বুদ্ধদেব গুহ

দুঃসময় – বুদ্ধদেব গুহ

রাত তখন সাড়ে এগারোটা। ফোনটা বেজে উঠল। রিসিভারটা তুলে বললাম, বলছি।   অনিমেষ বলছিস?   শুভ্রর গলা। শুনেই বুঝেছিলাম। ওরা টাঙাইলের বাঙাল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গীয় উচ্চারণেই শুধু নয়, একেবারে ঠাকুরবাড়ির উচ্চারণে কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু উচ্চারণটা অস্পষ্ট। শুনলেই বোঝা যায়…

Read Moreদুঃসময় – বুদ্ধদেব গুহ

দূরবীনের দুদিক – বুদ্ধদেব গুহ

মেঘের এইমাত্র ঘুম ভাঙল।   সারা রাত টাপুর-টুপুর করে রানিগঞ্জ টাইলের ছাদের উপর বৃষ্টি নরম সুরে আলতো পায়ে নেচেছিল। মাটির সোঁদা গন্ধ ভাসছিল হাওয়ায়। দূরের বস্তিতে কোনো ওঁরাও মেয়ের বিয়ে ছিল বুঝি কাল রাতে। দ্রিদিম-দ্রিম-দ্রিমিমি-দ্রিমের ঘুমপাড়ানি একঘেয়ে বিষণ্ণ শব্দ ভেসে…

Read Moreদূরবীনের দুদিক – বুদ্ধদেব গুহ

দ্বীপান্তর – বুদ্ধদেব গুহ

একটু আগে ঝড় উঠেছিল। ভীষণ ঝড়। এত বড়ো বড়ো ঢেউ উঠছিল এই পুরোনো সদাই ঝড় ওঠা সমুদ্রে যে ভয় হয়েছিল এবারে দ্বীপটা ভেসেই গেল বুঝি। যাবেও হয়তো কোনোদিন। কিন্তু এখনও যায়নি।   স্যান্ডপাইপার পাখির বাচ্চাটা পাহাড়ের নীচের ঝোপটার ভিতর থেকে…

Read Moreদ্বীপান্তর – বুদ্ধদেব গুহ

ধোঁকার ডালনা – বুদ্ধদেব গুহ

ড্রাইভার শিউশরণ গাড়ি আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারাজে পার্ক করে এসে বলল, কাল কিতনা বাজি আয়েগা মেমসাব?   স্মিতা একটু ঝাঁঝালো গলাতে বলল, পুছনেকা ক্যা হ্যায়? রোজ সুবেব যিতনা বাজি আতা হ্যায় ওহি টাইমমে আও।   জি হাঁ।   বিরক্তির সঙ্গে বলে, ফ্ল্যাটের…

Read Moreধোঁকার ডালনা – বুদ্ধদেব গুহ

নবীন মুহুরি – বুদ্ধদেব গুহ

সামনে খেরোর খাতাটা খোলা ছিল। খতিয়ান। জাবদা থেকে পোস্টিং দেখছিলেন নবীন মুহুরি। রেওয়া মিলছে না।   বেলা যায় যায়। পাটগুদামের পাশের প্রেসিং মেশিনে পাটের বেল বাঁধাই হচ্ছিল। তার একটানা শব্দ ভেসে আসছিল। বয়েল গাড়ির ছেড়ে-দেওয়া বলদেরা পট পট করে ঘাস…

Read Moreনবীন মুহুরি – বুদ্ধদেব গুহ

বাবা হওয়া – বুদ্ধদেব গুহ

ডাকবাংলোটা থেকে নদীটা দেখা যাচ্ছিল।   সামনে একটা খোয়ার পথ এঁকেবেঁকে চলে গেছে। পথের দু-পাশে সারি করে লাগানো আকাশমণি গাছ। মার্চের প্রথম অগ্নিশিখার মতো ফুটেছে ফুলগুলো। আকাশপানে মুখ তুলে আছে। বাংলোর হাতায় পনসাটিয়ার ঝাড়। লাল পাতিয়া বলে মালি। পাতাগুলোর লালে…

Read Moreবাবা হওয়া – বুদ্ধদেব গুহ