বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

জালিয়াত (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

১   হায়, পল্লীর দুলালী, সে আজ কলিকাতার বধূ! বোধ হয় ভাবে—   হায় রে রাজধানী পাষাণ-কায়া। বিরাট মুঠিতলে চাপিতে দৃঢ়বলে, ব্যাকুল বালিকারে নাহিকো মায়া।   প্রাণ তাহার কাঁদে–   কোথা সে খোলা মাঠ উদার পথঘাট পাখির গান কই, বনের…

Read Moreজালিয়াত (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

কলতলার কাব্য (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

বেশ জুতসই আহারের পর ওদের বুঝাইবার চেষ্টা করিতেছিলাম যে, আমাদের রাজনৈতিক অবস্থাটা নিতান্তই শোচনীয়। নথ-সঞ্চালনে বিরক্তি প্রকাশ করিয়া ওরা বলিল, হ্যাঁ, তোমাদের আবদার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে; গাঁটের পয়সা খরচ করে সরকার বাহাদুর রাস্তায় রাস্তায় জলের কল পর্যন্ত করে দিলে,…

Read Moreকলতলার কাব্য (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

ষড়-রত্ন (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

চড়াইডাঙার নয়-আনা তরফের মালিক গদাধর পাল চৌধুরীর সম্বন্ধে লোকে যখন একান্তে কথাবার্তা কয়, তখন তাঁহার নামটা বিকৃত করিয়া তাঁহাকে ‘পালের গোদা’ বলিয়া থাকে; কারণ একে তো পাল চৌধুরীর সব শরিকানরাই দারুণ উৎপীড়নের জন্য অপযশস্বী, তাহার উপর ইনি আবার সকলের উপর…

Read Moreষড়-রত্ন (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

রংলাল (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

অনেক কাঠ-খড় পোড়াইয়া সুদূর মিথিলায় একটি চাকুরি জুটিল। মনিব একজন কুঠিয়াল সাহেব।   ভাবিলাম, না, এ ধুতি-চাদরের কর্ম নয়, হ্যাট-কোট সিগারেট-চুরুটে জায়গাটাতে প্রথম হইতে জাঁকিয়া বসিতে হইবে, ওদিকে এখনও এসবের কদর আছে শোনা যায়। স্ত্রী সুটকেসে একজোড়া ধুতি দিতেছিলেন, প্রবলভাবে…

Read Moreরংলাল (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

পূর্ণ চাঁদের নষ্টামি (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

পূর্ণিমা-রাত্রি। আকাশের মহাপ্রাঙ্গণ থেকে পৃথিবীর রন্ধ্র পর্যন্ত জ্যোৎস্না যেন আর ধরে না। সামনে প্রশস্ত গঙ্গা, কূলের শেষ সীমা পর্যন্ত জোয়ারের জল ঠেলিয়া উঠিতেছে, আর একটানা সজোর দক্ষিণা হাওয়ায় তাহার উপর বড় বড় ঢেউয়ের সারি জাগাইয়া তুলিয়াছে। পাশের খোলা জায়গাটায় কোথায়…

Read Moreপূর্ণ চাঁদের নষ্টামি (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

মধুলিড় (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

আমার নূতন প্রতিবেশী গৌরীকান্তবাবু নেহাত সাদামাটা চালের লোক। বিকালের দিকের নির্দিষ্ট নিমতলাটিতে রোজ আমাদের একবার করিয়া দেখা হয়, আমি সে সময় খেলিতে বাহির হই আর তিনি ফেরেন আপিস হইতে। সেই রেলির বাঁশের বাঁটের ভারি ছাতা, উপরে আবার সাদা কাপড় বসানো;…

Read Moreমধুলিড় (রাণুর তৃতীয় ভাগ) – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়