এসে দেখি, কফি রেডি।

 

জানালার কাছে বসে কফি খেতে খেতে মোহেনজোদাড়ো শহরের দিকে তাকিয়ে রইলুম। কী বিচিত্র মানুষের অতীত ইতিহাস!

 

অনেকক্ষণ পরে বাইরে জিপের শব্দ হল। তারপর দুমদাম জুতোর শব্দ শোনা গেল বারান্দায়। প্রথমে ঢুকলেন কর্নেল কামাল খাঁ। দৈত্যাকৃতি পাঠান ভদ্রলোক এক লাফে এগিয়ে আমাকে প্রায় শুন্যে তুলে ফেললেন। মুখে শুধু-হ্যাল্লো, হ্যাল্লো!

 

ডঃ করিম বললেন,–তবিয়ত ঠিক আছে তো জয়ন্তবাবু?

 

বললুম,–হাঁ, ঠিক আছে।

 

আমার বৃদ্ধ বন্ধু টাকে হাত বুলোচ্ছেন এবং মিটমিট হাসছেন। টুপিটা বগলদাবা। গলায় বাইনোকুলার ও ক্যামেরা যথারীতি ঝুলছে। বললেন,আশা করি সুনিদ্রা হয়েছে ডার্লিং! হবারই কথা। ফকিরসাহেব অতি দয়ালু এবং স্নেহপ্রবণ মানুষ।

 

চমকে উঠে বললুম,ফকিরসাহেবের কথা আপনি কীভাবে জানলেন?

 

তিনজনেই অট্টহাস্য করে উঠলেন। তারপর কর্নেল বললেন, এটা কোনো অলৌকিক উপায়ে অবগত হইনি আমরা। কারণ আমরা ফকির নই। সাধারণ মানুষ মাত্র।

 

বিরক্ত হয়ে বললুম, হেঁয়ালি করার দরকার কী?

 

ডঃ করিম বললেন,–একটা হেঁয়ালি বোধহয় আছে জয়ন্তবাবু। আপনাকে রাতে বিশেষ খোঁজাখুঁজি করতে পারিনি, সেজন্য ক্ষমা করবেন। অন্ধকার ওই এলাকায় গেলে আবার দুশমনগুলোর সঙ্গে অকারণ গুলি ছোঁড়াছুড়ি করতে হত। তাই সকালে বেরিয়ে পড়েছিলুম। খাদ বরাবর সিন্ধুনদ পর্যন্ত এগিয়ে ব্যর্থ হয়ে যখন ফিরে আসছি, একস্থানে আপনার বন্ধু বালিতে আপনার জুতোর ছাপ আবিষ্কার করলেন। ছাপ ক্রমশ উত্তর-পশ্চিমে এগিয়েছে। তার মানে, বোঝ গেল আপনি ফিরে চলেছেন। একটা বাঁক পেরিয়ে দেখি একজন ফকির হন্তদন্ত হয়ে আসছেন। আমাদের তিনি দেখেই পাড়ের দেওয়ালের খাঁজে লুকিয়ে পড়লেন। কর্নেল কামাল খাঁ তার বাহিনী নিয়ে দৌড়ে গিয়ে জায়গাটা ঘিরে ফেললেন। গুলি ছোঁড়ার ভয় দেখালে ফকিরসাহেব বেরিয়ে এলেন। তার মুখেই আপনার খবর পাওয়া গেল।

 

কর্নেলের দিকে ঘুরে বললুম,–ওই ফকির কিন্তু বাঙালি এবং রীতিমতো শিক্ষিত লোক। কর্নেল বললেন,–জানি বৎস! তবে তুমি কি ওঁর আসল পরিচয় টের পেয়েছ?

 

-না তো। কে উনি?

 

-উনি এক প্রখ্যাত বাঙালি পুরাতত্ত্ববিদ পণ্ডিত ডঃ ফরিদ আমেদ! একসময় কলকাতার পুরাতত্ত্ব দফতরের অধিকর্তা ছিলেন। অজন্তা, ইলোরা এবং সিন্ধুসভ্যতার ওপর ওঁর মূল্যবান গবেষণা গ্রন্থগুলো দেশ-বিদেশে এখনও সমাদৃত হয়। দেশভাগের পর উনি চলে যান প্রাক্তন পূর্বপাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে। সেখানে রিটায়ার করার পর দিব্যি ছিলেন। হঠাৎ লন্ডনে একটা সেমিনারে আমন্ত্রিত হন এবং সেখানে গিয়ে জাদুঘরে একটা ব্রোঞ্জের ফলক দেখতে পান।

 

-রাজা হেহয়ের আসল ফলকটা তো?

 

-ঠিক বলেছ। ওই হল ওঁর কাল। অভিশপ্ত ফলক বলতে পার। ফিরে এসে ফলকের পাঠোদ্ধারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সে এক দীর্ঘ কাহিনি। সংক্ষেপেই বলছি। বর্ধমানের গ্রামে ডঃ ভট্টাচার্যের ছেলে সেই শিক্ষক ভদ্রলোকের কাছেও উনি অনেকবার যাতায়াত করেছিলেন। কারণ ডঃ ভট্টাচার্যের বইয়ে ফলকটার উল্লেখ ছিল। শেষপর্যন্ত ওঁর ডায়েরিটা দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন ডঃ আমেদ। নিজের অনুবাদের সঙ্গে ডঃ ভট্টাচার্যের অনুবাদের মিল দেখে আর ধৈর্য ধরতে পারেন নি। নাম ভাঁড়িয়ে ভারতের নাগরিক সেজেই উনি পাসপোর্ট-ভিসা জোগাড় করেন।

 

আবার একপ্রস্থ কফি এল। আমার ব্রেকফাস্টও এসে গেল। খেতে-খেতে বললুম,–তারপর কী হল বলুন?

 

কর্নেল বললেন,–ডঃ আমেদ একটা ভুল করলেন। ডঃ ভট্টাচার্যের ডায়েরিতে লারকানার স্টেশন মাস্টার মিঃ আলুওয়ালার উল্লেখ ছিল। তাঁর ছেলে ডঃ আলুওয়ালার সঙ্গে ডঃ আমেদের অল্প চেনাজানা ছিল। একা মোহেনজোদাড়ো অভিযানে যেতে সাহস করেন নি। ডঃ আলুওয়ালাকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডাঃ আলুওয়ালা পণ্ডিত মানুষ হলে কী হবে? ভীষণ পাজি লোক। যাবার আগে ষড়যন্ত্র করেন যে গুপ্তধন পেলে ডঃ আমেদকে মেরে ফেলা হবে। তাই এক আন্তজাতিক ডাকতদলের সর্দার কিষাণাদের সাহায্য নিলেন। কিষাণচাঁদ পণ্ডিত সাজলো। নাম নিল ডঃ ব্রীজেশ সিং। ডঃ আমেদ অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাকে সঙ্গে নিতে বাধ্য হলেন। যাইহোক, ডঃ আমেদ একটা কাজ কিন্তু করেছিলেন, ফলকের প্রকৃত অনুবাদের কথা সঙ্গীদের জানান নি। এখানে এসে বিস্তর খোঁজাখুঁজি করেন তিনজনে। তারপর একরাতে তিনজনে কী একটা কথায় নাকি তুমুল ঝগড়া বেধে যায়। রাগের চোটে ডঃ আমেদ খাদের ওপর থেকে ধাক্কা মেরে ডঃ আলুওয়ালাকে ফেলে দেন। কিষাণচাঁদ তাকে আক্রমণ করে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ওই সময় একদন মিলিটারি টহলদার দূর থেকে সার্চলাইট ফেলেছিল। নেহাত রুটিন মাফিক ঘোরাঘুরি করছিল ওরা। এর ফলে কিষাণচাঁদ পালিয়ে যায়। ডঃ আমেদ লুকিয়ে পড়েন। সকালে খাদে নেমে একজায়গায় রক্ত দেখে ওঁর অনুতাপ জাগে। ভাবেন, নির্ঘাত ডঃ আলুওয়ালা এখানে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন এবং নেকড়েরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে খেয়ে ফেলেছে। ধর্মভীরু ডঃ আমেদের অনুশোচনা তীব্র হয়ে ওঠে ক্রমশ। দিনের পর দিন পাপবোধে অস্থির হয়ে ওঠেন। তারপর ফকিরী অবলম্বন করেন। তারপর থেকে ওইভাবে থেকে গেছেন।

 

–এসব কথা কি উনিই বলেছেন আপনাকে?

 

আমার প্রশ্নের জবাব দিলেন কর্নেল কামাল খাঁ। –মিঃ চৌধুরী, দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ফকিরসাহেব ওরফে ডঃ আমেদকে আমি গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছি। জেরার চোটে উনি সব কবুল করেছেন।

 

চমকে উঠলুম।–গ্রেফতার করেছেন? কেন?

 

–প্রথম কথা উনি নাম ভঁড়িয়ে ভিসা জোগাড় করেছিলেন। পরে আমার গোয়েন্দা দফতর সেটা টের পেয়ে ওঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল এটা দুবছর আগের ঘটনা। দ্বিতীয় কথা, উনি বে-আইনিভাবে গুপ্তধন খোঁজাখুঁজি করছেন। আমরা কিষাণ সিং এবং ডঃ আলুওয়ালাকেও গ্রেফতার করার জন্যে প্রস্তুত ছিলুম। কিন্তু ব্যাপারটা টের পেয়েই দুজনে গা ঢাকা দিয়েছে।

 

কর্নেল সরকার বললেন,–কিষাণ সিং কে জানো? তুমি প্লেনে যে ভদ্রলোকের পাশে বসে এসেছ–সেই জাল ডঃ অনিরুদ্ধ যোশী!

 

কর্নেল কামাল খাঁ বললেন,–গা ঢাকা দিয়ে দুজনে দলবল নিয়ে ওই এলাকায় লুকিয়ে আছে। ওদের অস্ত্রশস্ত্র আছে প্রচুর। কিষাণ সিং-এর লোকেরা তো ওখানে বরাবর রয়ে গেছে। কোনো গুহায় আস্তানা গেড়েছে। খুঁজে বের করতেই হবে।

 

বললুম,–ফকিরসাহেব কোথায় এখন?

 

–আপাতত লারকানায় হাজতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

 

শুনে খুব দুঃখ হল। কিন্তু এদেশে মিলিটারি আইন। কিছু করার নেই।

 

আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে কর্নেল কামাল খাঁ এবং ডঃ করিম চলে গেলেন। কর্নেলকে বললুম,–হ্যালো ওল্ড ম্যান। ফকিরসাহেবের কাছে কী শুনেছেন জানি না। আমার ব্যাপারটা এবার আপনার শোনা দরকার। আমি গুপ্তধনের খোঁজ পেয়েছি।

 

কর্নেল চমকে উঠলেন–সে কী? কোথায়? কীভাবে পেলে?

 

–বলব। একটা শর্ত।

 

–কী শর্ত?

 

–কথা দিন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা দফতরের অধিকর্তা এবং আপনার বন্ধু ওই কর্নেল কামাল খাকে বলে ফরিকসাহেবের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।

 

কর্নেল একটু হেসে বললেন,–চেষ্টা করতে পারি।

 

–চেষ্টা নয়, করতেই হবে। কামাল খাঁর হাতে প্রচুর ক্ষমতা!

 

–ঠিক আছে। এবার বলো?

 

–ফকিরসাহেব যে গুহায় থাকেন এবং আমি যেখানে আশ্রয় পেয়েছিলুম, সেখানে একটা বেদি আছে। তার গায়ে অবিকল সেই ফলকের চিত্রলিপি খোদাই করা আছে।

 

কর্নেল অবাক হয়ে বললেন,–বলো কী জয়ন্ত!

 

–হ্যাঁ। গুহার পথ খুঁজে বের করা কঠিন। তাই গোপনে একটা চিহ্ন দিয়ে এসেছি। কর্নেল গম্ভীর মুখে কিছু ভাবলেন তারপর বললেন, তা হলে তো ফকিরসাহেব অর্থাৎ ডঃ আমেদ গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েই গিয়েছিলেন! অথচ … আশ্চর্য তো!

 

–কী আশ্চর্য!

 

–তবু উনি গুপ্তধন উদ্ধার করেননি কেন?

 

–হয়তো সংসারত্যাগী ফকির হয়েছেন এবং ডঃ আলুওয়ালাকে মেরে ফেলায় পাপ হয়েছে। ভেবেই নির্লোভ থাকার সাধনা করেছেন। বলেছিলেন, প্রায়শ্চিত্ত করছি।

 

–হুম! তোমার এ কথায় যুক্তি আছে।

 

–সেই স্বাভাবিক। তাই বেদির সামনে ওঁকে ধ্যানমগ্ন দেখেছি।

 

–ঠিক, ঠিক … বলে কর্নেল উঠে দাঁড়ালেন। তারপর একটু পায়চারি করে বললেন,–জয়ন্ত, আমি আসছি।

 

বেরিয়ে গেলেন কর্নেল। আমার শরীরের ব্যথাটা যায়নি। একটা পেনকিলার ট্যাবলেট খেয়ে নিলুম এবং শুয়ে পড়লুম। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছিল।…

 

দুপুরে লাঞ্চের সময় কর্নেল এসে আমাকে জাগালেন। তখন শরীর অনেকটা হাল্কা হয়েছে আমার।

 

খাওয়া-দাওয়া সেরে কর্নেল বললেন,এখনই ডঃ করিম এবং কর্নেল কামাল খাঁ এসে পড়বেন। ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে সেই লারকানা যেতে হয়েছিল। তোমার কথামতো কর্নেল কামালকে অনুরোধ করেছি। সম্ভবত ফকিরসাহেব মুক্তি পাবেন। তুমি চিন্তা করো না। তৈরি হয়ে নাও।

 

পোশাক পরে ফেললুম ঝটপট। এবার গুলিভরা রিভলভারটা নিতে ভুল করলুম না। বললুম।–দিনের আলো থাকতে-থাকতে পৌঁছানো দরকার। নইলে ফাটলের চিহ্নটা খুঁজেই পাব না।

 

কর্নেল একটু হেসে বললেন,–বোধ করি, তোমার চিহ্নের আর দরকার হবে না। কারণ ফকিরসাহেবকে কর্নেল কামাল সঙ্গে আনার চেষ্টা করবেন। নিজের গোপন আস্তানা চিনতে ওঁর ভুল হবে না আশা করি।

 

আমার মনে যেটুকু গর্ব ছিল, মিইয়ে গেল। মনে মনে কামনা করলুম, ফকিরসাহেব যেন কিছুতেই না আসেন। তা হলে আমাকেই সাধাসাধি করিয়ে ছাড়বে। এতকাল কর্নেল সব রহস্যে চাবিকাঠিটি নিজের হাতে রেখেছেন। এবার চাবিকাঠি আমি ভাগক্রমে হাতিয়েছি। এমন মওকা ছাড়ব কেন?

 

কিছুক্ষণ পরে জিপের শব্দ হল বাইরে। আমরা বেরিয়ে গেলুম।..

 

জিপে যেতে-যেতে ওঁদের যে আলোচনা হল, তাতে বুঝলুম কর্নেল কামাল খায়ের বাহিনীটি বেশ বড়। একদল দুপুরে গিয়েই সেই শুকনো খাদের মাথায় ত্রিকোণ মাঠটা ঘিরে রেখেছে। পাথরের আড়ালে ওৎ পেতে সৈনিকেরা লক্ষও রেখেছে। সৈনিকগুলো নাকি একেবারে কসাই। কিষাণচাঁদের দলের লোকেদের পেলেই গলায় ছুরি চালিয়ে কোতল করবে। বেছে-বেছে কাঠখোট্টা ধরনের হিংস্র পাঠানদেরই মোতায়েন করা হয়েছে। কাজেই কিষাণচাঁদ আর সুবিধে করতে পারবে না আজ। একেই বলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। আগের দিন যেখানে জিপ রেখে আমরা খাদে নেমেছিলুম, সেইখানেই নামলুম। যেতে যেতে হঠাৎ চোখে পড়ল, খাদের ওপরে উঁচুতে পাথরের আড়ালে মিলিটারি পাঠান সাবমেশিনগান বাগিয়ে বসে আছে। এ যে প্রায় যুদ্ধের আয়োজন।

 

বুঝলুম, কর্নেল কামাল খাঁ কাল সন্ধ্যায় কিষাণচাঁদের দলের হাতে ইটটি খেয়ে ভারি রেগে গেছেন এবং তার শোধটা ভালোমতো তুলবেন।

 

বেচারি মিঃ আলুওয়ালার জন্যে আমার দুঃখ হচ্ছিল। অধ্যাপক এবং পণ্ডিত মানুষ। অথচ গুপ্তধনের নেশায় পড়ে এমন সর্বনাশের পথে ছুটে বেড়াচ্ছেন কতদিন থেকে!

 

ব্রহ্মবৰ্তরাজ হেহয়ের গুপ্তধন যে অভিশপ্ত তাতে কোনো ভুল নেই। সেই অভিশাপের জন্যেই মানুষ হয়ে পড়েছে ষড়যন্ত্রী শয়তান।

 

যাচ্ছি তো যাচ্ছি, খাদের যেন শেষ নেই। বাঁক ঘুরে পুবে এগিয়ে সেই গুহা। কিন্তু অবাক কাণ্ড, ঠিক সেই জায়গাটা আমি চিনতে পারছিনে কেন? কর্নেল বারবার জিজ্ঞেস করছেন। আমি বাঁদিকে খাড়া দেওয়ালের মতো পাড়ে ফাটল খুঁজছি। এখানে কোথাও ফাটল নেই। তা হলে কি বেশি এগিয়ে এসেছি?

 

মনে পড়ছে, বাঁকের পরই বাঁদিকে ফাটল শুরু হবার কথা। অজস্র ফাটল পাথুরে পাড়ে তখন লক্ষ করেছিলুম। কিন্তু কই সেগুলো?

 

এবার কর্নেল মুচকি হেসে বললেন,–জয়ন্ত সব গুলিয়ে ফেলেছে। তা হলে এবার আমরা নিজেদের বুদ্ধির ওপর ভরসা করে খুঁজি। কী বলেন ডঃ করিম?

 

ডঃ করিম বললেন,–অগত্যা তাই।

 

কর্নেল কামাল খাঁ আমাদের দেহরক্ষীর মতো দুহাতে দুটো রিভলভার বাড়িয়ে সাবধানে চারিদিকে দেখতে দেখতে পিছনে আসছিলেন। বললেন,–কী হল?

 

কর্নেল বললেন,–জয়ন্ত পথ হারিয়েছে।

 

একেই বলে পিলে চমকানো হাসি। এক কর্নেলের কথা শুনে আরেক কর্নেল যা একখানা হাসলেন, এই খাদের মধ্যে যেন মেঘ ডাকল।

 

কর্নেল নীলাদ্রি সরকার ও ডঃ করিম বালির দিকে ঝুঁকে বোধকরি আমারই সকালবেলার জুতোর ছাপগুলো খুঁজছেন। কিন্তু খাদের মধ্যে প্রবলবেগে বাতাস বইছে। শুকনো বালি উড়ছে। ছাপ ঢেকে গেছে সম্ভবত।

 

হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল, গুহার ফাটল দিয়ে বেরিয়ে খাদের ওপারে প্রথমেই চোখে পড়েছিল একটা বিরাট লাল পাথর। এখানে কোথাও অমন লাল পাথর না থাকায় ওটা চোখে না পড়ে পারে না। কথাটা বললুম ওঁদের। ওঁরা খুঁজতে ব্যস্ত হলেন।

 

আমি ডানদিকের পাড়ে পাথরগুলো ভালো করে দেখার জন্যে কর্নেলের কাছে বাইনোকুলার নিলুম। প্রথমে পিছনের দিকে অর্থাৎ যেদিক থেকে এসেছি,সেদিকে ডান পাড়টা খুঁটিয়ে দেখলুম। কোনো লাল পাথর নেই কোথাও। অন্তত মাইলখানেক দূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

 

তারপর সামনের দিকে ডান পাড় বরাবর লক্ষ করলুম। কিন্তু কোথায় গেল লাল পাথরটা? এ যে রীতিমতো রহস্যময় ব্যাপার! সামনে খাদ সোজা পুবে গিয়ে সিন্ধুনদে মিশেছে। পাথরের একটা প্রাকৃতিক বাঁধ দেখা যাচ্ছে শেষ সীমায়। তাই বর্ষায় এই নদের জল ঢোকার সুযোগ পায় না। তবে বৃষ্টির জল জমতে পারে। কিন্তু এই এলাকায় বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। তাই জল জমলেও তার পরিমাণ সামান্য হওয়াই সম্ভব। বুঝতে পারলুম, এজন্যেই গুহাটা নিরাপদ রয়েছে। নইলে বর্ষায় জল ঢুকে যেত। ফকির সাহেবের পক্ষে ওখানে বাস করা সম্ভবই হত না।

 

বাইনোকুলারে চোখ রেখেই একথা ভাবছিলুম, আমাদের কাছেই ডান পাড়ে একটা পাথরের আড়ালে কালো রঙের কী একটা বসেছিল, সরে গেল। বললুম,–কর্নেল! নেকড়ে বাঘ নিশ্চয় কালো হয় না। অথচ একটা কালো জন্তু দেখলুম যেন। এখানে কি ভাল্লুক আছে?

 

কর্নেল কামাল খাঁ বললেন,–কোথায়, কোথায়?

 

–ওই যে ওখানে।

 

সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে উনি ওপর দিকটা তাক করে দুহাতের রিভলভার থেকে এক ঝক গুলি ছুঁড়ে বসলেন। প্রচণ্ড প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়ল। তারপর তুলকালাম ঘটে গেল।

 

আমাদের বাঁদিকের পাড়ে সেই ত্রিকোণ মাঠ অন্তত একশ ফুট উঁচুতে রয়েছে। সেখানে থেকে পাঠান মিলিটারিরা গুলিবর্ষণ শুরু করে দিল। আমরা উপুড় হয়ে শুয়ে প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত হলুম। কর্নেল কামাল খাঁ রেগে আগুন হয়ে গেলেন। দুর্বোধ্য ভাষায় গালাগালি দিতে দিতে যখন উঠলেন, তখন সাদা বালিতে মিলিটারি পোশাক ভূতের পোশাক হয়ে উঠেছে। তারপর বিকট চিৎকার করে মাতৃভাষায় কী বললেন।

 

মুখ তুলে দেখি, পাড়ের উঁচুতে এক মিলিটারি পোশাক পরা মূর্তি দাঁত বের করে স্যালুট দিচ্ছে। পশ্চিম থেকে রোদ্দুর সোজা তার দাঁতে গিয়ে পড়েছে। সে এক দেখার জিনিস বটে!

 

বাকি তিনজন বালি ঝাড়তে ঝাড়তে উঠলুম। হঠাৎ কর্নেল বলে উঠলেন, জয়ন্ত জয়ন্ত! ওই তোমার লাল পাথর।

 

ঘুরে দেখে আমি হতবাক। আশ্চর্য কাণ্ড, এতক্ষণ ধরে খুঁজছি–কোথাও ছিল না। হঠাৎ যেন আলাদিনের-পিদিমের দৈত্যের মতো ওটা আমাদের নাকের ডগায় এসে ঠিক জায়গায় বসেছে। এই রহস্যের অর্থ কী?

 

কর্নেল গুম হয়ে যেন একথাই ভাবছিলেন। তারপর ইউরেকা বলে চেঁচিয়ে ওঠার মতো বললেন,–বুঝেছি! বুঝেছি! ব্যাপারটা আর কিছু নয়–মোহেনজোদাড়োর কাক।

 

–কাক! তার মানে?

 

–ওই দেখ, কাকগুলো এখন তুমুল চাচাতে চাঁচাতে পালিয়ে যাচ্ছে। আসলে ওই কাকগুলো লাল পাথরটা জুড়ে বসেছিল। তাই এতক্ষণ লাল রং ঢেকে গিয়েছিল। গুলির শব্দে ভয় পেয়ে পালাতেই লাল পাথরটা বেরিয়ে পড়েছে। শুনেছিলুম বটে কাকের কথা। সিন্ধুপ্রদেশে নাকি অসংখ্য কাকের উপদ্রব আছে। বিশেষ করে নাকি মোহেজোদাড়োতে কাকের উপদ্রবটা বেশি। এবার স্বচক্ষে দেখলুম।

 

বললুম,–কিন্তু লাল পাথরের বিপরীত দিকের পাড়ে ফাটল থাকার কথা। কিন্তু ফাটল নেই যে!

 

কর্নেল বললেন,–হুম! ওই তো ফাটল। একটা কেন? সারি সারি কয়েক গজ অন্তর অজস্র ফাটল দেখতে পাচ্ছি।

 

এতক্ষণে গোলমালটা টের পেলুম। সকালে সূর্যের আলো পড়েছিল। পশ্চিমের পাড়ে। এই পুব পাড়টা ছিল ছায়ায় ঢাকা। তাকালে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল ফাটলগুলো। কিন্তু সূর্য এখন পশ্চিমে রয়েছে। তার উজ্জ্বল কিরণ এসে পড়েছে পুব পাড়ের দেওয়ালে। সোনালি রঙের পাথরে সেই আলো ঠিকরে গিয়ে বিভ্রম সৃষ্টি করেছে। দেওয়ালটা মসৃণ বলেই রোদের প্রতিফলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

 

এবার খুঁটিয়ে প্রতিটি ফাটলের তলার দিকে আমার এঁকে রাখা সেই বর্গমূল চিহ্ন খুঁজতে শুরু করলুম। সাতটা ফাটলের পর যে ফাটলটা দেখলুম, তার তলায় চিহ্নটা দেখা গেল এবং আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলুম,–পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে।

 

প্রথমে ঢুকলুম আমি। তার পিছনে কর্নেল নীলাদ্রি সরকার। তার পিছনে ডঃ করিম। শেষে কর্নেল কামাল খাঁ।

 

কর্নেল টর্চ জ্বেলে আমার কাঁধের ওপর ধরে রেখেছেন। গোলকধাঁধার পথ এটা। বাঁকে বাঁকে নটা সরু ফাটল দেখে গেছি। সেগুলো এড়িয়ে হামাগুড়ি দিতে দিতে গুহার মুখে পৌঁছনো গেল।

 

ভেতরে সকালের মতো আলো নেই। যদিও ফাটল দিয়ে ওপরের আলো টের পাওয়া যাচ্ছে। কারণ সকালে সূর্য ছিল ওদিকেই। সোজা আলো এসে ঢুকছিল। এখন সূর্য পশ্চিমে চলে গেছে।

 

বেদিতে পিদিম জ্বলছে না। দেখে কেমন খারাপ লাগল। ফকির সাহেবের কম্বলটা ভাজ করে রাখা আছে। ওঁর ঝোলাটাও আছে। কর্নেল কামাল খাও দুটো নিলেন। ডঃ করিম টর্চের আলোয় লিপিগুলো পরীক্ষা করে বললেন,–এই তা হলে সেই গুপ্তধন!

 

কর্নেল সরকার বললেন,–বেদিটা ভাঙা উচিত নয়। সেটা একটা জঘন্য অপরাধই হবে। বরং পরীক্ষা করে দেখা যাক আগে।

 

কর্নেল কামাল খাঁ বললেন, আমার কাছে ট্রেঞ্চ খোঁড়ার ছোট্ট গাইতি আছে। দরকার হবে বলে এনেছি।

 

–দেখছি। বলে কর্নেল সরকার বেদির চারদিক খুঁচিয়ে দেখতে থাকলেন। তারপর ওপাশে গিয়ে দুহাতে সিন্দুকের ডালা খোলার মতো হ্যাঁচকা টান দিলেন। বেদির ওপরটা নড়ে উঠল।

 

ডঃ করিম বললেন,–এ কী! এ যে দেখছি একটা পাথরের সিন্দুক!

 

সবাই মিলে হাত লাগিয়ে পাথরের ডালাটা সরানো হল। ভেতরে আলো ফেলতে দেখা গেল, কোণার দিকে দুটো বাঁকা ধূসর রঙের আট-ন-ইঞ্চি মাপের চ্যাপ্টা কী জিনিস ছাড়া আর কিছু নেই।

 

কর্নেল হাত বাড়িয়ে তুলতে গিয়ে বললেন,–ওঁড়ো হয়ে ভেঙে যাচ্ছে। ওঠানো যাবে না!

 

বললুম,–কী ও দুটো?

 

সম্ভবত ঘোড়ার চোয়াল। প্রিয় ঘোড়ার মৃত্যু হলে প্রাগৈতিহাসিক যুগে তার দুটো চোয়াল যত্ন করে রাখা হত।

 

ডঃ করিম বললেন, তা হলে রাজা হেহয়ের ঘোড়ার চোয়াল!

 

–তা ছাড়া আর কী। … বলে কর্নেল হাত বাড়িয়ে কী একটা তুলে নিলেন। চোখের সামনে নাড়াচাড়া করে দেখে বললেন,–একটা ব্রোঞ্জের চাকতি। পরিষ্কার করে দেখতে হবে এই সীলমোহরটা কার।

 

কর্নেল কামাল খাঁ বললেন, তা হলে গুপ্তধন নেই?

 

–সেই তো দেখছি। মনে হচ্ছে, কে কবে হাতিয়ে নিয়ে গেছে। কর্নেল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন। কতকাল আগে নিয়ে গেছে, কে বলতে পারে! হয়তো দুহাজার বছর আগে–কিংবা তারও আগে! ভাই কামাল সায়েব! সব গুপ্তধনই এখন তাই নিছক কিংবদন্তিতে পরিণত।

 

আমরা গুহার মধ্যে হতবাক হয়ে বসে রইলুম। একটু পরে স্তব্ধতা ভেঙে ডঃ করিম বললেন, –গুপ্তধন কী ছিল, জানি না। কিন্তু এ একটা বড় আবিষ্কার নয় কি কর্নেল সরকার? ব্রহ্মবৰ্তরাজ হেহয়ের বাকি ইতিহাসটুকু পেয়ে গেলুম। এই পাথরের সিন্দুকই বিশ্বের পুরাতত্ত্বের ইতিহাসে সেরা একটি সম্পদ। আসলে এটাই একটা গুপ্তধন। দেশবিদেশে হিড়িক পড়ে যাবে। বিশেষ করে আপনাদের ভারতীয় পণ্ডিতরা এসেছেন। এই বিস্ময়কর আবিষ্কার দেখতে তাদের আমন্ত্রণ জানাব। ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায় এবার আলোকিত হয়ে উঠবে। ….

 

হঠাৎ আমাদের পিছনে থেকে কে জোরালো টর্চের আলো ফেলল। চোখ ধাঁধিয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে। সে চিৎকার করে বলল,–একটু নড়লেই গুলি করব। যে যেভাবে আছ চুপ করে বসে থাকো। আর টর্চ নেভাও।

 

ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা হতচকিত। আমাদের টর্চগুলো নিভে গেল।

 

তারপর কর্নেল একটু হেসে বললেন,–ডঃ আলুওয়ালা! শুনে দুঃখিত হবেন যে গুপ্তধনের সিন্দুকটা একেবারে খালি। স্বচক্ষেই দেখুন। রাজা হেহয়ের ঘোড়ার চোয়াল দুটো ছাড়া আর কিছু নেই।

 

মিথ্যা কথা! তোমরা গুপ্তধন বাগিয়ে লুকিয়ে ফেলেছ!

 

–না ডঃ আলুওয়ালা! আমরা …

 

–চুপ! এখনও বলছি, গুপ্তধন বের করো। নয়তো গুলি করে মারব।

 

–গুপ্তধন যদি সত্যি আমরা বাগিয়ে থাকি এবং আপনাকে তা দিই, তাহলেও তো আপনি আমাদের খুন করবেন ডঃ আলুওয়ালা! কারণ, আমাদের বাঁচিয়ে রাখলে আপনিই বিপদে পড়বেন।

 

শুনে আমার আত্মা খাঁচাছাড়া হবার উপক্রম। অথচ কর্নেল কী ঠাণ্ডা গলায় নির্বিকার মুখে কথা বললেন।

 

ডঃ আলুওয়ালা জোরালো আলোর পিছনে রয়েছেন বলে ওঁকে দেখতে পাচ্ছি না। এবার হা হা করে হেসে বললেন,–ঠিকই বুঝেছ! তা হলে রেডি। …

 

হঠাৎ ওঁর পিছনে কাল রাতে শোনা সেই বিদঘুঁটে হাসি অথবা ঘোড়ার ডাক শোনা গেল–হিঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ!

 

তারপর কী একটা ঘটল। ডঃ আলুওয়ালার টর্চ ছিটকে পড়ল। হাতের রিভলভার থেকে গুহার। মধ্যে কান ফাটানো আওয়াজে গুলি বেরুল। কয়েক মুহূর্ত অন্ধকারে ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা গেল। গুহার ভেতর ততক্ষণ উগ্র দুর্গন্ধে ভরে গেছে।

 

তারপর আমাদের টর্চগুলো জ্বলে উঠল। সেই আলোয় যা দেখলুম, গায়ের রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেল। একটা কালো চামচিকের মতো মানুষ জাতীয় প্রাণী ডঃ আলুওয়ালার বুকের ওপর বসে দুহাতে গলা টিপে ধরেছে। ডঃ আলুওয়ালার জিভ বেরিয়ে গেছে।

 

কর্নেল কামাল খাঁ দুহাতের দুটো রিভলভারেরই ঘোড়া টিপে দিলেন। প্রাণীটা একটা বিদঘুঁটে আর্তনাদ করে ছিটকে পড়ল। তারপর কাঁপতে কাঁপতে স্থির হয়ে গেল।

 

আমরা হামাগুড়ি দিয়ে গেলুম। ডঃ আলুওয়ালাকে পরীক্ষা করে কর্নেল হতাশভাবে বললেন,–বেচারি মারা পড়েছেন। অতি লোভের পরিণাম!

 

প্রাণীটাকে কর্নেল কামাল খাঁ ও ডঃ করিম পরীক্ষা করেছিলেন। কর্নেল সরকার একটু ঝুঁকে দেখে নিয়ে বললেন,–এ কী! এ যে মানুষ! …

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *