অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

বুলুর শেষ লুডোখেলা – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

সিঁড়িতে পা দিতেই অমলেশ টের পেল বিজু এসেছে। বিজুর স্লিপার বারান্দার এক পাশে, ঠিক দরজার মুখে এবং চৌকাঠের বাঁদিক ঘেঁষে থাকে—কারণ এটা স্বভাব বিজুর, সে এলেই তার হলুদ রঙের স্লিপার দরজার বাঁদিক ঘেঁষে রাখবে। অমলেশ দেখল এপাশে বিজুর হলুদ রঙের…

Read Moreবুলুর শেষ লুডোখেলা – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

হা অন্ন (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

সুমার মাঠে লোকটা দাঁড়িয়েছিল। চুল উস্কখুস্ক। গালে কতদিনকার বাসি দড়ি। চোখ কোটরাগত। তবু চোখে আগুন জ্বলে। যেন দাবদাহ, সব পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে ইচ্ছে যায়। পেটে হা অন্ন। জন্ম থেকেই সে হা-অন্নের দাস। পরনে ত্যানাকানি। পাশে রেল-লাইন, গাড়ি যায়। তার…

Read Moreহা অন্ন (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

নদী, নারী, নির্জনতা (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

আজকাল প্রায়ই তাকে কেউ নীল খামে চিঠি দিয়ে যায়। বয়স বাড়ছে। চিঠিটা গোপনে রেখে যায়, গোপনে সে পড়ে —তাতে লেখা নদী, নারী, নির্জনতা মানুষের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। সে সফল মানুষ। ঘর-বাড়ি তার ভারি ছিমছাম। অতিকায় টবে বোগেনভিলিয়া বাড়ছে, বড়…

Read Moreনদী, নারী, নির্জনতা (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

বাতাসী (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

বাতাসী চোখ তুলতেই দেখল, কিছু গাছের জঙ্গল এবং পরে পায়ে-হাঁটা পথ! আশ্বিনমাস বলে গাছের মাথায় ভোরের রোদ চিকচিক করছে। আশ্বিন মাস বলে রাতের শিশির এখন ঘাসে ঘাসে শ্যামা পোকার মত জ্বলছে অথবা ডালে পাতায় স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ ছড়াচ্ছিল। অথবা মনে হল…

Read Moreবাতাসী (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

কাল-ভুজঙ্গ – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

নিশি ফিসফিস করে ডাকল, ‘সোনামণি, অ সোনামণি।’ সোনামণি কোন উত্তর করল না। মানুষটা বারান্দায় বসে সোনামণিকে ডাকছে। সোনামণি উঠোনে কচু সেদ্ধ করছে। দু’ মেয়ে সোনামণির। অঙ্গি, বঙ্গি দুই ছানা-পোনা উনুনের ধারে কচু সেদ্ধ হবার আশায় বসে রয়েছে। উদোম গায়ে বসে…

Read Moreকাল-ভুজঙ্গ – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

যথাযথ মৃত্যু (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

কালটা শীতকাল ছিল এবং সম্ভবত বখের আলী শিরীষ গাছের ঘন অন্ধকারে পুরোনো জীর্ণ রিকশর হাতলে ভর করে স্টেশনের সিঁড়িতে যাত্রী দেখার ইচ্ছায় চোখ কচলাল। স্টেশন অতিক্রম করে রাত দুটোর ট্রেন চলে যাচ্ছে। বখের আলী দেখল, বাবুরা এখন যথাযথভাবে সিঁড়ি ধরে…

Read Moreযথাযথ মৃত্যু (গল্প) – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়