বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিশাপ (ভয় সমগ্র) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

—’এই সেই প্রতাপনারায়ণ চৌধুরির বাড়ি।’   আমি সবিস্ময়ে সেই ভগ্নস্তূপের পানে চাহিয়া দেখিলাম। এই সেই প্রতাপনারায়ণ চৌধুরির বাড়ি? সহজে বিশ্বাস করিয়া উঠিতে পারিলাম না। দিনান্তের অস্পষ্ট আলোক যাই যাই করিয়াও আকাশের পশ্চিমপ্রান্তে তখনও অপেক্ষা করিতেছিল। পরিশ্রান্ত বিহগকুলের অবিশ্রাম কূজনধ্বনি রহিয়া…

Read Moreঅভিশাপ (ভয় সমগ্র) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিপদ (গল্প সমগ্র) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাড়ি বসিয়া লিখিতেছিলাম। সকালবেলাটায় কে আসিয়া ডাকিল— জ্যাঠামশাই?.একমনে লিখিতেছিলাম, একটু বিরক্ত হইয়া বলিলাম—কে?   বালিকা-কণ্ঠে কে বলিল—এই আমি, হাজু।   —হাজু? কে হাজু?   বাহিরে আসিলাম। একটি ষোলো-সতরো বছরের মলিন বস্ত্র পরনে মেয়ে একটি ছোটো ছেলে কোলে দাঁড়াইয়া আছে। চিনিলাম…

Read Moreবিপদ (গল্প সমগ্র) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিনন্দনসভা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

এবার দেশে গিয়ে দেখি, গৌর পিয়োন পেনশন নিয়েছে। কতকাল পরে? বহুদিন…বহুদিন।   বায়ুমণ্ডলে যখন প্রজ্বলন্ত উল্কা ছুটে চলে, তখন গোটা ফোটোগ্রাফ প্লেটটা সে এক সেকেন্ডে পার হয়ে যায়। কিন্তু ছ-ঘণ্টা কী সাত ঘণ্টা ঠায় আকাশের দিকে ক্যামেরার মুখ ফিরিয়ে রাখলেও…

Read Moreঅভিনন্দনসভা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

যাচাই – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গোরুরগাড়ি ঢুকল চাঁদপুর গ্রামের মধ্যে। ননীবালা ছেলেকে বললে—বাবা, চেয়ে দ্যাখো   —ঘুমুইনি মা। চেয়ে আছি–   —এই গাঁয়ের সীমানা। ওই গেল দুলেপাড়া—   —ব্রাহ্মণপাড়া কতদূর?   —আরও আগে।   ননীবালার সারা দেহেমনে একটি অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ!   মনে পড়ল আজ…

Read Moreযাচাই – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বুড়ো হাজরা কথা কয় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সকালবেলা পাঁচুদাসী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।   সারাদিন নৌকো বেয়েছে মাঝি, সন্ধ্যায় বনগাঁ ইস্টিশানে এসে পৌঁছায়। কতদূরে যেতে হবে তা সে জানত না। কত জলকচুরির দামের ওপর পানকৌড়ি বসে থাকা, ঝিরঝিরে-হাওয়ায়-দোলা বাঁশবনের তলা দিয়ে দিয়ে নৌকো বেয়ে আসা; জলকচুরির নীল ফুলের…

Read Moreবুড়ো হাজরা কথা কয় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ লেখা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গৃহপ্রাঙ্গণে ভবনশিখী পাখা মেলে নেচে বেড়াচ্ছে অতিমুক্তলতার পাশে পাশে। কাল রাত্রে প্রমোদগৃহে যে জাতিপুষ্পের সুগন্ধি মাল্য ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটা বাতায়ন-বলভিতে প্রলম্বিত। বোধ হয় পরিত্যক্ত। আর সেটির কী দরকার!   অতিমুক্তলতার ফাঁকে ফাঁকে দূরের নীল শৈলশ্রেণির তুষার-মুকুট চোখে পড়ে। মাসটা চৈত্র,…

Read Moreশেষ লেখা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়