অলক্ষ্মীর গয়না (কিশোর কর্নেল) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সাত
সকালে দেরি করে ঘুম ভেঙেছিল। কিন্তু উঠে দেখি, বৃদ্ধ প্রকৃতিবিদ যথারীতি প্রাতঃভ্রমণে উধাও হয়েছেন। ডাঃ ঢোলের কাছে শুনলুম, শেষরাতে কখন লোহাগড়া থানার দারোগা ভজগোবিন্দবাবু সদলবলে এসেছিলেন। আসামী না পেয়ে খুব খাপ্পা হয়ে বলে গেছেন, সে রাতে অলক্ষ্মীর থানে ডেডবডির নাম করে খামোক হয়রান করা হয়েছে ওঁকে। আজ ফের আসামী ধরার নাম করে হয়রান। উনি দেখে নেবেন কর্নেলকে। দু-দুবার ওঁর ঘুম নষ্ট!
ডাঃ ঢোল বললেন, -চলুন জয়ন্তবাবু! শরীর ম্যাজম্যাজ করছে। কিছুক্ষণ জগিং করে আসি।
দুজনে বেরোলুম। রাজবাড়ির ভেতর উত্তর-পূর্বের ঘাসের মাঠে দেখলুম রাজাবাহাদুর দাঁড়িয়ে আছেন এবং জয়গোপালবাবুর কুকুরদুটো ওঁকে বুড়ি করে খেলছে। রাজাবাহাদুর বাচ্চাছেলের মতো হাসছেন।
ডাঃ ঢোল আঁতকে উঠে বললেন, –সর্বনাশ! আমাকে দেখলেই ব্যাটারা খেপে যাবে। কাল রাতে যা করেছি! শিগগির কেটে পড়ন জয়ন্তবাবু!
ডাঃ ঢোল জগিং অর্থাৎ দৌড়ব্যায়ামের ছলে গুলতির বেগে পুবের ফটক পেরিয়ে গেলেন। অগত্যা আমিও ওঁকে অনুসরণ করলুম।
ডাঃ ঢোল হাঁফাতে-হাঁফাতে বললেন, -ফলো করেনি তো ওরা?
ওঁকে আশ্বস্ত করে বললুম, -না। আমাদের দেখতে পায়নি। নতুন মনিব পেয়েই মশগুল ওরা।
ডাঃ ঢোল হঠাৎ থেমে দাঁড়িয়ে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে। এ বয়সে জগিং খুব কষ্টকর। তাছাড়া…বলে কেমন চোখে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকলেন।
জিগ্যেস করলুম, –কী ডাক্তার ঢোল?
ডাঃ ঢোল চাপাগলায় বললেন, এখানে নাকি এক পিশাচসিদ্ধ তান্ত্রিক সাধুর আড্ডা। সে নাকি মড়া খায়। দেখেছেন ওনার আড্ডাটা?
-দেখেছি। সাধু নয়, নিছক পাগল। আপনার পেশেন্ট আর কী!
কথা বলতে বলতে আমরা অলক্ষ্মীর মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেলুম। জনাই-পাগলার কাহিনি শুনে ডাঃ ঢোল বললেন, –রাঘবকে বলব। আমার কাছে কলকাতায় পাঠিয়ে দেবে ওর দাদাকে। ভালো মেন্টাল হসপিটালে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেব।
ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে হেঁটে অলক্ষ্মীর মন্দিরের চত্বরে পৌঁছে দেখি, অলক্ষ্মীমূর্তির সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসে আছেন ঘুঘুপ্রবর কর্নেল নীলাদ্রি সরকার। তাঁর মাথায় টুপি। পাশে একটা ছোটো প্রজাপতি ধরা জাল। আর জালের মধ্যে রংবেরঙের একটা প্রজাপতি চুপচাপ ঝিমুচ্ছে।
কিন্তু তার চেয়ে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য, কর্নেল একটা প্রকাণ্ড বই পড়ছেন আপন মনে। বুঝলুম না, অলক্ষ্মীর ডেরায় নিশ্চিন্তে বসে এমন বই পড়ার খেয়াল কেন মাথায় চাপল!
ডাঃ ঢোল মূর্তিটা ভয়েভয়ে দেখে বললেন, -প্রণাম করা কি উচিত হবে? অলক্ষ্মীকে কি প্রণাম করব জয়ন্তবাবু?
কর্নেল চোখ তুলে একটু হেসে বললেন, –ভক্তি হলে করুন ডাক্তার ঢোল।
ডাঃ ঢোল বাঁকা মুখে বললেন, -না মশাই! ভক্তি জাগছে না। কী সাংঘাতিক চোহারা! যেন গলা টিপে মারতে আসছে।
চত্বরে উঠে বললুম, -হ্যালো ওল্ডম্যান! এখানে এসে বই পড়ার মানেটা কী?
কর্নেল বললেন, -লোহাগড়া রাজবংশের কুলকারিকা–সেই বইটা জয়ন্ত। যত পড়ছি, রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। এ বংশের সবাই কেমন যেন বাতিকগ্রস্ত। বর্তমান রাজাবাহাদুরের ঠাকুরদা ছিলেন প্রসিতেন্দ্রনারায়ণ। তার বাতিক অসামান্য। তিনি নিজেকে এই কলিযুগে ভগবানের অবতার বলে প্রচার করতেন। অর্থাৎ তিনিই নাকি কল্কি অবতার। সাদা পোশাক পরতেন। সাদা ঘোড়ায় চেপে বেড়াতেন। তার বাবা হরষিতেন্দ্র তার মতিগতি দেখে শেষে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তখন প্ৰসিতেন্দ্র এখানেই লোহানদীর তীরে একটা আশ্রম তৈরি করেন। আশ্রমের নাম দেন কল্কিসমাজ। তবে ভক্ত বিশেষ জোটেনি–শুধু প্রফেসর তানাচার ঠাকুরদা ব্রজনাথ ছাড়া। তাও ব্রজনাথ রাতবিরেতে লুকিয়ে কল্কি অবতারকে প্রণাম করতে আসতেন।
ব্রজনাথ তো নায়েব ছিলেন। তিনিই অলক্ষ্মীর গয়নার সন্ধান পেয়েছিলেন। তাই না?
–হ্যাঁ। কিন্তু সেই আশ্রমটা কোথায় ছিল কে জানে? নদীর ধারে তো তেমন কোনও চিহ্ন দেখছি না।
এই সময় পুবের ফটক দিয়ে রাজাবাহাদুরকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। সঙ্গে সেই কুকুরদুটো। ডাঃ ঢোল এতক্ষণ চত্বরের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার তড়াক করে এক লাফে চত্বরে উঠে অলক্ষ্মীর সিংহাসনের আড়ালে চলে গেলেন। কর্নেল উঠে দাঁড়িয়ে ডাকলেন, রাজাবাহাদুর! রাজাবাহাদুর!
রাজাবাহাদুর ওখান থেকে হাত নেড়ে বললেন, -যাব না।
কর্নেল একটু হেসে চত্বর থেকে নামলেন। বইটা বগলদাবা করে প্রজাপতিধরা জালটা কাঁধে নিয়ে পা বাড়ালেন। আমি ওঁর সঙ্গে চললুম। কিন্তু ডাঃ ঢোল চোখের ইশারায় জানালেন, যাবেন না।
কাছে গেলে রাজাবাহাদুর বললেন, –ওই অলুক্ষণে জায়গায় আমি মশাই যাই-টাইনে। নদীর ধারে আসাই ছেড়েছি কতকাল। এখন জয়গোপালের কুকুরদুটোর সাহসে এলুম।
কুকুরদুটো ওঁর দু-পাশে দু-ঠ্যাঙে বসে আছে। কর্নেল বললেন, -এরা আপনার বশ মেনেছে। দেখছি।
মানবে না? ওদের বুদ্ধি নেই? এতদিন এরা কার পয়সায় খেয়েছে? আর জয়গোপাল তো আমারই পয়সায় এদের কিনা এনেছিল। বুঝলেন ব্যাপারটা? আমারই পয়সায়–অথচ আমাকেই ভূতের ভয় দেখাত হতচ্ছাড়া। -রাজাবাহাদুর ছড়ি তুলে শাসালেন, পালিয়ে যাবে কোথায়? একবার পেলে হাড় ভেঙে দেব মারের চোটে। তারপর ভজু-দারোগার কাছে চালান করে দেব। বুঝবে ঠেলা।
কর্নেল এদিক-ওদিক তাকাতে-তাকাতে বললেন, -আচ্ছা রাজাবাহাদুর, এখানে আপনার ঠাকুরদার আশ্রমটা কোথায় ছিল জানেন?
রাজাবাহাদুর ভুরু কুঁচকে বললেন, -কল্কি সমাজের কথা বলছেন কি?
–ঠিক তাই।
খিকখিক করে হেসে রাজাবাহাদুর বললেন, -ঠাকুরদা ছিল ষোলোআনা পাগল। ওই যে নদীর ভাঙনটা দেখছেন, আগের বছর বর্ষায় ওটা ধসে গেছে। প্রায় এক একর জায়গা খেয়ে নদী এত কাছে সরে এসেছে। আশ্রম-টাম তলিয়ে গেছে কোথায়।
–হুঁ। আচ্ছা রাজাবাহাদুর, আশ্রমে কি পামগাছ ছিল?
–ছিল। গেটের দুধারে ছিল দুটো। ভেতরেও কয়েকটা ছিল। বিরাট-বিরাট সব পামগাছ।
–কোনও পামগাছের মাথায় বাজ পড়েছিল কি?
রাজাবাহাদুর অবাক চোখে তাকালেন। তারপর একটু হেসে বললেন, আপনি কি আমার ঠাকুরদার আমলে এসেছিলেন লোহাগড়ায়? তখন তো আপনি দুগ্ধপোষ্য বালক মশাই!
কর্নেল বললেন, –ঠিকই বলেছেন রাজাবাহাদুর।
-তাহলে কেমন করে জানলেন কোনও পামগাছের মাথায় বাজ পড়েছিল নাকি?
–আমার অনুমান।
আপনার ধুরন্ধর গোয়েন্দাগিরির কথা ঢের শুনেছি। এবারও দেখলুম। কিন্তু আপনি দেখছি, দিব্যদ্রষ্টা কর্নেল! অ্যাঁ!–রাজাবাহাদুর বেজায় হাসতে থাকলেন।
-বাজপোড়া পাম ছিল তাহলে?
-হঁ। ছিল একটা। সেটা একেবারে ভেতরে। আশ্রমের একতলা দালানের উত্তর-পশ্চিম কোনায়। সেটা ছিল সবচেয়ে লম্বা পামগাছ। ঠাকুরদার সঙ্গে এক সায়েবের খাতির ছিল। তিনি মেক্সিকোর মরুভূমি থেকে আনিয়ে দিয়েছিলেন পামগাছের কয়েকটা চারা।
–তাহলে আর অলক্ষ্মীর গয়না উদ্ধারের আশা নেই। নদীতে তলিয়ে গেছে।
রাজাবাহাদুর চমকে উঠেছিলেন কর্নেলের কথা শুনে। আমিও রাজাবাহাদুর বললেন, –তার মানে?
কর্নেল হাসলেন। –অলক্ষ্মীর হিরের গয়না সেই বাজপড়া পোড়া পামগাছের নিচে পোঁতা ছিল।
-কী করে বুঝলেন?
–কবচের ভেতরকার কাগজে লেখা ছড়াটা থেকে।
বলেন কী!–রাজাবাহাদুর ফ্যালফ্যাল করে তাকালেন।
এইসময় পেছনের এক ঝোপ থেকে প্রফেসর তানাচাকে বাঘের মতো বেরুতে দেখলুম সম্ভবত ভদ্রলোক ওখানে জংলি আফিমগাছ থেকে আফিং সংগ্রহ করছিলেন। এবং ওত পেতে আমাদের কথাবার্তাও শুনছিলেন। সটান এসে আর্তনাদের ভঙ্গিতে বললেন, –অলক্ষ্মীর গয়না নদীতে তলিয়ে গেছে? হায়, হায়! আমিও ঠিক এই কথাটা ভেবেছিলুম গো!
রাজাবাহাদুর ছড়ি তুলে বললেন, -চোপ! কুকুর লেলিয়ে দেব। মড়াকান্না শুরু করলে হতচ্ছাড়া আফিংখোর! প্রফেসর তানাচা ভড়কে দু-পা পিছিয়ে গেলেন তক্ষুনি।
কর্নেল বললেন, –ছড়াটাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে :
কবে যাবি যে সেই সমাজে
ছাড় কুইচ্ছে পোড়া পাম রে।
….এবার লক্ষ করুন কথাগুলো। গদ্য করে বললে দাঁড়ায় : সেই সমাজে কবে যাবি রে? কোন সমাজে? না-কল্কি সমাজে। তার মানে আশ্রমে। তারপর বলা হয়েছে : ছাড় কুইচ্ছে। অর্থাৎ এই ইচ্ছাটা কু। কারণ অলক্ষ্মীর গয়না নেওয়ার ইচ্ছে খারাপ ইচ্ছে। অতএব এ ইচ্ছে না করাই ভালো। এবার দেখুন, কাগজে পোড়া পাম রে কথাটায় পাম এবং রে আলাদা করে লেখা। কোন পাম। অর্থাৎ পাম গাছ? না-পোড়া পামগাছ। বোঝা যাচ্ছে, পোড়া পামগাছই লুকিয়ে রাখা গয়নার ডেরা।
প্রফেসর তানাচা কপাল চাপড়ে বললেন, আমি জানতুম, ওটা নিছক তাসের ম্যাজিক নয়-ওর মধ্যেই মজা আছে। অথচ একটুও আঁচ করতে পারিনি। পামগাছটায় বাজ পড়েনি-আমার কপালেই বাজ পড়েছিল! হায়-হায়! অমন দামি জিনিসটা! পেলে কোটিপতি হতুম গো!
রাজাবাহাদুর তেড়ে গেলেন। –কোটিপতি হতে, না আফিংপতি হতে! আফিংয়ের পাহাড় কিনে ফেলতে। তার চেয়ে এ বেশ হয়েছে।
মনের দুঃখে প্রফেসর তানাচা ফটক দিয়ে রাজবাড়ি এলাকায় চলে গেলেন। বুঝলুম, বেচারা বেজায় ভেঙে পড়েছেন।
কুকুরদুটো কিছুক্ষণ থেকে উসখুস করছিল। এতক্ষণে হঠাৎ বোট-হাউসের দিকে দৌডুল। রাজাবাহাদুর ছড়ি তুলে তাদের ডাকতে-ডাকতে সেদিকে গেলেন। তারপর দেখি, জনাই-পাগলা বোট-হাউস থেকে বেরিয়ে ঝপাং করে নদীতে গিয়ে পড়ল। তারপর সে আঁকুপাঁকু করে সাঁতার কাটতে-কাটতে ওপারে উঠল এবং এদিকে হাত নেড়ে তিড়িংবিড়িং করে নাচতে-নাচতে গালমন্দ করতে থাকল। এপারে বোট-হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে রাজাবাহাদুর পালটা ছড়ি নাচিয়ে তাকে শাসাচ্ছিলেন।
কুকুরদুটো বোট-হাউসে ঢুকে পড়েছে। কর্নেল ভুরু কুঁচকে ব্যাপারটা দেখছিলেন। বললেন, –এসো তো দেখি জয়ন্ত! কুকুরদুটো ওখানে ঢুকে কী করছে।
বোট-হাউসের সামনে গিয়ে উঁকি দিয়েই থমকে দাঁড়ালুম। ভাঙাচোরা বোটের খোঁদলে জয়গোপালবাবু আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। কুকুরদুটো তাকে শুঁকছে।
রাজাবাহাদুরও এদিকে ঘুরে দৃশ্যটা দেখতে পেয়ে বললেন, -এ কী! জয়গোপাল যে?,
কর্নেল ওঁর বাঁধন খুলে দিলেন। জয়গোপালবাবুর চেহারা এখন অন্যরকম। চোখমুখ ফুলো-ফুলো। প্যান্ট জামা ফর্দাফাই। কর্নেল বললেন, -ব্যাপার কী জয়গোপালবাবু? রাতে রাজবাড়ি থেকে পালিয়ে নিশ্চয়ই জনাই-পাগলার পাল্লায় পড়েছিলেন?
জয়গোপালবাবু গলার ভেতর বললেন, -হ্যাঁ!
রাজাবাহাদুর চোখ পিটপিট করে বললেন, -তোমার অবস্থা দেখে আমার বড়ো কষ্ট হচ্ছে। জয়গোপাল! তোমাকে অ্যাট্টুকুন থেকে মানুষ করেছি নিজের ছেলের মতো। আমার ছেলেপুলে নেই। ভেবেছিলুম, যা আছে সব তোমার নামে উইল করে দেব। আর তুমি কিনা অলক্ষ্মীর গয়নার লোভে আমার পেছনে ভূত লেলিয়ে দিলে?
জয়গোপালবাবু উঠে এসে রাজাবাহাদুরের পাদুটো জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে বললেন, -খুব শিক্ষা হয়ে গেছে। আমায় আপনি ক্ষমা করে দেন। আর কখনও এমন কাজ করব না।
রাজাবাহাদুর চোখ মুখে বললেন, দিলুম। ওঠো। ঘরে চলো। আহা, সারারাত কী কষ্ট গেছে তোমার! জয়গোপালবাবুর কাঁধে হাত রেখে পা বাড়িয়ে ফের বললেন, –আর কখনও ছুরিটুরি ছুঁয়ো না। আমাদের অস্ত্রাগারের ওই ছুরিটা খুব অলুক্ষুণে। আমারই ওটা হাতে নিলে মনে হতো। খুনখারাপি করে ফেলি। তা হ্যাঁ রে গোপাল, জনাই-পাগলা খুব মেরেছে বুঝি?
জয়গোপালবাবু কচিখোকার মতো বললেন, -হ্যাঁ। হঠাৎ পাথর মেরেছিল। আর যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছি, ব্যাটা আমাকে ধরে ফেলেছে। বোট-হাউসে চ্যাংদোলা করে নিয়ে গিয়ে পুরোনো দড়িগুলো দিয়ে বেঁধে…
রাজাবাহাদুর বললেন, -চুপ। আর কথা বলে না।
ফটকে ঢোকার মুখে ডাঃ ঢোলকে খুঁজলুম। দেখি, অলক্ষ্মীর চত্বর থেকে হাত নেড়ে ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা জনাইকে ক্রমাগত ডাকছেন। বুঝলুম, সাইকিয়াট্রিস্ট ডাক্তার একজন সত্যিকার পেশেন্টের দেখা পেয়ে গেছেন–তাকে হাতছাড়া করতে চান না। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কলকাতা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার মতলব জেগেছে মাথায়।…
